খুলনায় মাদকের ‘গুরু’ ২৪, ‘কারবারি’ ১৫৪

শেখ আবু হাসান, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ মে ২০১৮, ০৯:১১ | প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৮, ০৮:৪৭
ফাইল ছবি

খুলনায় উপজেলা পর্যায়ে মাদকের কারবারে জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২৪ জনের নাম উঠে এসেছে। এরা মাদকের খুচরা কারবারি, পরিবেশকদের পৃষ্ঠপোষকতা ও আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন বলে তথ্য আছে।

এরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মাদক বিক্রয়ে সহযোগিতা করেন বলে একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তালিকাভুক্তদের নজরদারিতে রাখার কথা জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

এই মাদকের গুরুদের মধ্যে যারা রাজনীতিক, তাদের সিংহভাগই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত। একজন আছেন যিনি বিএনপির একটি সহযোগী সংগঠনের নেতা। আর পুলিশের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত মাদকের গুরু বা মাঠ পর্যায়ে মাদক বিক্রেতা বলে তথ্য আছে গোয়েন্দাদের কাছে।

সারাদেশে মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলেও এদের কারও বিরুদ্ধে এখনও ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ নিয়ে খুলনায় নানা সমালোচনাও আছে।

‘গুরু’ যারা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদেও সূত্রে জানা গেছে, ওই তালিকায় তেরখাদা, রূপসা ও দিঘলিয়া উপজেলার একজন করে ইউপি চেয়ারম্যান, রূপসার একটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, জেলা যুবলীগের একজন শীর্ষ নেতা, দাকোপ উপজেলা ছাত্রলীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা, জেলা আওয়ামী লীগের একজন নেতা, দিঘলিয়ার একজন ছাত্রলীগ কর্মী, দাকোপের বানিয়াশান্তা বাজারের এক বাসিন্দা, চালনা বাজার দাকোপের একজনের নাম আছে। এছাড়া তেরখাদার কাটেঙ্গা এলাকার দুই জনের নাম আছে।

একই তালিকায় ১২ জন পুলিশ কর্মকর্তারও নাম রয়েছে। এদের মধ্যে দুই জন দুটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, একজন একটি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, চার জন উপপরিদর্শক (এসআই), চার জন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবং একটি ক্যাম্পের দয়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা

এই তালিকায় গত ১৫ মের ভোটে জয়ী দুই জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরেরও নাম আছে বলেও নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই দুই জন ২০১৩ সালেও কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। তবে এদের বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত কোনো মামলা নেই।

খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে পুলিশ কর্মকর্তা বহু

গুরুদের’ পাশাপাশি মাদকের পাচারকারী, পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতাদেরও একাধিক তালিকা রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় নগরীতে ১৫৪ জন মাদক বিক্রেতা ও চোরাকারবারির নাম রয়েছে। একাধিক কর্মকর্তা ঢাকাটাইমসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এমনকি তারা নামগুলোও প্রকাশ করেছেন।

এই তালিকায় আছে শ্রমিক লীগের দুই জন নেতা, একটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, একটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, একটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, খাদ্য গুদাম শ্রমিক ইউনিয়নের একজন নেতা, একটি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি, বিএনপির সহযোগী সংগঠন সেচ্ছাসেবক দলের একটি থানা শাখার আহ্বায়ক, একটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নাম।

এদিকে তালিকায় থাকা বেশ কয়েকজনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা তাদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উদ্দেশ্যমূলক ও ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন।

সদর থানার দুইজন এসআই, দৌলতপুর থানার একজন এসআই, মহেশ্বরপাশা ফাঁড়ির একজন এএসআই, খালিশপুর থানার দুই জন এসআই, খালিশপুর থানার একজন এসআই ও এক জন এএসআই, খানজাহান আলী থানার তিন জন এসআই, খানজাহান আলী থানার দুই জন কনস্টেবল, লবণচরা থানার একজন এসআই ও একজন এএসআই এবং একটি ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নামও আছে এই তালিকায়।

এ সব বিষয়ে জানতে চাইলে খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী উপকমিশনার (গণমাধ্যম) সোনালী সেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘তালিকায় যে সকল পুলিশ সদস্যের নাম পাওয়া গেছে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। আমরা অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ‘শীর্ষ ১০ তালিকা’ও রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির উপ-পরিচালক রাশেদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে এ সব তালিকাভূক্ত মাদক বিক্রেতাদের নজরদারিতে রেখেছি। তাদের সকলের গতিবিধি আমাদের নজরে রয়েছে। মাদকের কারবাবিদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

ঢাকাটাইমস/২৩মে/এসএএইচ/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত