গুলশান পার্ক রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনের নামে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৫ মে ২০১৮, ১৮:০৭ | প্রকাশিত : ১৫ মে ২০১৮, ১৮:০৩

গুলশান-২ এর পার্কটি সাবেক রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহম্মদের নামে করে এর আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পার্কটিকে আমুল পাল্টে ফেলে এতে নাগরিকদের চিত্ত বিনোদনের জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

আধুনিকায়নের পর প্রায় ৯ দশমিক ৫ একর পরিধির পার্কটিতে খেলার জায়গা, বাইসাইকেল লেন, বয়স্ক, শিশু-কিশোর, নারীদের জন্য আলাদা জায়গা, পাঠাগার ও ব্যায়ামাগার থাকবে।

মঙ্গলবার পার্কের আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ওসমান গনি।

এই পার্কে নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে দেখতে পানির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া জন্য থাকবে আলাদা লেন, পানির ওপর ঝুলন্ত ওয়াকওয়ে।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য থাকবে উন্মুক্ত মঞ্চ। খাবার জন্য থাকবে ছোট ক্যান্টিনও। নামাজের জন্য আলাদা স্থানও রাখা  হয়েছে পার্কটিতে।

ক্লান্ত পথিক পার্কটিতে সময় কাটালে মনে প্রশান্তি পাবে বলে আশা করছে সিটি করপোরেশন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তরের প্যানেল মেয়র ওসমান গনি পার্কের রক্ষণাবেক্ষণে নগরবাসীর সহযোগিতা চান।

‘সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একার পক্ষে একটি পার্কের পরিবেশ-পরিচ্ছন্নতা ঠিক রাখা সম্ভব নয়। তাই প্রতিটি নাগরিককে মনে করতে হবে এই সম্পদ আমার। সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই পার্কের প্রতি নজর রাখতে হবে।’

নির্মাণ কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি, ছলচাতুরি না করতে ঠিকাদারদেরকে সতর্ক করেন ওসমান গণি। বলেন, ‘যথাযথ মানের দিকে খেয়াল রেখে সঠিক সময়ে কাজ শেষ করবেন। অন্যথায় আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, ‘আমাদের শহরটি পাকা এক নগরীতে পরিণত হয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পুরো শহর। সবুজ হারাচ্ছি আমরা।’

‘আমাদের সন্তানরা বদ্ধ ঘরে বেড়ে উঠছে ইলেকট্রনিক ডিভাইস হাতে নিয়ে। তাদের জন্য আমাদের আগামীর জন্য সবুজ পার্ক, খেলার মাঠের খুবই প্রয়োজন। এসব দিক মাথায় রেখে সুন্দর করে পার্ক-খেলার মাঠ সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’

কাজ চলাকালে নাগরবাসীকে পার্কটি ব্যবহার না করারও অনুরোধ করেন এই নগর পরিকল্পনাবিদ।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিল মফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজনীতিতে না জড়ালেও শাহাবুদ্দিন আহাম্মদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শ্রদ্ধার আসনে আসীন। তিনি সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের পাশাপাশি ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতিও।

১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন এবং তার অধীনেই ১৯৯১ সালে জাতীয় নির্বাচনের পর গণতন্ত্রে ফেরে বাংলাদেশ। পরে শাহাবুদ্দীন আবার বিচারালয়ে ফিরে যান।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ২০০১ সাল পর্যন্ত এই পদে ছিলেন।

জীবন সায়াহ্নে গুলশানে একটি বাসায় থাকছেন শাহাবুদ্দিন। সম্প্রতি বার্ধক্যজনিত কারণে বিভিন্ন রোগ নিয়ে তিনি হাসপাতালেও ভর্তি হয়েছিলেন।

ঢাকাটাইমস/১৫মে/জিএম/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত