হার্ট ফেলিউর অ্যাওয়ারনেস দিবসের আলোচনা

‘বেশি পানি পান চিকিৎসার জন্য ক্ষতিকর’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৬ মে ২০১৮, ২০:০৫

হৃদযন্ত্রসহ রোগ চিকিৎসার সময় অতিরিক্ত পানি পান ক্ষতিকর বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা বলেছেন, এতে ওষুষের কার্যকারিতা ও চিকিৎসকের সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।

আজ বুধবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডি ব্লকের দ্বিতীয় তলায় কার্ডিওলজি বিভাগে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন বক্তারা। আন্তর্জাতিক হার্ট ফেলিউর অ্যাওয়ারনেস ডে উপলক্ষে আলোচনা সভাটি আয়োজন করে ডিভিশন অব হার্ট ফেলিউর, রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড প্রিভেনটিভ কার্ডিওলজি।
আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া রোগ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়ার তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। বিশ্বে ২৩ মিলিয়ন লোক হার্ট ফেলিউর সমস্যায় ভুগছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জনসচেতনতা সৃষ্টি ছাড়া হার্ট ফেলিউর প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। ধূপমান ও তামাক সেবন অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। যেসব রোগের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন সে ক্ষেত্রে আলাদাভাবে বাজেটের ব্যবস্থা রাখতে হবে।’

কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি জানান, বিএসএমএমইউতে হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রায় ৩০ শতাংশ হার্ট ফেলিউরের রোগী। হার্ট ফেলিউরে ভোগা রোগীদের পরিবারের লোকজনের দুর্দশার সীমা থাকে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা চিকিৎসার খরচ মেটাতেই নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। ইউরোপ-আমেরিকাতেও হার্ট ফেলিউরের স্থায়ী সমাধান বা চিকিৎসা নেই। তাই এ রোগ প্রতিরোধের দিকেই মনোযোগী হতে হবে বেশি। হৃদরোগের সূত্রপাত বন্ধের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে নতুন করে কেউ হার্ট ফেলিউরে আক্রান্ত না হয়।’

পানি শরীরের জন্য প্রয়োজন হলেও অতিরিক্ত পানি পানের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরেন ডা. সজল ব্যানার্জি। তিনি বলেন, ‘সবার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলো বেশি পানি পান করা ক্ষতিকর। পানি পান করতে হবে পরিমাপমতো। বেশি পানি পান করলে ওষুধ ও চিকিৎসকের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যায়।’

সভাপতির বক্তব্যে ডিভিশন অব হার্ট ফেলিউর, রিহ্যাবিলিটেশন অ্যান্ড প্রিভেনটিভ কার্ডিওলজির প্রধান অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক হার্ট ফেলিউর কাদের ও কী কারণে হয় তা তুলে ধরেন তার আলোচনায়। হৃদরোগের চিকিৎসা না হওয়া, ডায়াবেটিস, তীব্র রক্তশূন্যতা, কিডনি, থাইরয়েড ও লিভারের সমস্যা, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা, কোনো কারণে শরীরে তীব্র সংক্রমণ দেখা দেয়া, জন্মগত হৃদযন্ত্রের সমস্যা ইত্যাদি কারণসহ আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা রোগীদের হার্ট ফেলিউর হয়ে থাকে। হার্ট ফেলিউর প্রতিরোধে উচ্চ রক্তচাপের যথাযথ ওষুধ নির্বাচন ও হৃদরোগের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মত দেন তিনি।

যেসব রোগীর রিং লাগানোর প্রয়োজন নেই, তাদের যেন রিং লাগানো না হয় এমন অভিমত দিয়ে ডা. হারিসুল বলেন, এতে রোগীর উপকারের চেয়ে ক্ষতি হতে পারে বেশি। হৃদরোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহ-রোগগুলোর (ডায়াবেটিস) চিকিৎসাও করতে হবে। ধূমপান ও তামাক সেবন বন্ধসহ জীবনযাপন পদ্ধতিও পরিবর্তন করতে হবে। ব্যায়ামের প্রতি দিতে হবে গুরুত্ব। বেশি নয়, পরিমিত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। হার্ট ফেলিউর রোগীদের শরীরের এলবোমিনের মাত্রা ঠিক রাখতে ডিমের সাদা অংশ ও মাছ খেতে হবে।

 (ঢাকাটাইমস/১৬মে/এএ/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত