‘বন্দুকযুদ্ধে’ আরও ১১ ‘মাদক বিক্রেতা’ নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ মে ২০১৮, ১৪:৫৮ | প্রকাশিত : ২২ মে ২০১৮, ১০:১৯

সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে আরও ১১জন নিহত হয়েছেন, যারা সবাই মাদক বিক্রেতা বলে দাবি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকালের মধ্যে নয় জেলায় মাদক চোরাকারবারিদের সঙ্গে এই বন্দুকযুদ্ধ হয়।

এর মধ্যে কুমিল্লা ও নীলফামারীতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুইজন করে মোট চারজন এবং চুয়াডাঙ্গা, নেত্রকোণা ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও  দিনাজপুরে একজন করে নিহত হয়েছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও ফেনীতে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ৩ জন নিহত হয়েছেন।

এই নিয়ে চলতি মাসের ৪ মে থেকে চলা মাদকবিরোধী অভিযানে এখন পর্যন্ত ৩৪ জন মাদক বিক্রেতা নিহত হলেন। এর মধ্যে গত রবিবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত মারা গেছে ১০ জন। ঢাকাটাইমসের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর।

ফেনী

ফেনীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিয়াজপুর জেনিথ ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মঞ্জুরুল আলম ওরফে কানা মঞ্জু (৪৯) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।তার বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার রূপকানিয়ায়। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকাভূক্ত শীর্ষ মাদক কারবারি বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

র‌্যাব জানায়, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকাগামী মাইক্রোবাসটি সন্দেহবশত থামিয়ে তল্লাশি করা হয়।এসময় সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি করলে চোরাকারবারিরা  পিছু হটে। দুইপক্ষের গোলাগুলিতে এক মাদক কারবারি ও দুই র‌্যাব সদস্য আহত হন। তাদের ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মঞ্জুকে মৃত ঘোষণা করে।

ফেনী র‌্যাব-৭ স্কোয়াড্রন লিডার শাফায়াত জামিল ফাহিম জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১০ হাজার ইয়াবা, একটি পিস্তল,৭ রাউন্ড গুলি ও ৫ রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি জানান, নিহত মঞ্জু চট্টগ্রামের শীর্ষ মাদক কারবারি।

কুমিল্লা

মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের অংশ হিসেবে কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক চোরাকারবারি নিহত হয়েছেন। গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের সঙ্গে এই বন্দুকযুদ্ধে শরীফ ও পিয়ার নামে দুইজন নিহত হয়েছেন।

সোমবার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে জেলা সদরের অদূরে বিবির বাজার অরণ্যপুর এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে দুই রাউন্ড গুলিসহ একটি রিভলবার, একটি পাজারো জিপ, ৫০ কেজি গাঁজা এবং ৫০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় কোতয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রুপ কুমারসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কোতয়ালি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবু ছালাম মিয়া।

নিহত শরীফ জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার মহেষপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। অপর নিহত পিয়ার আলী আদর্শ সদর উপজেলার শুভপুর গ্রামের আলী মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে ১৩টি মাদকের মামলা রয়েছে।

নেত্রকোণা

নেত্রকোণা সদর উপজেলার বড়াইল বালুঘাটে গতকাল মধ্যরাতে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পাঁচ পুলিশ সদস্য। নিহতের নাম আমজাদ। তিনি নেত্রকোণা শহরের উত্তর নাগড়া এলাকার বাসিন্দা। মাদক ব্যবসা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, হত্যাসহ ১৩টি মামলা রয়েছে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন সদর মডেল থানার ওসি বোরহান উদ্দিন, এসআই মামুন, মহসিন,মকবুল ও কনষ্টেবল মালেক।

বন্দুকযুদ্ধের সত্যতা নিশ্চিত করে নেত্রকোণা সদর মডেল থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানান, নিহত আমজাদের মরদেহ নেত্রকোণা সদর আধুনিক হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। আহত পুলিশ সদস্যরা নেত্রকোণা সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা

জেলার আলমডাঙ্গায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কামরুজ্জামান নামে এক ‘মাদক বিক্রেতা’ নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন চার পুলিশ সদস্য। উদ্ধার করা হয়েছে অস্ত্র-গুলি ও মাদক। রাত দেড়টার দিকে আলমডাঙ্গা রেল স্টেশনের অদূরে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি ও এক বস্তা ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। বন্দুকযুদ্ধের সময় দুই কর্মকর্তাসহ চারজন আহত হয়েছে বলে দাবি করছে পুলিশ।

নিহত কামরুজ্জামান সাদু আলমডাঙ্গা উপজেলার হারদী গ্রামের ইমদাদুল হকের ছেলে।

চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহ জানান, নিহত কামরুজ্জামান শীর্ষ মাদক চোরাকারবারি। তার বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় মাদক পাচারসহ ১২টি মামলা রয়েছে। রাত তিনটার দিকে নিহতের মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ থানাধীন ডেবারপাড় এলাকায় র্যা বের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে শুক্কুর আলী নামে এক মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। র্যাদব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মিমতানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নীলফামারী

নীলফামারীর সৈয়দপুরের গোলাহাট বধ্যভূমি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ দুই মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন শহরের  ইসলামবাগ এলাকার শাহিন এবং নিচু কলোনি এলাকার জনী।

আড়া্ইহাজার(নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজারে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ মাদক  চোরাকারবারী বাচ্চু খান নিহত হয়েছেন। এসময় উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমান ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিদেশি অস্ত্র। নিহত বাচ্চু খান রাজধানী ঢাকার উত্তরার উত্তরখান এলাকার আশরাফ খানের ছেলে।

র‌্যাব-১ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে আড়াইহাজারের শিমুলতলী এলাকায় মাদক উদ্ধারের জন্য অভিযান  চালায়। এ সময় বাচ্চুসহ তিন মাদক চোরাকারবারি দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তারা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই বাচ্চু খান মারা যান। অপর দুজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এসময় মাদক ব্যবসায়ের কাজে তাদের ব্যবহৃত একটি জিপ গাড়িও উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব-১ কোম্পানি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন ও আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম এ হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। 

বিরামপুর (দিনাজপুর)

দিনাজপুরের বিরামপুরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক বিক্রেতা প্রবাল হোসেন (৩৫) নিহত হয়েছেন। তিনি বিরামপুর উপজেলার ২ নং কাটলা ইউরিয়নের বাবু পাড়া গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে।

সোমবার দিবাগত রাত ২টায় উপজেলার মির্জাপুর ভবানীপুর মনিরামপুর মাঠ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৩রাউন্ডগুলিসহ একটি রিভালবার, ৫টি ককটেল, একটি সামুরাই ও ৯২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে।

বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর জানায়, সোমবার দিবাগত রাত ২টায় মাদক বিক্রেতা প্রবাল হোসেনকে আটক করে পুলিশ। তাকে নিয়ে রাতে বিরামপুর থানার পুলিশের একটি দল মাদক উদ্ধার করতে গেলে প্রবাল হোসেন ও তার সহযোগিরা পুলিশের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালালে প্রবাল হোসেন ঘটনাস্থলে নিহত হন। এ সময় আহত হয়েছেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) খুরশেদ আলম,  সহকারি উপপরিদর্শক (এএসআই) রাম চন্দ্র ও এক কনস্টেবল। তাদের দিনাজপুর পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত প্রবাল হোসেনের লাশ সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে প্রবাল নিহত হওয়ার ঘটনাটিকে পুলিশর সাঁজানো নাটক বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ধন মিয়া (৩৫) নামে এক  মাদক চোরাকারবারি  নিহত  হয়েছেন।

র‌্যাব-১০ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার  মহিউদ্দিন ফারুকী জানান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-১০ সদস্যরা মঙ্গলবার ভোরে উপজেলার সোনারামপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় নারায়ণগঞ্জ থেকে একটি মাদকের চালানসহ ধন মিয়া সেখানে পৌঁছালে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি  ছুড়ে। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছুড়লে ধন মিয়া ঘটনাস্থলেই মারা যান। এসময় তার কাছ থেকে ১১ হাজার ৭০০ ইয়াবা, নগদ ৪৮ হাজার ৭০০টাকা ও একটি পিস্তল ও  প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।তার স্ত্রী আরজিনা বেগমকে আটক করা হয়েছে।

ধন মিয়ার বিরুদ্ধে থানায় ৪টি মামলা রয়েছে। তিনি উপজেলার মরিচাকান্দি গ্রামের হোসেন মিয়ার ছেলে।

ঢাকাটাইমস/২২মে/এমআর/ওআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত