কোটা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কমিটির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১০ মে ২০১৮, ২২:০৯ | প্রকাশিত : ১০ মে ২০১৮, ১৭:৫৬

সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোজাম্মেল হক খান জানিয়েছেন, এই কমিটির সিদ্ধান্তের পরেই হবে প্রজ্ঞাপন।

কোটা বাতিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করতে আন্দোলনকারী সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সরকারকে আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে সময় বেঁধে দিয়েছিল। দাবি পূরণ না হলে রবিবার থেকে আবার আন্দোলনে নামার ঘোষণা এসেছিল।

গত ৮ থেকে ছাত্রদের তুমুল আন্দোলনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১ এপ্রিল ‘কোনো কোটা থাকবে না’ বলে ঘোষণা দেয়ার পর ছাত্ররা ক্লাসে ফিরে যায়।

এরপর এপ্রিল মাসের মধ্যে প্রজ্ঞাপনের দাবি করে আসছিল ছাত্ররা। সেটি হয়নি, কারণ প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরেননি। আর এপ্রিলের শেষে ছাত্রদের সঙ্গে এক বৈঠকে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক জানান, প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়া সফর থেকে দেশে ফিরলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর ২ মে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী এক প্রশ্নে জানান, কোটা বাতিলের বিষয়ে তিনি যে কথা বলেছেন, সেটা পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই।

তবে ছাত্ররা প্রজ্ঞাপনের জন্য আর অপেক্ষা করতে চাইছে না। ৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক কর্মসূচিতে আজকের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আবার আন্দোলনে নামার হুমকি দেয় তারা।

ছাত্রদের সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন আসেনি। আর বিষয়টি নিয়ে সচিবালয়ে জনপ্রশাসন সচিবের মন্তব্য জানতে চান গণমাধ্যমকর্মীরা। এ সময় তিনি একটি কমিটি গঠনের কথা জানিয়ে বলেন, ‘কোটা থাকবে নাকি সংস্কার হবে কমিটি সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে। এরপরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।’ আজ সে কমিটি গঠনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হলো।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার, বাতিল বা সংরক্ষণের বিষয়ে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে, সেই দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার একটি কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। কমিটি গঠিত হলে এবং সেই কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকার পরবর্তী অবস্থান সবাইকে জানিয়ে দেবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে চার থেকে পাঁচজন সদস্য থাকবেন। প্রস্তাবটি সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান সচিব মোজাম্মেল হক খান।

সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে গত ফেব্রুয়ারি থেকে আন্দোলনে নামে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।

তবে কোটা নিয়ে বাংলাদেশে আন্দোলনের শুরু ৯০ দশকের মাঝামাঝি থেকে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধা কোটার আওতায় আনা হয় তাদের সন্তানদেরকেও। পরে নাতি-নাতনিদেরকেও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়।

১৯৯৭ সালে জামায়াতপন্থীরা মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। তখন ব্যর্থ হলেও নানা সময়ই এই দাবি নিয়ে মাঠে নামে তারা। তবে এবার কোটা আন্দোলনকারীরা কোনো বিশেষ কোটার নাম নেয়নি।

আর গত ৮ এপ্রিল রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের পর দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। পরে নামে সরকারি চাকরিতে অনীহা দেখানো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও।

আর তিন দিনের আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১ এপ্রিল সংসদে কোটা নিয়ে তার অবস্থানের কথা জানান। তিনি জানান, সংস্কার করতে গেলে পরে আবার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন হবে। তাই কোনো কোটারই দরকার নেই।

ঢাকাটাইমস/১০মে/এমএম/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত