‘নতুন মডেলের ছাত্রলীগের’ দেখা মিলবে দুই দিনে

তানিম আহমেদ, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১১ মে ২০১৮, ১১:১০ | প্রকাশিত : ১১ মে ২০১৮, ০৮:৪৫
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনের প্রস্তুতি

ছাত্রলীগের নতুন রূপ দেয়ার যে ঘোষণা এসেছে, তার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ, শেষ হচ্ছে আগামীকাল।

সরকারপন্থী ছাত্র সংগঠনটির ২৯তম জাতীয় সম্মেলনকে ঘিরে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে নানা আলোচনা। কারা আসছে নেতৃত্বে, কীভাবে নির্বাচিত হবেন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, এসব প্রশ্নের জবাব পেতে সংগঠনের পদপ্রত্যাশীরা নানা চেষ্টা করছেন। সেই সঙ্গে নেতৃত্বে আসতে চলছে দেন দরবার।

এর মধ্যে গত ২০ এপ্রিল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, গত কয়েক বছর ধরে নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠার পর এবার নতুন মডেলে কাজ করছেন তারা।

সেই মডেল কী হবে, সেটি পরে স্পষ্ট করেননি ওবায়দুল কাদের। তবে শেখ হাসিনা সংগঠনের নেতাদেরকে জানিয়েছেন, এবার পদ প্রত্যাশীদের বংশ পরম্পরারও খোঁজ খবর নেয়া হয়েছে। বিরুদ্ধ রাজনৈতিক আদর্শের কেউ যেন কমিটিতে না আসতে পারে, সে জন্যই এই উদ্যোগ।

আবার ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচনে বরাবর উঠা সিন্ডিকেটের গুঞ্জনও এবার ভেঙে দিয়েছেন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক নেতা শেখ হাসিনা। জানিয়েছেন, ভোটের আগে সমঝোতা করে কমিটি করার চেষ্টা হবে। না হলে হবে ভোট।

ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, শেখ হাসিনা যেখানে সমঝোতায় গুরুত্ব দিয়েছেন, সেখানে গত তিন বছরের মতো ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচনের সম্ভাবনা কম। আর গত তিনবার ভোট হলেও এর স্বচ্ছতা নিয়ে ছাত্রলীগেই নানা সংশয় ছিল। প্রচার আছে আওয়ামী লীগ নেতাদের কথিত সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণেই ছিল ভোট।

শুক্রবার বিকাল তিনটায় দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন ইউনিটের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন।

সম্মেলন উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিভিন্ন বর্ণের ব্যানার-ফেস্টুন ও আলোকসজ্জ্বা করা হয়েছে। 

প্রথমে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, এরপর শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা। এরপর শোক প্রস্তাব, সাংগঠনিক প্রতিবেদন, শেখ হাসিনার বক্তৃতার পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সংগঠনের অবিভাবক আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে। রেওয়াজ অনুযায়ী এই অধিবেশনে ভোটপর্ব থাকে। দেশের বিভিন্ন ইউনিটের নির্দিষ্ট ভোটাররা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে ভোট দেন।

এ বছর কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা নির্বাচনে ভোট পর্ব না থাকলে প্রথম অধিবেশন শেষে সম্মেলনে দ্বিতীয় দিন কেবল আনুষ্ঠানিকতা থাকবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট কোনও ঘোষণা না আসায় প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সংগঠনটির নেতাকর্মীরা। 

সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি

নেতৃত্বে যারা আসবেন, তাদের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি হয়েছে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগ নেতারা। এই তালিকা নিয়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

পারিবারিক রাজনৈতিক বিশ্বাস, দলীয় আনুগত্যের বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে নানা সূত্রে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা থেকে পাওয়া প্রার্থীদের নিয়ে তথ্যগুলোও সঠিক কি না, তারও যাচাইবাছাই হয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন সংক্ষিপ্ত অধিবেশনের পর কেন্দ্রীয় কমিটির ঘোষণা আসবে। এবার কেন্দ্রীয় কমিটির পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নাম একসঙ্গে ঘোষণা হবে।

নেতৃত্বে কারা আসছেন, এসব বিষয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন। একজন নেতা বলেন, ‘সম্মেলনের আগে এ নিয়ে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ নেই। সংগঠনের কাউন্সিলর এবং অভিভাবক হিসেবে শেখ হাসিনার পছন্দই এ ক্ষেত্রে চূড়ান্ত হবে।’

আলোচনায় অনুপ্রবেশ

এর মধ্যে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ নিয়ে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে। ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের বিভিন্ন ছবি ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গণমাধ্যমে অনেকের নামে প্রতিবেদন হচ্ছে।

সম্মেলনের আগের দিন আওয়ামী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, বর্তমান কমিটিতে অনুপ্রবেশের অভিযোগের সত্যতা নিয়ে তারা খোঁজ নিয়েছেন। তবে এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে তাই এটা নিয়ে আর চিন্তা না করাই ভালো।

তবে নতুন কমিটিতে যেন অনুপ্রবেশ না হয় সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হয়েছে।

‘নেত্রী নিজেও একটা টিমকে দায়িত্ব দিয়েছেন এ বিষয়ে খতিয়ে দেখতে এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে অনুপ্রবেশকারী কেউ যেন নেতৃত্বে স্থান না পায় সে বিষয়ে কঠোর যাচাই বাছাই হচ্ছে। সেজন্য আমরা কাজ করছি।’

ছাত্রলীগে আগামীতে কেমন নেতৃত্ব চান- এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ছাত্রসমাজের অনুভূতির সঙ্গে ছাত্রলীগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে যারা সমন্বয় ঘটাতে পারবে, আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে যারা নেতৃত্ব দেয়ার ক্ষমতা রাখতে পারবে, আমরা ছাত্রলীগে এমন নেতৃত্ব চাই।’

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা চাই প্রধানমন্ত্রী নিজেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগসহ গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে কমিটি ঘোষণা করে দিন।’

আলোচনায় যারা

২৯ তম সম্মেলনে বরিশাল অঞ্চল থেকে আলোচনায় আছেন কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল-নাহিয়ান খান জয়, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রুহুল আমিন, কৃষি শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বরকত হোসেন হাওলাদার, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াদ, আপ্যায়ন বিষয়ক উপসম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান, সহ-সম্পাদক খাদেমুল বাশার জয়, সহ-সম্পাদক সবুর খান কলিন্স, প্রচার বিষয়ক উপ-সম্পাদক সাইফুর রহমান সাইফ, সহ-সম্পাদক আরিফুল ইসলাম সোহাগ।

চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে আলোচনায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আদিত্য নন্দী, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শামীম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ সম্পাদক এইচ এম তাজউদ্দিন, স্কুল ছাত্রবিষয়ক উপ-সম্পাদক সৈয়দ আরাফাত, স্কুল ছাত্রবিষয়ক উপ-সম্পাদক খাজা খায়ের সুজন, সহ-সম্পাদক জায়েদ বিন জলিল, সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহাসান আহমেদ রাসেল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ লিমন, স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান তুষার প্রমুখ।

উত্তরবঙ্গ থেকে আলোচনায় আছেন: দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার শাহাজাদা, কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক রাকিবুল হাসান, আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক হোসাইন সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপ-সম্পাদক আল মামুন ও সহ-সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য, উপ-কৃষি শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসীন হলের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী।

ফরিদপুর অঞ্চল থেকে আলোচনায় আছেন: সহ-সভাপতি আরেফিন সিদ্দিক সুজন, শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসাইন, সমাজসেবা সম্পাদক রানা হামিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি বিদ্যুৎ শাহরিয়ার কবির ও স্যার এ এফ রহমান হলের সভাপতি হাফিজুর রহমান।

গুরুত্বপূর্ণ এই চারটি অঞ্চলের বাইরে সিলেট অঞ্চল থেকে নেতৃত্বে আসতে পারেন: কেন্দ্রীয় গণশিক্ষা সম্পাদক আনিসুল ইসলাম জুয়েল, ঢাবির মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের সভাপতি ইউসুফ উদ্দিন খান, দপ্তর বিষয়ক উপ সম্পাদক এন এ চৌধুরী শাওন।

ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে আলোচনায় রয়েছেন: পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম হাবিবুল্লাহ বিপ্লব, জগন্নাথ হল ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস, সলিমুল্লাহ মুসলিম (এস এম) হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপস।

খুলনা অঞ্চল থেকে আলোচনায় আছেন: গ্রন্থনা ও প্রকাশনা বিষয়ক উপ-সম্পাদক সাগর হোসেন সোহাগ।

এছাড়া ইউনিট পরিচালনার অভিজ্ঞতা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ আহমেদ খান শীর্ষ পদপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় আছেন।

এর বাইরে নারী নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনায় আছেন: সহসভাপতি চৈতালী হালদার চৈতি, কবি সুফিয়া হল ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় অর্থ বিষয়ক উপ-সম্পাদক তিলোত্তমা শিকদার, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-সম্পাদক ইশাত কাসফিয়া ইরা, পরিবেশ বিষয়ক উপ-সম্পাদক শেখ মারুফা নাবিলা ও সহসম্পাদক শিরীন শিলা।

ঢাকাটাইমস/১১মে/টিএ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত