প্রাথমিকের মানোন্নয়নে ৩৮ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২২ মে ২০১৮, ২৩:১২ | প্রকাশিত : ২২ মে ২০১৮, ২২:৫৯

প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে ৩৮ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকার একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার। সরকার বলছে, এই প্রকল্প টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সহায়ক হবে। 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নেয়া পাঁচ বছর মেয়াদী এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হবে আগামী জুলাইয়ে। চলবে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত।

চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) শীর্ষক প্রকল্পটি মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেয়েছে।  শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল অনুমোদিত প্রকল্প বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তরিত জানন। তিনি বলেন, পিইডিপি-৩ কর্মসূচির ধারবাহিকতায় পিইডপি-৪ হাতে নেয়া হয়েছে।

কর্মসূচিতে  সরকারের নিজস্ব তহবিল হতে ব্যয় হবে ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা। বাকি ১২ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীর ঋণ ও অনুদান হিসেবে দেবে।

উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা, ডিএফআইডি, ডিফাট (অস্ট্রেলিয়া), গাক (কানাডা) ও ইউনিসেফ।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এটি আমাদের স্বপ্নের কর্মসূচি। প্রাথমিক শিক্ষা খাতের অবকাঠামোসহ অন্যান্য ক্ষেত্রের উন্নয়নে প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এবারের কর্মসূচির বেশিরভাগ অর্থ ব্যয় হবে গুণগত মান তথা উৎকর্ষ সাধনে।’

‘এজন্য প্রি-প্রাইমারি এবং প্রথম হতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বর্তমান পাঠ্যসূচির সংশোধন এবং সব স্কুলে প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিত করা হবে।’

দেড় লাখেরও বেশি শিক্ষক নিয়োগ

প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এক লাখ ৬৫ হাজার ১৭৪ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।

এর বাইরে এক লাখ ৩৯ হাজার ১৭৪ জন শিক্ষকের ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন প্রশিক্ষণ, প্রতি শিক্ষককে বিষয়ভিত্তক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিদেশে মাস্টার্স ও প্রশিক্ষণ, আইসিটি প্রশিক্ষণ, নেতৃত্বের প্রশিক্ষণসহ মানোন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রয়োজনে তৃতীয় আরও একটি ভাষা শেখানোর ব্যবস্থা করা হবে।’

‘আমরা যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা করব’-বলেন প্রতিমন্ত্রী।

স্কুলের আঙ্গিনা পরিস্কার রাখার ব্যাপারে শি্ক্ষার্থীরা সচেতনতা সৃষ্টির জন্য নম্বর দেয়ার চিন্তা করতেও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ছাত্রজীবেন আমাদের স্কুল পরিস্কার করতে কাজ করতাম। স্কুলে ফুলের বাগান করতাম।’  

চিনিকল বাঁচাতে বিশেষ নির্দেশনা

সভায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি ১৪টি চিনিকলে বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপনের প্রকল্পও সায় পেয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি অনুমোদের সময় বিদ্যমান ১৫টি সরকারি চিনিকল বাঁচাতে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

চিনিকলগুলো বর্তমানে বছরের তিন মাস চিনি উৎপাদনে থাকে। বাকি নয় মাস বন্ধ না রেখে চিনিকলগুলোকে রিফাইনারি (পরিশোধনাগার) হিসাবে ব্যবহার করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য বিদেশ থেকে অপরিশোধিত চিনি আমদানির কথা বলেছেন তিনি।

চিনি উৎপাদনের কাঁচামাল হিসেবে আখের পাশাপাশি সুগার বিটের প্রচলন ও উৎপাদন বাড়ানোর কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

অনুমোদিত অন্য প্রকল্প

অনুমোদন করা সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মায় রেলসেতু। ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার এই সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে চার হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদকালও আরও দুই বছর বাড়নো হয়েছে।

যদিও প্রকল্পের মূল কাজ এখনও শুরু হয়নি। ব্যয় বৃদ্ধির এই টাকা বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে। অন্যদিকে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে চীনের ঋণ সহায়তা কমেছে। এতে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াল ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের মূল বরাদ্দ ছিল ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটা টাকা।

মোট ব্যয়ের মধ্যে ২১ হাজার ৩৬ কোটি টাকা চীন থেকে পাওয়া যাবে। মূল প্রকল্পে চীন থেকে ২৪ হাজার ৭৪৯ কোটি টাকা পাওয়ার আশা করা হয়েছি। তবে ঋণ কম পাওয়া গেছে তিন হাজার ৭১৩ কোটি টাকা।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ব্যয় বাড়ার অন্যতম কারণ হলো ভূমি অধিগ্রহণ। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী মূল দামের  চেয়ে তিনগুণ বেশি দামে এই ভূমি অধিগ্রহণ করতে হচ্ছে- যাতে চীন রাজি হয়নি। তাই  দেশীয় অর্থেই এই ব্যয় মেটানো হচ্ছে।

অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে: ৮ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা ব্যয়েরয় রুপসা ৮০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, দুই হাজার ৩৮৭ কোটি টাকায় কন্সট্রাকশন অব নিউ ১৩২/৩৩ কেভি এন্ড ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন আন্ডার ডিপিডিসি প্রকল্প (১ম সংশোধিত); দুই হাজার ১০৩ কোটি টাকায় যশোর, কক্সবাজার, পাবনা ও নোয়াখালীর চারটি মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপন; ৮০৬ কোটি টাকায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস এর উন্নয়ন (১ম পর্যায়),  ৭৫ কোটি টাকায় তথ্য কমিশন ভবন নির্মাণ ও ৫৬ কোটি টাকায় বাংলাদেশ বেতারের সিলেট কেন্দ্র আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল সম্প্রচার যন্ত্রপাতি স্থাপন।

এর বাইরে ৩৯৪ কোটি টাকায় সাতক্ষীরা সড়ক ও সিটি বাইপাস সড়ককে সংযুক্ত করে সংযোগ সড়কসহ তিনটি লিংক রোড নির্মাণ, ১৬৮ কোটি ৫২ লাখ টাকায় ঢাকার তেজগাঁওয়ে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ফ্লাট নির্মাণ,  এক হাজার ২৯৩ কোটি টাকায় আশুগঞ্জ অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার নদী বন্দর স্থাপন, ৮৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীর ভূমিতে পিলার স্থাপন, তীর রক্ষা, ওয়াকওয়ে ও জেটিসহ আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ, ৬১২ কোটি টাকায় ১৯টি পৌরসভা অবকাঠামো উন্নয়ন (৩য় সংশোধিত), ৫৫০ কোটি টাকায় ঢাকা মহানগরীর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং খাল উন্নয়ন, ৭১১ কোটি টাকায় পাঁচটি র‌্যাব ফোর্সেস ট্রেনিং স্কুল কমপ্লেক্স নির্মাণ (১ম সংশোধিত) সভায় অনুমোদিত হয়েছে।

ঢাকাটাইমস/২২মে/জেআর/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত