‘খুলনা সিটি নির্বাচন প্রশ্নবোধক’

বোরহান উদ্দিন, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ মে ২০১৮, ১৭:৫৫

নারায়ণগঞ্জ, রংপুর এবং কুমিল্লা সিটি নির্বাচন যতটুকু স্বচ্ছ সুষ্ঠু দেখা গেছে সে তুলনায় খুলনা সিটি নির্বাচন প্রশ্নবোধক চিহ্ন যুক্ত করেছে বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ।

বুধবার চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের ‘মুক্তবাক’ নামের একটি অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। ‘রাজনীতিতে খুলনার খবর’ শীর্ষক অনুষ্ঠানটিতে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি সংগঠন ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমিন মুর্শীদ এবং বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-বিইউপির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এম. আবুল কাশেম মজুমদার।

খুলনা নির্বাচন নিয়ে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের কথা তুলে ধরে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ বলছে, যে অনিয়ম হয়েছে তা ফলাফলে প্রভাব ফেলেনি। আমার কাছে ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ নয়। যে অনিয়মগুলো হলো- এই পদ্ধতিটাই গুরুত্বপূর্ণ। ফল পাল্টালো না ঠিক, কিন্তু এটা যখন চলতে থাকবে, তখন গোটা নির্বাচন ব্যবস্থার উপর প্রভাব ফেলবে। সেই হিসেবে বলবো, অন্য তিনটি সিটির নির্বাচনের থেকে খুলনার নির্বাচন বেশি প্রশ্নবিদ্ধ।

তিনি বলেন, আমার কথা হলো কেন আমরা আগ বাড়িয়ে বলতে যাচ্ছি, যে অনিয়ম হয়েছে সেটা ফলাফল পাল্টে দেয়ার মতো না। এটা আমরা ভয়ের কারণে বলছি। যেহেতু আমরা পর্যবেক্ষণ করছি, সেহেতু যা দেখেছি তাই বলবো। কিন্তু বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল লাইভ দেখালো- মেয়র প্রার্থী মঞ্জু নিজে দেখাচ্ছেন কিভাবে ব্যালট পেপারে সিল মারা হচ্ছে। দৈনিক প্রথম আলোতে সেসব বিষয় নিয়ে লিখলো। এই অবস্থার মধ্যে ইলেকশন ওয়াকিং গ্রুপ যা বললো জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েকমাস আগে জনগণের কাছে তা কিন্তু খারাপবার্তা দিচ্ছে।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েলের মতে, ‘জাল ভোট মেয়র না কাউন্সিলরকে দিয়েছে সেটা বড় কথা নয়। যখন একজন ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়, তখন তিনি সবগুলো নিয়ে সবগুলো কাস্ট করেছেন। তাই যদি কোনো মেয়র বা কাউন্সিলর প্রার্থী চ্যালেঞ্জ করে যে, আমার কাছে তথ্য আছে ব্যালট বক্সে ভরছে ঠিকই কিন্তু মুড়িতে স্বাক্ষর নেই। এমন যদি ৫টা ভোটও পাওয়া যায় তাহলে সেটা কিন্তু বড় চ্যালেঞ্জের বিষয়। ফলাফল পুনর্গণনা করা হয় তখন কিন্তু সবগুলো মিলিয়ে দেখা হবে। এমনও হতে পারে কোর্ট হয়তো অর্ডার দিলো- যে লোকের ভোট তাকে সাক্ষী দিতে হবে। এমন নজির আমাদের দেশে হয়নি যদিও, কিন্তু এটা ঘটতে পারে।’

অনেকগুলো ট্রাডিশনাল ভোট ব্যাংকে সরকার হানা দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভোটের আগেও অনেক কাজ আছে। সেটা সরকার অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে করেছে। তারা অনেকগুলো ট্রাডিশনাল ভোট ব্যাংকে হানা দিয়েছে। ভোটিং কাঠামোটা তছনছ করে দিয়েছে। যেমন ভোটের আগেই তারা ২০ হাজার  শ্রমিককে বকেয়া বেতন দিয়ে দিয়েছে। এটা কিন্তু ভোটে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।’

‘অন্য একটি বিষয় হলো- তালুকদার আব্দুল খালেক আগের মেয়র ছিলেন। বেশ কাজ করেছেন তিনি। সেটা এখনো দৃশ্যমান। পরে তিনি আবার পরাজিত হয়েছেন। এরপর যিনি মেয়র হয়েছেন তেমন কাজ করতে পারেননি, টাকাও পাননি। আর কাজ করবেন কিভাবে- তিনি তো ছিলেন দৌঁড়ের উপর। এটাও কিন্তু ভোটারদের উপর প্রভাব ফেলেছে। কারণ তারা চিন্তা করেছে এবার যদি অন্য কাউকে ভোট দিই তাহলে উন্নয়ন হবে না। বিএনপির অনেকগুলো কাউন্সিলর কিন্তু সরকারি দলের মেয়রের সঙ্গে লিয়াঁজো করেছেন। কারণ মেয়র টাকা না দিলে তারা এলাকায় কাজ  করতে পারবেন না।’

বিইউপির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এম.আবুল কাশেম মজুমদার বলেন, ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ বলছে- বর্তমান নির্বাচন কমিশনের সময়ে খুলনার নির্বাচন ভালো হয়েছে। কিন্তু একটা বিষয় বুঝতে হবে রংপুর আর খুলনা কিন্তু ভিন্ন জায়গা। রংপুর একটা বিশেষ এলাকা জাতীয় পার্টির জন্য। সেখানে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির প্রার্থীর মধ্যে অনেক আগে থেকেই আঁতাত লক্ষ্য করা যায়। তাই নির্বাচনকে ঘিরে রংপুর যে কলাকৌশল সেটা কিন্তু খুলনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সেই হিসেবে রংপুরের প্রেক্ষাপটে সেখানকার নির্বাচন খুবই ভালো হয়েছে। আবার খুলনার প্রেক্ষাপটে সেখানকার নির্বাচন খুবই খারাপ হয়েছে সেটাও বলা যাবে না।

উপস্থাপক তার কাছে প্রশ্ন রাখেন খুলনা একটা এলাকা কিন্তু ৩০০ আসনে যখন ভোট হবে তখন নির্বাচন কমিশন কি করবে?

জবাবে আবুল কাশেম বলেন, এই যে স্থানীয় নির্বাচনগুলো হচ্ছে এখান থেকে অভিজ্ঞতাটা আসবে তা নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগাতে হবে। নির্বাচন কমিশন কিন্তু ভালো করছে। তারপরও বলছি, অনিয়ম যেটা সেটা অনিয়মই। কিন্তু ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপ যে কথা বলছে- কিছু জায়গায় সহিংসতা হয়েছে। কোথাও অননুমোদিত লোকজন দেখা গেছে। কিন্তু তারা বলেনি যে ব্যাপক হারে জাল ভোট হয়েছে।

তখন উপস্থাপক বলেন, তাহলে কি আপনি বলছেন গ্রহণযোগ্য অনিয়ম হয়েছে?

তখন সবাই হেঁসে উঠেন।

তখন পাশ থেকে তোফায়েল আহমেদ বলেন, অনিয়ম অনিয়মই। আপনাকে নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে।

(ঢাকাটাইমস/১৭মে/বিইউ/ডিএম)

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত