আ.লীগ নেতার দেয়া খাবার খেয়ে অসুস্থ কয়েকশ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৭ মে ২০১৮, ২২:২০

আগামী সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ থেকে আওয়ামী লীগের এক মনোনয়নপ্রত্যাশীর কর্মিসভা ও জনসভা শেষে বিতরণ করা খাবার খেয়ে বিপুল পরিমাণ মানুষের অসুস্থ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে ব্যাপকভাবে অসুস্থ লোকজন চিকিৎসা নিতে যাচ্ছে। তাদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

পরপর দুই দিনের অনুষ্ঠানের খাবার খেয়ে মানুষের অসুস্থ হয়ে যাওয়াকে স্বাভাবিকভাবে দেখছে না পুলিশ। খাবারে কেউ কিছু মিশিয়েছে কি না, এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।  

এই ঘটনায় আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য কালোপতাকা মিছিল করেছেন। বলেছেন ওই মনোনয়নপ্রত্যাশী নি¤œ মানের খাবার খাইয়ে মানুষকে অসুস্থ করছেন।

ঝিনাইদহ-৩ আসনে (মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর) আগামী নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের একজন দলের সাবেক সংসদ সদস্য পারভিন তালুকদার মায়া। গত মঙ্গলবার তিনি মহেশপওে কর্মিসভা ও বুধবারে কোটচাঁদপুরে জনসভা করেন। এরপর বিতরণ করা হয় খাবার। আর এই খাবার খাওয়ার পর বিষক্রিয়া দেখা দেয়। এখন পর্যন্ত চার শতাধিক মানুষের অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পেটের পীড়ায় যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন মনোনয়প্রত্যাশী পারভিন তালুকদার মায়া স্বয়ং। তিনি নিজের বাসাতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার স্বামী মোহাম্মদ আলী তালুকদার ফারুককে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে।
মায়ার আশঙ্কা, কেউ শত্রুতা করে খাবারে বিষ দিয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ। সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কনক কুমার এই কমিটির প্রধান।

কনক কুমার জানিয়েছেন, বিষয়টি অন্তর্ঘাত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। রান্নার কাজে নিয়োজিত বাবুর্চিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে মহেশপুর পুলিশ।

অসুস্থ রোগীরা মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলার। একই সাঙ্গে বিপুল সংখ্যক মানুষের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনও এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন।

বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত শুধু কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হয়েছেন ২৪০ জন। এছাড়া মহেশপুর, চৌগাছা, জীবননগর ও কালীগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরো শতাধিক । অনবরত বমি ও পাতলা পায়খানায় কাহিল সবাই।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার মহেশপুরের হাইস্কুল মাঠে এক কমিসভার আয়োজন করেন মায়া তালুকদার। এতে কোটচাঁদপুর, কালীগঞ্জ, জীবননগর, চৌগাছা ও মহেশপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে হাজারো নেতাকর্মী যোগ দেন।

সভা শেষে তাদের মধ্যে বিরিয়ানির প্যাকেট বিতরণ করা হয়। এ বিরিয়ানি খাওয়ার পর থেকেই শত শত মানুষ অসুস্থ হতে থাকেন।

বুধবার কোটচাঁদপুর বাসস্ট্যান্ডে মায়া তালুকদারের জনসভা হয়। সেখানেও বিতরণ করা হয় বিরিয়ানি। আর এই খাবার যারা খেয়েছেন তারাও আক্রান্ত হয়েছেন বিষক্রিয়ায়।

মহেশপুর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার আফসার আলী বলেন, ‘এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় ফুড পয়জনিং।’

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রামচন্দ্রপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান জানান, সভা শেষে এক প্যাকেট বিরিয়ানি পান তিনি। বাড়ি ফিরে স্ত্রী ও ছেলেসহ খান। রাত ১১ টার দিকে ৩ জনেরই বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়।

ফতেপুর গ্রামের একরামুল খান জানান, বিরিয়ানি খাওয়ার পর ভোরে পেটে ব্যাথা ও বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। তাকে সকালে এনে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মহেশপুর-কোটচাঁদপুর এলাকার সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কোটচাঁদপুর হাসপাতালে আক্রান্তদের দেখতে যান এবং চিকিৎসার খোজ খবর নেন। এ সময় তিনি রোগীদের মাঝে ওরস্যালাইন, কলা, গুড় ও চিড়া বিতরণ করেন।

এরপর হাসপাতাল গেটে মানববন্ধন ও কালোপতাকা মিছিল করেন সংসদ সদস্যের অনুসারীরা। নবী নেওয়াজ বলেন, মায়া আওয়ামী লীগের কোন নেতা নন। দলের নাম ভাঙিয়ে তিনি বরিশালের বাকেরগঞ্জ থেকে এখানে এসে লোকজন জড়ো করে তাদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে দিচ্ছেন।

‘আগে তিনি রাজনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করতেন। আর এখন নি¤œমানের খাবার দিয়ে নেতাকর্মীদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা সৃষ্টি করছেন।’

মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লস্কর জায়াদুল হক বলেন, ‘এটা সাবোটাজ (অন্তর্ঘাত) কি না তা তদন্ত করে দেখছে। ইতিমধ্যে বার্বুুচিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কেউ খাবারের মধ্যে কিছু মিশিয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।’

ঢাকাটাইমস/১৭মে/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত