জীবনের নিরাপত্তা চাইলেন কোটা আন্দোলনের নেতারা

ঢাবি প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ মে ২০১৮, ১৫:৫৩

সরকার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতারা। আন্দোলনের বিভিন্ন সময়ে হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তারা এই নিরাপত্তা চান।

প্রাণনাশের হুমকির এমন অভিযোগ আন্দোলনের শুরুর দিক থেকে শোনা গেলেও বুধবার সকালে তা সংবাদ সম্মেলনে জনসম্মুখে আনেন নেতারা।

কোটা আন্দোলনের নেতারা জানান, মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিকে ছাত্রলীগের তিন নেতা এই আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুরুর আবাসিক হল বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ১১৯ নাম্বার কক্ষে উপস্থিত হন এবং তাকে ও আন্দোলনের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খানকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এইসময় তাদের কাছে অস্ত্র ছিল এমন অভিযোগও করেন বাংলাদেশ সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ও তিনজন যুগ্ম আহ্বায়ক। 

তাদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের সদ্যবিদায়ী কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পী, মুহসীন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সানী, চারুকলা অনুষদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফাহিম ইসলাম লিমন এবং ছাত্রলীগ নেতা আরিফসহ ১৫-২০ জন এসে এই হুমকি দেন।

সমাবেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের দুই যুগ্ম আহ্বায়ককে হত্যার হুমকিদাতা ছাত্রলীগ নেতাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

বুধবার দুপুর ১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী এক সমাবেশে আন্দোলনকারীরা এই দাবি জানান। এ সময় বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর, রাশেদ খান, ফারুক হোসেনসহ সহস্রাধিক ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।

বিক্ষোভ মিছিলের পর তারা সাধারণ ডায়েরি করতে শাহাবাগ থানায় গেলেও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা আবুল হাসান তাদের ডায়েরি নেননি। তবে ওসি এই বিষয়ে জানার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকতাদের সঙ্গে কথা বলছেন বলে জানান।

এর আগে বেলা ১২টায় ছাত্রলীগ নেতাদের হুমকির প্রতিবাদে ঢাবি ক্যাম্পাসে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে এসে শেষ হয়।

সমাবেশে হাসান আল মামুন বলেন, ‘সরকারের ইমেজকে নষ্ট করার জন্য একটি স্বার্থান্বেষী মহল এসব (হত্যার হুমকি) কাজ করেছে।’ হামলাকারীদের কোটাধারী আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘তারা চায় না কোটার যৌক্তিক সংস্কার হোক।’ এছাড়া তিনি সরকারের কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তকে দ্রুত প্রজ্ঞাপন আকারে বাস্তবায়নের দাবি জানান।

হুমকিদাতা ছাত্রলীগের নেতাদের সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করে নুরুল হক নুর বলেন, ‘গতকাল রাতে আমাদেরকে হত্যার হুমকি দেয়া হলেও আজ এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাউকে গ্রেপ্তার করেনি, কেন করেনি সেটা আমরা জানি না, তবে তারাও আমাদের এই আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে চায়।’

প্রসঙ্গত, সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবিতে গত ফেব্রুয়ারি থেকে আন্দোলনে নামে সংগঠনটি। ৮ এপ্রিল রাজধানীর শাহবাগে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের পর দেশের সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। পরে নামে সরকারি চাকরিতে অনীহা দেখানো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাও। আর ১২ এপ্রিল সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো কোটার দরকার নেই।’

কয়েকটি দেশ সফর শেষে  দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী ২ মে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি কোটা বাতিলের বিষয়ে যে কথা বলেছেন, সেটা পাল্টাবেন না। তবে সবশেষ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম জানিয়েছেন, এ বিষয়ের সারাংশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো। শিগগির এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

তবে শিক্ষার্থীরা এই আশ্বাসে আস্থা রাখতে পারছেন না। তারা গত সোমবার এই দাবিতে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে রাজপথে আন্দোলন স্থগিত করলেও বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে ধর্মঘট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

(ঢাকাটাইমস/১৬মে/এনএইচ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত