উরুগুয়েন কোচের চোখে বিশ্বকাপে ফেবারিট যারা

ক্রীড়া ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৪ মে ২০১৮, ১৮:০০ | প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৮, ১৮:২২

এবারের বিশ্বকাপে সবচেয়ে অভিজ্ঞ কোচ হলেন উরুগুয়ের অস্কার ওয়াশিংটন তাবারেজ। কোনও একটি দেশকে বিশ্বকাপে সর্বাধিক ম্যাচে কোচিং করানোর অনন্য রেকর্ড রয়েছে তাঁর। অস্কার তাবারেজের বয়স ৭১ বছর। ১৯৯০ সালে ইতালিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও উরুগুয়ে দল তাঁর কোচিংয়ে খেলেছিল। শুধু সিনিয়র নয়, জুনিয়র এজ গ্রুপের প্রতিটি স্তরে জাতীয় দলকে তিনি কোনও না কোনও সময়ে কোচিং করিয়েছেন। সেই অস্কার ওয়াশিংটন তাবারেজের এক খোলামেলা সাক্ষাৎকার নিচে দেওয়া হলো।

প্রশ্ন: গ্রুপ নির্ধারীত হওয়ার পর অনেকেরই মনে হয়েছে, রাশিয়ায় উরুগুয়ে সহজ গ্রুপে রয়েছে। এই ব্যাপারে আপনার কী মন্তব্য?

তাবারেজ: এরকম মতপোষণকারীদের সঙ্গে আমি একমত নই। আয়োজক দেশের সঙ্গে একই গ্রুপে থাকা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। কারণ, ঘরের মাঠে খেলা বলে রাশিয়ার সমর্থকরা বাড়তি উদ্দীপ্ত থাকবেন। জাতীয় দল তথা ফুটবলারদের সাফল্যের জন্য ওঁরা সারাক্ষণ গলা ফাটানোর জন্য তৈরি।

প্রশ্ন: রাশিয়া ছাড়াও গ্রুপ-এ’তে আপনাদের সঙ্গে রয়েছে মিশর ও সৌদি আরব। সেক্ষেত্রে কি রাউন্ড অব সিক্সটিনের পথ কি উরুগুয়ের কাছে সহজ হবে?

তাবারেজ: বিশ্বের সেরা ৩২টি দলই রাশিয়া বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করছে। এর অর্ধেক নক আউট পর্যায়ে পৌঁছাবে। তাই রাউন্ড অব সিক্সটিনে ওঠা যথেষ্ট কঠিন। কাগজে-কলমে করা হিসেবের সঙ্গে এর তুলনা টানা অনর্থক। আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য থাকবে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নেওয়া। কিন্তু আবার বলছি, বিশ্বকাপে এই পর্যায়ে উন্নীত হওয়া সহজ নয়।

প্রশ্ন: ঠিকই বলেছেন । তবে রাশিয়ার থেকে ব্রাজিল বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে কি আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল উরুগুয়ের সামনে? পরপর ইংল্যান্ড ও ইতালির বিরুদ্ধে খেলতে হয়েছিল আপনার দলকে। তা সত্ত্বেও সেবার রাউন্ড অব সিক্সটিনে পৌঁছেছিল উরুগুয়ে।

তাবারেজ: চার বছর আগে ব্রাজিল বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই আমরা হেরেছিলাম ক্রোয়েশিয়ার কাছে। কাভানির গোলে লিড নিয়েও ১-৩ ব্যবধানে হারতে হয়েছিল। তারপর ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া অন্য কোনও পথ খোলা ছিল না। তাই ইউরোপের দুই সুপার পাওয়ার ইংল্যান্ড ও ইতালির বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ফুটবল খেলে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলাম। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে কেউ কি ভেবেছিল, ইংল্যান্ড ও ইতালির মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেবে এবং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে কোস্টারিকা? এটাই বিশ্বকাপ ফুটবলের মহিমা।

প্রশ্ন: আগামী ১৫ জুন একেটেনবার্গে প্রথম ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি উরুগুয়ে। প্রতিপক্ষের সেরা অস্ত্র মহম্মদ সালাহ দুরন্ত ছন্দে রয়েছেন। তাঁকে থামানোর জন্য কী পরিকল্পনা?

তাবারেজ: একাধিক ম্যাচে সেরা পারফরম্যান্স মেলে ধরছে সালাহ। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে লিভারপুলকে তোলার নেপথ্যে ওর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। গতিসম্পন্ন এই ফুটবলারটি বক্সের ভিতর যে কোনও পজিশন থেকে গোল করতে ওস্তাদ। তবে ফুটবল দলগত সংহতির খেলা। বিশ্বকাপে ভালো খেলার জন্য সালাহর প্রয়োজন সহ-ফুটবলারদের সহযোগিতা। মিশর এবারের প্রতিযোগিতায় অন্যতম ডার্ক হর্স। অনেক হিসেবেনিকেশই বদলে দিতে পারে ওরা। তাই প্রথম ম্যাচের আগে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। যে কোনও প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচ সবসময়েই কঠিন হয়। অভিষেক ম্যাচ জিততে পারলে মানসিকভাবে উদ্দীপ্ত হওয়া সম্ভব।

প্রশ্ন: ব্রাজিল বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও ইতালির মত ইউরোপের দুই দলকে হারিয়ে উরুগুয়ে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিয়েছিল। কিন্তু তারপর লাতিন আমেরিকারই কলম্বিয়ার কাছে হার মেনে বিদায় নিতে হয়েছিল আপনার দলকে। সাসপেনশনের কারণে লুই সুয়ারেজ না খেলায় কি উরুগুয়ের সমস্যা হয়েছিল?

তাবারেজ: কোনও একজন ফুটবলারের অভাব বুঝতে না দেওয়ার জন্য বাকিদের তৈরি রাখা কোচের কর্তব্য। আমরা সেরকমভাবেই তৈরি হয়েছিলাম। কিন্তু মানতে দ্বিধা নেই যে, কলম্বিয়া আমাদের থেকে ভালো খেলেই ম্যাচ জিতেছিল। তবে গ্রুপের শেষ ম্যাচে চেলিনিকে কামড়ানোর জন্য লুই সুয়ারেজকে নিয়ে হইচই শুরু করেছিল মিডিয়া। যা হয়ে গিয়েছে তা ভেবে লাভ নেই। ব্রাজিল বিশ্বকাপ এখন অতীত। এই মুহূর্তে আমাদের ভাবনায় শুধুই রাশিয়া।

প্রশ্ন: উরুগুয়ে কোচ হিসেবে দ্বিতীয় ইনিংসে এটা আপনার তৃতীয় বিশ্বকাপ। গত দু’বার আপনি রাউন্ড অব সিক্সটিনে পৌঁছেছিলেন। এবার উরুগুয়ের কতদূর যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আপনার ধারণা?

তাবারেজ: আমি আগেই বলেছি, প্রাথমিক লক্ষ্য নক-আউট পর্যায়ে উন্নীত হওয়া। সেই পর্বে পৌঁছালে পরের লক্ষ্য স্থির করব। এখন আমি শুধু গ্রুপের তিনটি ম্যাচ নিয়েই ভাবছি। ম্যাচ বাই ম্যাচ ভেবেই এতদিন কোচিং করিয়েছি। তাই খুব দূরের পরিকল্পনা করা আমার ধাতে নেই।

প্রশ্ন: ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় আপনার প্রশিক্ষণাধীন উরুগুয়ে সেমি-ফাইনালে পৌঁছেছিল। ২০০৬ সালে দ্বিতীয়বার জাতীয় দলের দায়িত্ব পাওয়ার পর সেটাই ছিল আপনার সেরা সাফল্য। এই প্রসঙ্গে কী বলবেন?

তাবারেজ: সত্যিই, দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে আমরা দুর্দান্ত খেলেছিলাম। ৩২টি দেশের মধ্যে থেকে শুরু করে শেষ চারে পৌঁছানো মুখের কথা নয়। তবে সেবার আরও ভালো ফল করতে পারত উরুগুয়ে। অন্তত কোচ হিসেবে আমি সেটাই ভাবব।

প্রশ্ন: বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতায় আপনার খুব কাছাকাছি থাকবেন জার্মানির জোয়াকিম লো। এটা তাঁর তৃতীয় বিশ্বকাপ? এই প্রসঙ্গে কী বলবেন?

তাবারেজ: জোয়াকিম লো খুবই দক্ষ কোচ। বিশ্বকাপ ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই উনি রাশিয়ায় যাবেন। ২০১০ সালে লো’র জার্মানির কাছে আমরা সেমি-ফাইনালে হেরেছিলাম। ২০১৪’য় তো উনি অসাধ্য সাধন করেছিলেন। লাতিন আমেরিকার মাটি থেকে প্রথম ইউরোপিয়ান দেশ হিসেবে জার্মানি কাপ জিতেছিল। আর সেই দেশের প্রশিক্ষক ছিলেন উনি।

প্রশ্ন: রাশিয়া বিশ্বকাপে আপনার ফেভারিট কারা?

তাবারেজ: ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে জার্মানি প্রথম ও ব্রাজিল দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তাই ওদেরকে তো সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নদের তালিকায় রাখতে হবেই। বাছাই পর্বে আর্জেন্টিনা আহামরি না খেললেও স্রেফ লিও মেসির জন্য সাম্পাওলি-ব্রিগেড বিপক্ষের রাতের ঘুম কেড়ে নিতে পারে। একই কথা প্রযোজ্য ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালের ক্ষেত্রে। ইউরোপে খেলা হচ্ছে বলে স্পেন এবং ফ্রান্সকেও অগ্রাহ্য করা সম্ভব নয়। এছাড়া আমরাও অর্থাৎ উরুগুয়ে সেরা পারফরম্যান্স মেলে ধরার জন্য তৈরি। তবে বিশ্বকাপের মত আসরে ফেভারিট চিহ্নিত করা উচিত হবে না। কারণ, এই প্রতিযোগিতা আপনাকে চমক দেওয়ার জন্য সবসময় তৈরি।

(ঢাকাটাইমস/২৩মে/ডিএইচ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত