তিন বছরের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরলেন সাঈদ খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৬ মে ২০১৮, ১৯:৩০ | প্রকাশিত : ১৬ মে ২০১৮, ১৬:৫৪

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দায়িত্ব নেয়ার সময় সড়ক ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, মশা নিয়ন্ত্রণসহ প্রায় সব নাগরিক সেবা জরাজীর্ণ ছিল উল্লেখ করে ডিএসসিসিকে বর্তমানে একটা অবস্থানে এনেছেন বলে জানিয়েছেন মেয়র সাঈদ খোকন।

বুধবার নগরভবনের ব্যাংক ফ্লোরে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে তিন বছর পূর্তিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন খোকন। এসময় তিনি তিন বছরের উন্নয়ন চিত্রও তুলে ধরেন।

মেয়র বলেন, ‘দায়িত্বভার গ্রহণকালের সময় দেখা গেছে করপোশনের সমুদয় রাস্তাঘাট ভেঙেচুরে একাকার হয়ে গিয়েছিল। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছিল। মশা মারার ওষুধ একটুও মজুদ ছিল না। সড়কবাতি জ্বলত না। বিদ্যুৎবিল বকেয়ার কারণে নগর ভবনের বিদ্যুৎ লাইন পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। দায়িত্বভার নিয়ে সেখান থেকে করপোরেশনকে একটা অবস্থানে নিতে পেরেছি।

সাঈদ খোকন বলেন,  ‘জরাজীর্ণ অবস্থায় কর্পোরেশন পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নগরবাসীকে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন।  প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পেয়ে আমরা তিন বছরে নগরীর ভাঙাচোরা বেহাল রাস্তা, ফুটপাথ, নর্দমা সংস্কার ও মেরামত, এলইডি বাতি সংযোজন, পাবলিক টয়লেট, পার্ক, খেলার মাঠ, কবরস্থান, এসটিএস নির্মাণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, রাজস্ব উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা ও যানজট নিরসনে পদক্ষেপ গ্রহণ, সর্বস্তরের নাগরিকদের সচেতন, সম্পৃক্ত ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ডিএসসিসির সার্বিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা এনেছি।’

সময়ের ব্যবধানে নগরে উন্নয়ন দৃশ্যমান হয়েছে জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও দৃশ্যমান হবে বলেও জানান মেয়র।

মেয়র উন্নয়নের যেসব দিক সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন, তা হলো-

এলইডি বাতি স্থাপন

তিন বছরে ৩৭ হাজার ৯৭৯টি এলইডি বাতি স্থাপন করা হয়েছে। নবসংযুক্ত আটটি ইউনিয়নেও এলইডি বাতি স্থাপন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

রাস্তাফুটপাথনর্দমা নির্মাণ  উন্নয়ন

তিন বছরে ৪৭৩ কিলোমিটার রাস্তা ও ১১২ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ ও উন্নয়ন হয়েছে। এই সময়ে ৪৬৭ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়ন হয়েছে।

আরও ২৬০ কিলোমিটার সড়ক, ২৬২. কিলোমিটার নর্দমা এবং ৫১ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। 

যানজট নিরসন

নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৩০টি বাস স্টপেজ কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। তিনটির কাজ শুরু হয়েছে, চারটি মোড় উন্নয়নসহ ৭১টি স্বচ্ছ পুলিশ বাক্স নির্মাণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৮টির কাজ শেষ হয়েছে, পাঁচটি উদ্বোধন হয়েছে। আটটি এলাকায় ৫৬০টি অনস্ট্রিট পার্কিং চালু হয়েছে।

পাবলিক টয়লেট 

এ পর্যন্ত অত্যাধুনিক ১৯টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ হয়েছে। আরও ৪৭টির মধ্যে ১৫টির কাজ দ্রুত শেষ হওয়ার পথে।

জলাবদ্ধতা

শান্তিনগরের জলাবদ্ধতা দূর করতে এ বছর প্রায়   ৪০০ কিলোমিটার নর্দমা পরিস্কার করা হয়েছে বলেও জানান মেয়র। 

নাজিমউদ্দিন রোডে জলাবদ্ধতা দূর করতে প্রকল্পের কাজও সমাপ্তির পথে। নগরীর অন্যান্য এলাকার বৃষ্টির পানি দ্রুত অপসারণে ২৬২ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ হয়েছে। 

নবসংযুক্ত  ইউনিয়নের উন্নয়ন

৭৩৪ কোটি টাকায় শ্যামপুর, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া ইউনিয়নে ১৫২ কিলোমিটার রাস্তা, ৬ কিলোমিটার ফুটপাত, ১৫৮ কিলোমিটার নর্দমা, ১৪৩ কিলোমিটার রাস্তায় এলইডি লাইট, সাহ হাজার ৬৩টি বৃক্ষরোপনসহ নানা উন্নয়ন কাজ এগিয়ে চলছে। প্রকল্পের কাজ ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই বাকি কাজ শেষ হবে।

এছাড়া মাণ্ড, ডেমরা, নাসিরাবাদ ও দক্ষিণগাঁও ইউনিয়নের জন্য ৪৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৬ কিলোমিটার রাস্তা, ৪৮ কিলোমিটার নর্দমা, আট কিলোমিটার ফুটপাত, ১৭টি সেতু নির্মাণের কাজও দ্রুত শুরু হবে।

খেলার মাঠ  পার্ক উন্নয়ন

‘জলসবুজে ঢাকা’ কর্মসূচীর মাধ্যমে একটি ‘গোস্যা পার্ক’সহ ৩১টি পার্ক ও খেলার মাঠ উন্নয়ন করা শুরু করা হয়েছে। কয়েকটির কাজ চলতি বছরের মধ্যে এবং বাকিগুলো আগামী বছরের জুনে শেষ হবে।

ফুটওভার ব্রিজ

নিরাপদে সড়ক পারাপারের জন্য নয়টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ হয়েছে। আরও সাতটির কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। ১৬টির সংস্কার করা হয়েছে।

মডেল রোড

ধানমন্ডি ২৭নং (রাপা প্লাজা) হতে নীলক্ষেত মোড় পর্যন্ত সড়কটি আদর্শ সড়কে রুপান্তরের কাজ পরিকল্পনা হয়েছে।

সবুজায়ন

নগরবাসীদের নিজ নিজ বসত বাড়ীর ছাদে বা আঙিনায় বাগান করার জন্য ১০% কর ছাড় দেয়া হয়েছে। ফুটওভার ব্রিজগুলোকে সবুজ বৃক্ষশোভিত করা হয়েছে। মতিঝিলসহ বিভিন্ন সড়কের মিডিয়ানে বিউটিফিকেশন চলমান রয়েছে।

আধুনিক যান  যন্ত্রপাতি সংযোজন

অত্যাধুনিক কোল্ড মিলিং মেশিন দিয়ে পুরনো উপকরণ দিয়ে সাত ঘন্টায় এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ৪০ শতায়শ ব্যয় সাশ্রয় হচ্ছে। জেট অ্যান্ড সাকার মেশিন দিয়ে নর্দমাতে জমে থাকা শক্ত ময়লা পরিস্কার করা হচ্ছে।

সামাজিক কর্মসূচি

বিভিন্ন অঞ্চলে ছয়টি কমিউনিটি সেন্টারের আধুনিকায়ন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। আজিমপুর কবরস্থানে ‘মেয়র মোহাম্মদ হানিফ জামে মসজিদ’ নামে আধুনিক মসজিদের কাজ চলছে।

করপোরেশনের আওতায় ২১টি ব্যায়ামাগার ও ১২টি সঙ্গীত শিক্ষা কেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিক সরঞ্জাম কেনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এ সময় সামাজিক কল্যাণে মেয়রের প্রায় ছয় কোটি টাকা অনুদান দেয়া হয়েছে।

অবৈধ বিজ্ঞাপন উপকরণ অপসারণ 

এ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার অবৈধ ব্যানার, ফেস্টুন এবং সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার ২০০টি বিলবোর্ড অপসারণ করা হয়েছে বলেও জানান মেয়র

এলইডি বিলবোর্ড স্থাপন: 

সৌন্দর্য বজায় রেখে ব্যবসায়ীদের পণ্যের প্রচারে নয়টি ডিজিটালাইজড এলইডি বিলবোর্ড স্থাপন হয়েছে। আরও প্রায় ৯৫০টি বক্স এলইডি বোর্ড বসান হয়েছে।

তথ্য  যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন

করপোরেশনে উপস্থিতি নিশ্চিতকল্পে ডিজিটাল হাজিরা, পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য লোকেশন ট্র্যাকিং সিস্টেম, শতভাগ ই-টেন্ডারিং, সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম সরেজমিন দেখার লাইভ মনিটরিং চালু হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে নগর ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। 

খাল উদ্ধার

মান্ডা খাল অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা জেলা প্রশাসন, ওয়াসার সাথে সমন্বয় করে অন্যান্য খাল উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ডিএসসিসির অবৈধ দখলে থাকা প্রায় ১২০ একর জমি উদ্ধার করা হয়েছে।

মশা নিধন 

মশার বংশ বিস্তার রোধে ফগিং এবং লার্ভাসাইডিংয়ের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ, ডেঙ্গু মশার উপদ্রুব থেকে নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে প্রচার চলছে। সেই সঙ্গে চলানো হচ্ছে অভিযান।

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া আক্রান্তদের জন্য কল সেন্টারের মাধ্যমে বিনামূল্যে ওষুধসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, বাড়িতে বিনামূল্যে ফিজিওথেরাপি দেয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। শীতকালীন রোগের চিকিৎসাতেও বিনামূল্যে ডাক্তার গেছে বাড়িতে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা 

ঢাকা আগের তুলনায় বেশি পরিচ্ছন্ন বলেও দাবি করেন মেয়র। জন প্রত্যাশা আরও বেশি জানিয়ে তিনি পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে নাগরিকদের মনোজগতে পরিবর্তন ও সচেতনতার কথাও বলেন।

প্রায় ৮০০টি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও অন্যান্য স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান থেকে দিনে ১০ টন ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য সংগ্রহ করে পরিশোধন করা হচ্ছে। 

হালকা আর্বজনা যেন যত্রতত্র না ফেলতে না হয় সে জন্য স্থাপন করার পর ভেঙে নিয়ে যাওয়া বিনগুলো নতুন করে স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কোরবানির পশুর বর্জ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের বিষয়টিও তুলে ধরেন মেয়র।

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৭২৫ কোটি টাকার “মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিল সম্প্রসারণসহ ভূমি উন্নয়ন” প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।

জনতার মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি 

এ পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে ২৫টি জনতার মুখোমুখি জনপ্রতিনিধি অনুষ্ঠানের ২৮টি সেবা সংস্থাকে জনতার মুখোমুখি করা হয়েছে। জনগণের কাছে জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা/কর্মচারীর জবাবদিহিতার এটি একটি জনপ্রিয় উদ্যোগ বলে মনে করেন মেয়র।

বাজার উন্নয়ন  আধুনিকায়ন

চানখাঁরপুল, ঢাকেশ্বরী মার্কেটের উন্নয়ন কাজ চলছে এবং চার থেকে পাঁচটি মার্কেটের উন্নয়নে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে। করদাতারা যেন ঘরে বসেই হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে পারেন, সে ব্যবস্থাও হচ্ছে।

‘ঢাকা আরবান আপগ্রেডিং প্রজেক্ট’

এ প্রকল্পের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গা নদীর পাড় সংরক্ষণ ও সৌন্দর্যবর্ধনসহ পুরাতন ঢাকা বিশেষ করে কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, সূত্রাপুর, নয়াবাজারসহ গুলিস্তান, খিলগাঁও, মুগদা, বাসাবো সংলগ্ন এলাকায় উন্নয়ন করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির কর্মকর্তা ও কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

 

(ঢাকাটাইমস/১৬মে/জিএম/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত