‘আ.লীগ ক্ষমতায় থাকলে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ থাকবে’

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৪ মে ২০১৮, ০০:৪৭ | প্রকাশিত : ০৪ মে ২০১৮, ০০:৩০

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আরিফুর রহমান দোলন। বলেছেন, আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারই সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ময়না ইউনিয়নের বিলসরাইল রাধাগোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম মহানাম যজ্ঞানুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বিলসরাইল রাধাগোবিন্দ মন্দিরের সভাপতি কৃষ্ণ পদ পাল।

সমবেতদের উদ্দেশ্যে তরুণ এ নেতা বলেন, ‘আমি আপনাদেরই এলাকার সন্তান। আমার প্রপিতামহ কাঞ্চন মুন্সী এক শত বছরের বেশি আগে ভারতবর্ষের কলকাতায় পেশাগত দায়িত্ব দায়িত্ব পালন করতেন। সেই সময় থেকে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সঙ্গে আমাদের পারিবারিক সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। সেই সুবাদে আমরা আপনাদের বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠানের সঙ্গে খুব কাছ থেকে পরিচিত। আপনাদের সঙ্গে ঘরের সম্পর্ক, বাড়ির সম্পর্ক।’

ঢাকাটাইমস ও এ সময় সম্পাদক দোলন বলেন, ‘আমি আরো একটি কথা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই। আজকে সারাদেশে সব ধর্মের মানুষ তাদের আচার অনুষ্ঠান নিশ্চিন্তে, নির্বিঘ্নে পালন করতে পারছেন। কারণ, আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগ ধর্মীয় সহাবস্থানে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতে বিশ্বাস করে। ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার আওয়ামী লীগ এই নীতিতে বিশ্বাস করে। এ কারণে সব জায়গায় শৃঙ্খলার সাথে, নিরাপত্তার সাথে বিভিন্ন ধর্মালম্বীদের অবস্থান করা সম্ভব হচ্ছে। তাদের আচার অনুষ্ঠান করা সম্ভব হচ্ছে।’

বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে দোলন বলেন, ‘আপনারা মনে করে দেখেন, যখন বিএনপি-জামায়াত চক্র রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল তখন কিভাবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় হিন্দু ধর্মালম্বীদের উপর নির্যাতন, নিপীড়ন করেছিল।’

‘তাই ধর্ম পালন করতে গেলেও এমন একজন সরকার দরকার, যে সরকার আপনাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে দিবে। সেই সরকারই হলো আওয়ামী লীগ সরকার।’

‘বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালীন বিভিন্ন মন্দিরে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ হয়েছে, তা আর কোনোদিন যেন হতে না পারে এ ব্যাপারে আমাদের সবাইকে সজাগ সতর্ক থাকতে হবে। তাদের প্রতিরোধ, প্রতিহত করতে হবে’- উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘এ দেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। আমাদের এ অঞ্চল যেন সেই উন্নয়নের সড়কে সম্পৃক্ত হতে পারে। আমাদের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যেন সেই মানের হয়, যিনি আমাদেরকে উন্নয়নের সড়কে যুক্ত করবেন। জনগণের প্রতিনিধি যেন জনগণের প্রকৃত বন্ধু হয়, সেভাবেই যেন তারা আপনাদের সঙ্গে আচার আচরণ করেন, সেদিকেও আপনাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’

নিজেকে জনগণের সেবক হিসেবে দেখতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে আপনাদের সেবক হিসেবে দেখতে চাই। জনগণ হচ্ছেন প্রকৃত মনিব। জনপ্রতিনিধি হলেন তাদের চাকর। জনগণের সেবা করার জন্য সরকার জনপ্রতিনিধিদের নানান সুবিধা ও অর্থকড়ি দিয়ে থাকে। এসব সুবিধা দেয়া হয় জনগণকে সেবা করার জন্য। তাদের যে অর্থকড়ি দেয়া হয়, সেটা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় দেয়া হয়। সরকার তাদের গাড়ি, বাড়ি সব কিছু দেয়।’

রাস্তাঘাটের অবস্থা দেখে দুঃখ প্রকাশ করে দোলন বলেন, এখানে দেখলাম আপনাদের রাস্তা কাচা। অথচ আপনারা শতভাগ নৌকা মার্কায় ভোট দেন। কিন্তু আপনারা বঞ্চিত। রাস্তা কেন পাকা হলো না এই জবাব কে দেবে? প্রশ্ন রাখেন তিনি।

দোলন বলেন, ‘আপনাদের ভোট দিয়ে প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। আপনাদের কি লাগবে, কি প্রয়োজন সেটা শেখ হাসিনার কাছে বলার জন্য তাকে নির্বাচিত করেছেন। এই প্রতিনিধি আপনাদের রাস্তা পাকা করার জন্য, মন্দির মসজিদ উন্নয়নের জন্য, স্কুল-কলেজের উন্নয়নের জন্য সরকারি সুবিধা পান। তারা যদি সেটা না করেন, সেই ব্যর্থতার দায় আমরা নেব না। যদি কোনো প্রতিনিধি ভুল করেন, আমরা প্রয়োজনে সেই প্রতিনিধি পাল্টাব। তবুও আর বঞ্চিত থাকতে চাই না।’ এ সময় উপস্থিত জনতা বিপুল করতালি দিয়ে তার এ বক্তব্যকে স্বাগত জানান।

নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য সোচ্চার হতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে দোলন বলেন, আপনাদের অধিকার আদায়ের জন্য সোচ্চার হন। আপনারা কেন বঞ্চিত থাকবেন। আপনাদের সেবা করার জন্য যিনি নির্বাচিত হবেন, তিনি আরাম করবেন আর আপনারা কষ্ট করবেন- এটা কি মানা যায়?

এ সময় তিনি দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত থাকা স্থানীয় মন্দিরের জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে টাকা দেয়ার ঘোষণা দিয়ে বলেন, মন্দিরের জন্য সরকারের থেকে বরাদ্দ এনে দেয়ারও চেষ্টা করবেন।

‘আজকে আমি কথা দিচ্ছি, আপনাদের উন্নয়নের জন্য, আপনাদের বঞ্চনার কথা আমি শেখ হাসিনার কাছে তুলে ধরব যেভাবেই হোক। আমি আপনাদের এই রাস্তা পাকা করণের উদ্যোগও নেব। কিন্তু আমারও দাবি আছে। আমি যেন আমৃত্যু মানুষের সেবা করতে পারি আপনারা আমাকে সেই আশীর্বাদ করবেন।’

মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি মন্ত্রী ও সরকার সবাই জনগণের জন্য। জনগণের সেবা করার জন্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শেখ হাসিনার কাছে আওয়াজ তুলতে হবে। বলতে হবে, আপনি ক্ষমতায় থাকেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। আপনি যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ছেন, অর্থনৈতিক মুক্তির পথ দেখাচ্ছেন আমরা আপনার মতো সেনা চাই। আমরা কোনো নেতা চাই না।’

‘আমাদের মতো খেটে মানুষের দুঃখ কষ্ট বুঝবে, আমাদের কথা বলবে এমন একজন সংসদ সদস্য আগামীতে চাই।’

‘জনপ্রতিনিধি যতদিন নিজেকে চাকর মনে না করবেন, ততদিন আপনারা কাঙ্খিত সেবা পাবেন না।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর জেলা পারিষদ সদস্য ও জেলা কৃষকলীগের সদস্য সচিব শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদ, বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান মৃধা লিটন, ঘোষপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক মোস্তফা সিদ্দিকী, ঘোষপুর ইউপি সদস্য ইউনুছ মিয়া প্রমুখ।

ঢাকাটাইমস/০৪মে/প্রতিনিধি/ইএস

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজপাট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত