উন্নয়নশীল দেশ: তুরস্ককে যেমন দেখছি (২)

সর্বনিম্ন বেতন কাঠামো: পদ্ধতি ও প্রভাব

রহমত উল্লাহ
 | প্রকাশিত : ১৭ মে ২০১৮, ২১:০৩

প্রথম পর্বের আলোচনায় উল্লেখ করেছিলাম যে, তুরস্কে কর্মবীমা বাধ্যতামূলক। যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি, বড় বা একেবারে ছোট যেকোনো প্রতিষ্ঠনেই কর্মচারীর জন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বীমা বাধ্যতামূলক। এ বীমার ফলে কর্মজীবী সব মানুষেরই অবসর ভাতা নিশ্চিত রয়েছে।

এবার আসা যাক সর্বনিম্ন বেতন সম্পর্কে। তুরস্কের বেতন কাঠামো আমেরিকা বা ইউরোপের দেশগুলোর তুলনায় ততটা ভালো না হলেও একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে মানসম্পন্ন বলা যায়। সমাজের নিম্নস্তরের মানুষের সন্তুষ্টচিত্তে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে তুরস্কের বেতন কাঠামোতে। তুরস্কে ২০১৮ সালে সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন বেতন ১৬০৩ লিরা। (বাংলাদেশি টাকা ৩৪ হাজার টাকা প্রায়। উল্লেখ্য: তুর্কি লিরার আন্তর্জাতিক মান প্রতিদিনই কমে যাচ্ছে। ফলে বিদেশি টাকায় এর হিসাবটা করলে যথাযথ বিশ্লেষণ কঠিন হবে)।

সরকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন বেতন প্রক্রিয়ার ফলে তুরস্কের যেকোনো প্রতিষ্ঠানই তার কর্মচারীদের মাসিক বেতন হিসেবে কমপক্ষে ১৬০৩ লিরা দিতে বাধ্য থাকে। চায়ের দোকান কিংবা মুদি; ফুটপাতের জুতার দোকানি কিংবা দিনমজুর- সব ক্ষেত্রেই মালিকপক্ষ কর্মচারীকে কমপক্ষে ১৬০৩ লিরা দিতে বাধ্য থাকে। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞা, কাজের পরিধি ও ক্ষেত্র বিবেচনায় ১২-১৬ হাজার লিরা বা আরও বেশি বেতনও দেয়া হয়ে থাকে।

সর্বনিম্ন বেতন প্রক্রিয়ায় মালিকপক্ষ একজন কর্মচারীর জন্য প্রতি মাসে কমপক্ষে ২০২৯ লিরা খরচ করতে বাধ্য থাকে। এর মধ্যে- কর্মচারীর বেতন বাবদ ১৬০৩ লিরা;  চাকরি বিমা বাবদ ২৮৪ লিরা এবং আয়কর বাবদ ২৫৯ লিরা খরচ করতে হয় মালিককে। ফলে একজন কর্মজীবী যেমন মাসিক নিয়মিত বেতন পান, তেমনি চাকরি-পরবর্তী অবসর জীবনেরও আর্থিক নিশ্চয়তা পেয়ে যান। (চাকরি পরবর্তী অবসর জীবনেও ওই ব্যক্তিকে সরকারের পক্ষ থেকে ওই সময়ের সর্বনিম্ন বেতনের সমপরিমান মাসিক ভাতা দেয়া হবে)।

তুরস্কে কর্মদাতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকার নির্ধারিত এ বেতন কাঠামো মেনে চলতে বাধ্য এবং প্রত্যেক কর্মচারীর চাকরি বীমায় মাসিক নির্ধারিত পরিমাণ অর্থ জমা দিতে বাধ্য। ফলে, একদিকে যেমন অল্প টাকায় কাজ করানোর সুযোগ কেউ পায় না; তেমনি নাগরিকদের কর্মজীবনে অস্থিরতাও তেমন থাকে না।

প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে এ ধরনের একটি পদ্ধতি চালু করা এখন সময়ের দাবি। কর্মদাতাদের শোষণের প্রবণতায় দেশের বেসরকারি সাধারণ চাকরিজীবীরা অসহায়। সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামো নির্ধারিত ও নিয়মিত সমন্বয় করা হলেও বেসরকারি ও স্থানীয় পর্যায়ে বেতন প্রক্রিয়ায় চরম অরাজকতা বিরজমান। মোটা চালের কেজি যখন ৪৫ টাকা, তখনো মাসিক ৩০০০ টাকা বেতনে চাকরি করা স্নাতকধারী দেখতে পাই আমাদের সমাজে। কাজ করিয়ে টাকা না দেওয়া মালিকদের সংখ্যা হিসাবের বাইরে। আর মজুরি চেয়ে মালিকের অত্যাচারে নিহত হওয়ার ঘটনাও পত্রিকায় ছাপা হতে দেখেছি।

লেখক: তুরস্ক প্রবাসী পিএইচডি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

প্রবাসের খবর বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত