থানায় তিন গরুর ২০ দিন

ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
 | প্রকাশিত : ১৭ মে ২০১৮, ১৭:৫৯

গরু তিনটিকে চোরেরা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশ দুই চোরকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। কিন্তু গরুগুলো এখনও থানায়ই রয়ে গেছে। রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানায় গরুগুলোর ২০ দিন কেটে গেল। সেখানে ঠিকমতো খেতেও পায় না গরুগুলো, যেন থানায়ই ‘কারাবন্দি’ তারা।

বোয়ালিয়া থানায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল সকালে একটি ট্রাকে করে চোরেরা গরুগুলোকে নিয়ে যাচ্ছিল। নগরীর গোরহাঙ্গা এলাকায় পুলিশ ট্রাকটিকে থামিয়ে গরুর কাগজপত্র দেখতে চায়। তখন তিন-চারজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। তাদের পালাতে দেখে পুলিশ দুজনকে ধরে ফেলে। কৌশলে গরু রেখে ট্রাক নিয়ে চালকও পালিয়ে যান।

এরপর আটক দুজন গরুগুলোর কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। গরুর মালিক কে, সে ব্যাপারেও মুখ খোলেননি। তাই থানার উপ-পরিদর্শক গোলাম মোস্তফা তাদের বিরুদ্ধে গরু চুরির অভিযোগে থানায় মামলা করেন। এরপর আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে মালিক না পাওয়ায় গরুগুলো থানায়ই থেকে গেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দেখা গেছে, থানার সামনে খোলা আকাশের নিচে একটি গাভী, একটি ষাড় ও একটি বাছুরকে বেঁধে রাখা হয়েছে। একটি পাত্রে গরুগুলোর সামনে পানি দিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু কোনো খড় নেই। খাবারের জন্য একটু পরপরই গরুগুলো ‘হাম্বা হাম্বা’ শব্দে  ডেকে যাচ্ছিল। কিন্তু তাদের দিকে ভ্রুক্ষেপ নেই কারোরই।

থানার একজন পুলিশ সদস্য জানালেন, ২০ দিন ধরে দিনরাত-সব সময় গরুগুলো এখানেই থাকে। এখন মাঝে মাঝেই ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছে, তখনও গরুগুলো সেখানেই থাকে। ঝড়ের সময় গরুগুলো ছোটাছুটি করে। ঠিকমতো খাবার না পেয়ে দিনে দিনে গরুগুলো হাড্ডিসার হয়ে যাচ্ছে। গরুগুলো থানায়ই ‘হাজতবাস’ করছে বলে মন্তব্য করেন ওই পুলিশ সদস্য।

এ নিয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে চাননি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ। তিনি মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর উপশহর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মাহফুজুল ইসলাম বলেন, নিজের পকেটের টাকা খরচ করে গুরুগুলোকে খাওয়াতে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, আমিই গরুর মালিক হয়ে গেছি। প্রতিদিন থানায় গিয়ে আমি নিজে গরুর খাবার কিনে দিয়ে আসি। যতটুকু পারি, খাইয়ে যাচ্ছি। অবলা প্রাণিকে তো আর কষ্ট দেয়া যায় না। গরুগুলোর খাবারের কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

এসআই মাহফুজুল জানান, মালিক না পাওয়ায় গরুগুলো থানায়ই রাখা হয়েছে। এখন সেগুলো কী করা হবে- সে সিদ্ধান্ত দেবেন আদালত। কিন্তু এ ব্যাপারে আদালত এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত গরুগুলোকে থানায়ই থাকতে হবে।

(ঢাকাটাইমস/১৭মে/আরআর/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত