জর্দায় কাপড়ের রং, হালিমে জীবন্ত পোকা!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৩ মে ২০১৮, ২২:১৭ | প্রকাশিত : ২৩ মে ২০১৮, ২০:৪৯

চালের তৈরি জর্দায় লালচে রং আনতে টেক্সাইল রং (কাপড়ের রং) ব্যবহারের অভিযোগে রাজধানীর একটি রেস্টুরেন্টকে চার লাখ টাকা জরিমানা করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বুধবার দুপুর তিনটার দিকে ধানমন্ডির ৫/এ বিকল্প টাওয়ারের দাওয়াত-ই মেজবান রেস্টুরেন্টকে এই জরিমানা করা হয়।

এসময় বাসি-পচা খাবার বিক্রির দায়ে জিগাতলার ইউনাইটেড ক্যাটারিং অ্যান্ড কাবাব হাউজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে আদালত।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে র‌্যাব-২ ও বিএসটিআই যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান শেষে সারওয়ার আলম জানান, দাওয়াত-ই মেজবান রেস্টুরেন্টটির বাইরের ফিটফাট হলেও ভেতরের অবস্থা খুবই নাজুক। তারা কিচেনে কয়েক দিন আগে ভেজে রাখা মাছ রেখে দিয়েছিল। এছাড়া পচা দুর্গন্ধ চিংড়ি তাদের ফ্রিজে পাওয়া গেছে। স্টোরে রাখা কোয়েল পাখির ডিমগুলো ভাঙা ও পচা ছিল।

ম্যাজিস্ট্রেট জানান, অভিযানের শেষ ভাগে রেস্টেুরেন্টের একটি বাস্কেট থেকে কাপড়ের রং উদ্ধার করা হয়। চালের তৈরি জর্দায় লাল রং আনতে এই বিষাক্ত রং ব্যবহার করা হতো। ফুড গ্রেডের রংয়ের দাম বেশি হওয়ার কারণে তারা কাপড়ের রং ব্যবহার করত। কাপড়ের রং মানব শরীরের জন্য বিশাল ক্ষতিকর জেনেও তারা অতি মুনাফার জন্য এই জঘন্য কাজ করে আসছিল।

প্রতিষ্ঠানটির ইনচার্জ ইমন হাওলাদার ঢাকাটাইমসকে জানান, গতরাতের ইফতার ও সেহেরির পর তারা অগোছালো রেখেই চলে গিয়েছিলেন। তাই কিচেনে কিছুটা অপরিষ্কার রয়েছে। মাছগুলো কেন ভেজে রাখা ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইফতারে দ্রুত কাস্টমারকে সার্ভিস দিতে আদা ভাজা করে রাখা হয়েছিল।

কাপড়ের রং ব্যবহার সম্পর্কে তিনি বলেন, রমজানে তাদের এখানে জর্দা তৈরি হয় না। তবে আগে তারা ওই রং ব্যবহার করতেন। ফুড গ্রেডের রংয়ের বেশি দাম হওয়ায় এটা ব্যবহার করা হতো বলে জানান তিনি।

এদিকে র‌্যাব জিগাতলার ইউনাইটেড ক্যাটারিং অ্যান্ড কাবাব হাউজে অভিযান চালিয়ে হালিমে দেওয়া বেরেস্তায় (পেঁয়াজ ভাজা) জীবন্ত পোকা দেখতে পায়। এছাড়া কয়েক দিনের পুরাতন জিলাপি ও রান্না ঘর স্যাঁতস্যাচে ও নোংরা পরিবেশের কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির মালিক ইমরান হোসেন জানান, দুই দিন আগের পেঁয়াজ ভাজা ফেলে দেওয়ার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো ক্রেতাদের হালিমে দেওয়া হতো না বলে দাবি করেন তিনি। পুরাতন জিলাপি কেন ফ্রিজে জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

(ঢাকাটাইমস/২৩মে/এসএস/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত