জনগণের পাশে থাকলে যেকোনো কিছু অর্জ‌ন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকাটাইমস ডেস্ক
| আপডেট : ১৭ মে ২০১৮, ২১:০৫ | প্রকাশিত : ১৭ মে ২০১৮, ২০:২৭

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ঐক্যবদ্ধ থেকে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘সংগঠন যদি শক্তিশালী হয়, সংগঠনে যদি ঐক্য থাকে আর এই সংগঠন যদি জনগণের পাশে থেকে জনমত সৃষ্টি করতে পারে তখনই যেকোনো কিছু অর্জন করা সম্ভব হয়। এটা আমরা বারবার প্রমাণ করেছি।’

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আজ সকালে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতারা  তাকে শুভেচ্ছা জানাতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে গেলে তিনি এ কথা বলেন। খবর বাসসের।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিয়োগান্তক অধ্যায়ের পর শেখ হাসিনা প্রবাসে দীর্ঘদিন রিফ্যুজি হিসেবে কাটাতে বাধ্য হন। পরে আওয়ামী লীগ তাকে দলের সভাপতি নির্বাচন করলে ১৯৮১ সালের এই দিনে তিনি দেশে ফিরে আসেন। 

আজ গণভবনে প্রধানমন্ত্রীকে প্রথমে শুভেচ্ছা জানান দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী এবং অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ডা. দিপু মনি প্রমুখ্।

এরপর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ, আওয়ামী যুব লীগ, ছাত্রলীগ, আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, তাঁতি লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং মহিলা শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রীকে।

পরে প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি দেশে ফেরা থেকে শুরু করে তার রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন তার ভাষণে। ভবিষ্যতে তার অবর্তমানে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব খোঁজার জন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

আওয়ামী লীগের সভাপতি ৩৭ বছর আগের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ এই দিনে তার স্বদেশে ফিরে আসার স্মৃতি রোমন্থনে বারবার আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, সেদিন প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই তাকে বরণ করে নেয়ার জন্য মানুষের যে ঢল দেখেছেন, মানুষের যে ভালোবাসা পেয়েছেন তা তাকে এখনো আপ্লুত করে।’

ছাত্ররাজনীতি করলেও আওয়ামী লীগের মতো সংগঠনের দায়িত্ব নেয়াটা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক কঠিন সময়ে তিনি দেশে ফেরেন। জাতির পিতার খুনিরা তখন পুরস্কৃত হয়ে বহাল তবিয়তে। ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স থাকায় পিতা হত্যার বিচার চাইতে পারছেন না তিনি। জিয়া তখন নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে প্রতিরাতে কারফিউ দিয়ে দেশ চালাচ্ছে। আর ভাঙ্গার চেষ্টা চলছে আওয়ামী লীগকে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি অভিযোগ করেন, ১৯টি ক্যু করে সেনাবাহিনীর বহু মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসার-সৈনিকদের হত্যা এবং বিমানবাহিনীর ৫৬২ জন কর্মকর্তাকে হত্যা করেন জিয়াউর রহমান।

প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা হত্যাকাণ্ড ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সাক্ষীদের নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট থাকার জন্যও দলের নেতা-কর্মীদের পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার করছি এবং এই যুদ্ধাপরাদীদের বিচার করতে গিয়ে যারা সাক্ষ্য দিয়েছে তাদের ওপরও কিন্তু অনেক সময় অত্যাচার হয়েছে। কাজেই যার যার এলাকায় এটাও আমাদের একটু নজরে রাখতে হবে যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন তাদের ওপর কেউ যেন অত্যাচার করতে না পারে।’

যদি কেউ সাক্ষীদের নির্যাতন বা অত্যাচার করে তাহলে তারাও যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচারের সম্মুখীন হবে এবং তাদেরও একেবারে ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হবে বলে হুঁশিয়রি করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবী শ্রেণী যারা দেশের গণতন্ত্র দেখতে পান না, তাদের কঠোর সমালোচনা করে এদের সামরিক সরকারগুলোর পদলেহনকারী ও সুবিধাভোগী বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে দল গঠনের মধ্যে তারা গণতন্ত্র পায়।’

প্রধানমন্ত্রীর আবেগাপ্লুত কন্ঠে এদিন বিদায়ের রাগিনী ধ্বনিত হলে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা তীব্র প্রতিবাদ করে ওঠেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘৩৭ বছর হয়ে গেছে এ দলের সভাপতি হিসেবে,এতগুলো বছর থাকাটা বোধ হয় সমীচিন নয়। আওয়ামী লীগকে মনে হয় ধীরে ধীরে চিন্তা করতে হবে তাঁর নতুন নেতৃত্বের কথা।’

তিনি সততার সঙ্গে রাজনীতি করার এবং পাওয়া না পাওয়ার হিসেব না মেলাতে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, ‘কতটুকু দিতে পারলাম, কতটুকু করবো সেটাই বড় কথা।’

(ঢাকাটাইমসম/১৭মে/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত