সরকারি ভাতার টাকায় তহবিল করব: দোলন

আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ০৭ মে ২০১৮, ১২:৫১ | প্রকাশিত : ০৫ মে ২০১৮, ০০:৫১

সংসদ সদস্য হতে পারলে সরকারি কোনো ভাতা নিজের ও পরিবারের জন্য ব্যয় না করার পাশাপাশি এই টাকার সঙ্গে ব্যক্তিগত অর্থ মিলিয়ে একটি তহবিল করার ঘোষণা দিয়েছেন ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী আরিফুর রহমান দোলন।

শুক্রবার ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল গ্রামে মৃধাবাড়ি প্রাঙ্গনে উপজেলার আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন দোলন।

এতে সভাপতিত্ব করেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও চতুল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম সরোয়ার মৃধা।

সভার আয়োজন করেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান মৃধা লিটন।

তিনি বলেন, ‘আমি অঙ্গীকার করেছি, সংসদ সদস্য হলে সরকারি অর্থ আমার পরিবারের খরচে ব্যয় করব না। এই অর্থ সাধারণ মানুষের চিকিৎসা এবং শিক্ষার পেছনে ব্যয় হবে।’

‘একটি তহবিল করা হবে। শুধু তাই নয়, আমি ব্যক্তিগতভাবে যা করছি, তার সাথে সরকারি টাকা যোগ করলে বেশ ভালো পরিমাণ হয়। এটা জনগণের জন্য ব্যয় হবে।’

‘সরকারি টাকায় আমার পরিবারের কেউ একটি চকলেটও খাবে না। এই চকলেট খাওয়ার অধিকার হচ্ছে যার পিতা দুই মুঠো ভাত দেয়ার চেষ্টায় রত তার। এই অধিকার সেই দরিদ্র ছাত্রের যারা ফি দিতে পারে না। এই টাকা সেই সব মানুষের যারা চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে পারে না।’

কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি দোলন বলেন, সংসদ সদস্য না হতে পারলেও তিনি সব সময় সুখে দুঃখে জনগণের পাশে থাকবেন। বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, জনগণেরে সেবা করতে হলে নিজেকে চাকর ভাবতে হবে। আমি নিজেকে আপনাদের চাকর ভাবি। আমি এমপি হতে চাই না। আপনাদের সেবক হতে চাই।’

দোলন বলেন, ‘সরকার জনপ্রতিনিধিদেরকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ও অর্থকড়ি দেয়। কোটি টাকার গাড়ি-বাড়ি পান। জাতীয় সংসদের ন্যাম ভবনে ফ্ল্যাট পান। আমাদের ‍দুঃখ দুর্দশার কথা শোনার জন্য তাদের এ সুবিধা দেয়া হয়।’

‘তাদের যাবতীয় খরচ সরকার দেয় আপনাদের টাকা থেকে। এতসব সুবিধা পেয়েও যদি আপনাদের বরাদ্দ আনতে জনপ্রতিনিধির এত কষ্ট হয়, আমরা কেন এমন প্রতিনিধি সংসদে পাঠাব?’

তরুণ এ নেতা বলেন, ‘সরকার চলে জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। জনপ্রতিনিদের খরচ সেখান থেকে দেয়া হয়। আপনার সেবা করার জন্য আপনি টাকা দিচ্ছেন। আপনার সেবা করার জন্য জন্য যিনি অর্থকড়ি ও সুবিধা পাচ্ছেন তার কাছ থেকে কি আপনারা সেবা পাচ্ছেন?’ প্রশ্ন রাখেন দোলন।

কৃষক লীগ নেতা বলেন, “আমি মনে করি জনপ্রতিনিধিরা হচ্ছেন আপনাদের সেবক। আপনাদের চাকর। আপনারা মনিব। ভোটের আগে পোস্টারে ‘সেবা করার সুযোগ দিন’ লেখা থাকে। তারা তখনই নিজেদের চাকর স্বীকৃতি দিচ্ছেন। আর ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরে নিজে মনিব হয়ে যাচ্ছেন। আমরা তো এমন মনিব চাই না।”

‘আমাকে দয়া করে সুযোগ দেন। আপনারাই হচ্ছেন সকল ক্ষমতার মালিক। কিন্তু আপনাদেরকে সেই মূল্যায়ন করা হচ্ছে কি না, সময় এসেছে তার হিসাব নিকাশ করার।’

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কারা পাবেন, সে বিষয়টি নিয়েও কথা বলেন দোলন। বলেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের কাছে যিনি গ্রহণযোগ্য তাকেই মনোনয়ন দেবেন। জনগণকে খেদমত করতে পারে এমন গ্রহণযোগ্য নেতাকে ৩০০ আসনে মনোনয়ন দেবেন।’

কাঞ্চন মুন্সী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দোলন বলেন, ‘আমাদের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। ফরিদপুর-১ আসন আবার শেখ হাসিনাকে দিতে হবে। সেটি যদি করতে হয়, আমরা আর কোনো গ্রেজ দেয়া ছাত্রকে প্রার্থীকে পাস করাতে পারব না। এই আওয়াজ শেখ হাসিনার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কে কত বড় নেতা, অতীতে কার কত বড় পদ ছিল প্রধানমন্ত্রী সেটা দেখবেন না।’

মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানের চোখে দেখার কথাও বলেন কৃষক লীগ নেতা। বলেন, ‘আজকে নয় বছর ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির সরকার যখন ক্ষমতায়, তখন তো আমরা অসম্মানিত হব না-এটিই তো আমাদের চাওয়া হতে পারে।’

‘মুক্তিযোদ্ধারা যদি বঙ্গবন্ধুর ডাকে যুদ্ধে অংশ না নিতেন, তাহলে আমরা এই স্বাধীন ভূখণ্ড পেতাম না। মেম্বার, চেয়ারম্যান, এমপি এসব পদ সৃষ্টি হত না। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ কেউ আমাদের অঞ্চলে অসম্মানিত। তারা প্রাপ্য সম্মান পাচ্ছেন না। এটি বছরের পর বছর চলতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার মতো নেত্রীর সঙ্গে আমরা এমন সংসদ সদস্যও চাই, যিনি আমাদের উন্নয়ন করবেন, যিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান দেবেন, যিনি জনগণকে মনিব মনে করবেন, নিজেকে চাকর মনে করবেন। এটি যদি তারা করতে না পারেন, তাহলে যারা সকল ক্ষমতার উৎস, তারা কেন এই প্রতিনিধি পাল্টাবে না- আপনাদের কাছে এই প্রশ্ন রাখলাম।’

আপনাদের প্রত্যাশ্যা শেখ হাসিনারও কামনা

কৃষক লীগ নেতা বলেন, জনগণ যেমন সোনার বাংলাদেশ চান, কামনা করেন, সারা দেশের উন্নয়নের মহাসড়কে এই অঞ্চলও যুক্ত হবে, সন্তান চাকরি পেতে ঘুষ দিতে হবে না, উন্নয়নের জন্য যে বরাদ্দের ‘নয় ছয়’ হবে না, শেখ হাসিনাও এটি চান।

‘শেখ হাসিনা বৃহত্তর ফরিদপুরের উন্নয়ন সবচেয়ে বেশি চান। না কাঁদলে মা দুধ দেয় না। আমাদের সম্পদ সীমিত। সরকার থেকে যদি পর্যাপ্ত বরাদ্দ নিয়ে আসতে জনপ্রতিনিধির ছুটোছুটি করতে হবে। পরিশ্রম করতে হবে। বিভিন্ন দপ্তরে দৌঁড়াতে হবে। আর জনপ্রতিনিধি যদি বিলাসী জীবন যাপনে ব্যস্ত থাকেন, দুপুর পর্যন্ত ঘুমিয়ে থাকেন, তাহলে আমাদের কি পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ পাওয়া সম্ভব হবে?’

দোলন বলেন, ‘শেখ হাসিনা যেভাবে দেশকে জঙ্গিবাদ মুক্ত রেখেছেন, যেভাবে মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের নেত্রী জিহাদ ঘোষণা করেছেন, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে সারা বিশ্বে উদাহরণ তৈরি করেছেন, সেই নেত্রীর সাফল্য আমরাও চাই।’

‘শেখ হাসিনাও আপনাদের উন্নয়ন চান। কিন্তু এ অঞ্চলের মানুষ নিজেদের অধিকার, নিজেদের প্রাপ্য সম্মান কতটুকু পাচ্ছে তা নিজেকে প্রশ্ন করে দেখুন।’

দোলন বলেন, ‘এই অঞ্চলে আওয়ামী লীগের প্রকৃত নেতা কর্মীরা কতটুকু সম্মান পাচ্ছেন তা নিজেকে প্রশ্ন করে দেখেন।’

‘জনপ্রতিনিধি আপনাদের প্রাপ্য বরাদ্দ ঠিক মতো নিয়ে আসতে পারছেন কি না তা আপনারা নিজেকে নিজে প্রশ্ন করেন।’

এই অঞ্চলকে আরও উন্নত করা সম্ভব ছিল

নয় বছরের বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও এই অঞ্চলের বহু রাস্তাঘাট কাচা থাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নত না হওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন দোলন। বলেন, ‘এটি হওয়ার কথা ছিল না। এই স্বপ্ন আমরা দেখি নাই।’

কৃষক লীগ নেতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সব জায়গায় খবর সমানভাবে রাখা সম্ভব হয় না। এ জন্য আমাদের একজন প্রতিনিধি আছেন। আপনাদের দুঃখ দুর্দশার কথা বলার জন্য যাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। আপনাদের প্রতিনিধি যদি ঠিক মতো দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, এ ব্যর্থতা আপনাদের না।’

‘আমরা চাই আগামী নির্বাচনেও শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসুক। সেই সঙ্গে আমাদের কথা বলতে পারবেন, আমাদের উন্নয়নে কাজ করবেন এমন একজন প্রতিনিধি আমাদের অঞ্চল থেকে চাই। গত নয় বছরে অনেক দেখা হয়েছে। প্রতিনিধিদের পরীক্ষা করার জন্য যথেষ্ট সময়।’

এই অঞ্চলে আরো অনেক উন্নয়ন করা সম্ভব হতো জানিয়ে ফরিদপুর-১ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী এই নেতা বলেন, ‘সারাদেশে উন্নয়নের জন্য এলজিআরডি নামে সবচেয়ে বড় একটি মন্ত্রণালয় আছে। তার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি যেনতেন ইঞ্জিনিয়ার না। জাতিসংঘে এখন পর্যন্ত যতলোক কাজ করেছেন, তাদের সবার চেয়ে বড় পদে সেখানে কাজ করেছেন মোশাররফ হোসেন। তিনি ফরিদপুরের কৃতি সন্তান। ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি তিনি। আমরা কি তার কাছে বারবার যেতে পারি না? কিন্তু যে সমস্ত জনপ্রতিনিধির তার কাছে যাওয়ার কথা, তাদের তো গ্রহণযোগ্যতাও থাকতে হবে।’

‘এলজিআরডি মন্ত্রী আমার আত্মীয়’- এটা উল্লেখ করে দোলন বলেন, ‘কিন্তু আমি তো কারো শক্তিতে বলীয়ান হতে চাই না। আমি জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হতে চাই। আমি তার আত্মীয় হওয়ার কারণে রাজনীতি করতে পারব না এমন তো কোনো কথা নাই। তার আত্মীয় হলেও রাজনীতি করা যাবে। এ অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আমি মনে এটা করাটাই বেশি ভালো। মোশাররফ হোসেনের আত্মীয় হলে তো মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরও আত্মীয়।’

সভায় আরো বক্তব্য দেন, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আব্দুর রহমান বাশার, দাদপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মো. শামিম মোল্যা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মশিউল আলম বাবু, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হিমু মিয়া, ঘোষপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মো. চান মিয়া প্রমুখ।

ঢাকাটাইমস/০৫মে/প্রতিনিধি/ ইএস/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজপাট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত