‘সাইবার অপরাধের আখড়া ফেসবুক’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২০ মে ২০১৮, ২০:২৭

দেশে সংঘটিত সাইবার অপরাধের আখড়া হয়ে উঠছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় বলে ফেসবুকেই এই হয়রানি বেশি। আর এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী নারী।

অনলাইনে হয়রানির শিকার হলেও ভুক্তভোগীদের ৩০ শতাংশই এর বিরুদ্ধে কীভাবে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয় সে বিষয়ে জানেন না। ফলে তারা নীরবে সয়ে যাচ্ছে।  

বাকিদের মধ্যে ২৫ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হবে না ভেবে অভিযোগ করেন না। 

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

সংগঠনটি বলছে, প্রতিকারের উপায় নিয়ে স্বচ্ছ ধারণার অভাব এবং লোকলজ্জা ও ভয়-ভীতির কারণে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রবিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে সহযোগিতায় ছিল প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সাইবার প্যারাডাইজ।

গত কয়েক বছর ধরেই সামাজিক মাধ্যমগুলোর মধ্যে ফেসবুক ব্যাপকভাবে ব্যবহার হচ্ছে বাংলাদেশে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও এই মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের মনোভাব প্রকাশের পাশাপাশি ঘটা বিভিন্ন অপরাধ ও দুর্নীতির চিত্রও তুলে ধরছে। আবার এই ফেসবুক ব্যবহার করেই করা হচ্ছে নানা অপরাধ। 

সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১৮ বছরের কম  ১০.৫২ শতাংশ।  সবচেয়ে বেশি ভুগছে ১৮ থেকে ৩০ বছরের মানুষ। ভুক্তভোগীদের ৭৩.৭১ শতাংশই এই বয়স সীমার মধ্যে।

৩০ থেকে ৪৫ বছর ১২.৭৭ শতাংশ এবং সাইবার অপরাধে ভুক্তভোগীদের মধ্যে তিন শতাংশ ৪৫ বছর বয়সের ঊর্ধ্বে।

অনুষ্ঠানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, লিঙ্গভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেশে সাইবার অপরাধের শিকার ভুক্তভোগীদের ৫১.১৩ শতাংশ নারী এবং ৪৮.৮৭ শতাংশ পুরুষ।

অপরাধের ধরণ ব্যাখায় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাকাউন্ট জাল ও হ্যাক করে তথ্য চুরির মাধ্যমে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ নারীরা।

গড়ে অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্টে অপপ্রচারের শিকার হন ১৪.২৯ শতাংশ নারী। একই ধরনের অপরাধের শিকার হন ১২.৭৮ শতাংশ পুরুষ।

আইডি হ্যাকিং বা তথ্য চুরি অবশ্য পুরুষদের বেশি হয়। এক্ষেত্রে ১৩.৫৩ শতাংশ পুরুষ আক্রান্ত হলেও নারী আক্রান্তের হার ৫.২৬ শতাংশ।

ছবি বিকৃতির মাধ্যমে অনলাইনে অপপ্রচারে অপপ্রচার বেশি চলে নারীর বিরুদ্ধে। এই অপরাধে আক্রান্ত নারীর হার ১২.০৩ শতাংশ হলেও পুরুষের বেলায় তা ৩.৭৬ শতাংশ।

অনলাইনে হুমকিমূলক বার্তা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নারীর হার ৯.৭৭ শতাংশ এবং পুরুষ ৩.৭৬ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা একেএম নজরুল হায়দার। প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ইলেক্ট্রনিক সার্টিফিকেট প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের (সিসিএ) নিয়ন্ত্রক আবুল মানসুর মোহাম্মদ সারফ উদ্দিন।

গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনা করেন সংগঠনের আহ্বায়ক কাজী মুস্তাফিজ। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাশেদা রওনক খান, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশেন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) যুগ্ম সম্পাদক মঈন উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।  সঞ্চালক ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ হাসান।

ঢাকাটাইমস/২০মে/এজেড/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত