বিশ্বকাপে ছোট দেশের বড় তারকা

নিয়ামুল আযীয সাদেক
| আপডেট : ২৪ মে ২০১৮, ১৯:২১ | প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৮, ১২:০২

আয়তনে বা ফুটবল বিশ্বকাপের দল হিসেবে যেসব দলগুলোকে হয়তো অনেকেই খুব গুরুত্ব দেয় না। ইতালি, নেদারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ের মতো দলগুলোকে এই ছোট দলগুলো পেছনে ফেলে উঠে এসেছে মূলপর্বে। এই অবদানের জন্য যেসব তারকা অবদান রেখেছেন তারাও বিশ্বকাপে ঝলসে উঠতে পারেন। সেনেগালের রুপকথা পাপা দিওবা ফ্রান্সকে হারিয়ে দিয়েছিল একটি গোলে। এমন অনেক দেশ আছে যাদের দেশ হিসেবে সমীহ না করলেও দলের তারকা ফুটবলারের কারণে পরিচিত। বড় আসরে নিজ গুণে খ্যাতিমান তারকাদের নিয়ে আয়োজন ছোট দেশের বড় তারকা।

মিশর, আল সালাহ

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে পিরামিডের দেশ মিশর। শেষ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর গোলে কঙ্গোকে হারিয়ে মূলপর্বে ওঠে মিশর। এর আগে ১৯৩৪ সালে প্রথম আফ্রিকান হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় দেশটি। মিশর যাকে নিয়ে গ্রুপ পর্বের বাঁধ টপকানোর স্বপ্ন দেখে তার নাম মোহাম্মদ সালাহ। জাতীয় দলে ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলেন সালাহ। ক্লাব ফুটবলে খেলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের দল লিভারপুলের হয়ে। লিভারপুলের হয় এই আসরে বেশ ভালোই খেলছে সালাহ। প্রিমিয়ার লীগ ১৭/১৮ সেশনে এখন পর্যন্ত ৪ গোল করেছেন। নিজে গোল করতে সহযোগিতা করেছেন একটি। এখন পর্যন্ত মিশর ওয়ার্ল্ডকাপ ফুটবল আসরের মাত্র ৩ টি আসরের জন্য কোয়ালিফাইড হয়েছে। তবে এবারের আসরে বাছাইপর্ব টপকানোর কৃতিত্ব এই তারকা ফুটবলারের।

এই মোহাম্মদ সালাহ ইজিপ্ট অনুর্ধ-২০ এর হয়েও ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেন ২০১১ সালে এবং ২০১২ তে সামার অলিম্পিকে। ২০১২ তে সালাহ সিএএফ মোস্ট প্রমিসিং আফ্রিকান প্লেয়ার নির্বাচিত হন। তখন তিনি খেলতেন বাসেল এর হয়ে এবং বাসেলের হয়ে সুইস সুপার লীগ ও জিতেন সালাহ।  এরপর ২০১৪ তে যোগ দেন ইংলিশ ক্লাব চেলসিতে। কিন্তু চেলসির হয়ে ১৩ ম্যাচে মাঠে নেমে লোনে পাঠানো হয় সিরি-এ ক্লাব ফিওরেন্তিনাতে। এরপর আবার লোনে যোগ দেন একই লীগের ক্লাব এস রোমাতে এই স্পীডস্টার। রোমার হয়ে দুই মৌসুমে প্রায় ৬৫ ম্যাচ খেলেন তিনি এবং বেশ সাড়া জাগান রোমার হয়ে। পরবর্তীতে ২০১৭-১৮ মৌসুমের আগে ট্রান্সফার উইন্ডোতে মোহাম্মদ সালাহ কে দলে ভেড়ান লিভারপুল। ৩৬.৯ ডলারে এর বিনিময়ে লিভারপুলে যোগ দেন সালাহ। 

সেনেগাল, সাদিও মানে

বিশ্বকাপের ২০০২ আসরে প্রথমবারের মতো সুযোগ পেয়েই বাজিমাত সেনেগাল। কিন্তু এরপর টানা ৪ আসরে মূলপর্বে খেলেনি দেশটি। এবার যার হাত ধরে আফ্রিকার সেনেগাল রাশিয়া বিশ্বকাপে নাম লিখেছে তিনি লিভারপুলের তারকা ফুটবলার সাদিও মানে। গেল আসরে লিভারপুলের হয়ে দারুণ এক হ্যাট্রিক করে দলকে কোয়ার্টার পর্যন্ত টেনে তুলেন তিনি। এ সেনেগালিজ মিডফিল্ডারকে দলে ভেড়াতে লিভারপুলের ব্যয় ৩৬ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করতে হয়েছে। এর আগে সাউদাম্পটনের হয়ে খেলেও কম সময়ে হ্যাট্রিক করে রেকর্ড করেন এই ফুটবলার।

আইসল্যান্ড, গিলফি সিগুর্ডসন

ফুটবল খেলার জন্য তেমন উপযোগীই নয় দেশটি। অথচ আইসল্যান্ড রুপকথার মতো ইউরো সাফল্যের পর এবার বিশ্বকাপে রঙ্গীন কিছু করার স্বপ্ন দেখছে। যার মূলে রয়েছে গিলফি সিগুর্ডসন। বড় কোন অঘটন ঘটাতে আইসল্যান্ডবাসীর চোখ থাকবে এভারটনের তারকা গিলফির দিকে। বাছাইপর্বে দেশের হয়ে একাই করেছেন ৪ গোল। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বাছাইপর্বে হেরে বিশ্বকাপের সম্ভবনা যখন ক্রমশ ফিকে হয়ে যাচ্ছিল তখন আইসল্যান্ডের গিলফি সিগুর্ডসনের বদান্যতায় দলটি টানা তুরস্ক, ইউক্রেন ও কসোভোকে হারিয়ে ফুটবল ইতিহাসের মানচিত্রে স্থান করে নেন। এভারটনের প্লেমেকার এই তারকা ফুটবলার বিপক্ষ দলের অস্বস্থির কারণ হওয়ার যথেষ্ঠ কারণ আছে।

উত্তর কোরিয়া, কোউন চেং হুন

দলের অন্যতম বড় এই খেলোয়াড় বর্তমান মৌসুমে ফ্রেঞ্চ ক্লাব ডিওন এফসির হয়ে ১১ গোল করেছে ইনফর্ম এই মধ্যমাঠের কারিগর। তবে দুঃখের সংবাদ হলো ফ্রেঞ্চ লিগের শেষ ম্যাচে এঙ্গারসের বিপক্ষে মাঠে নেমে কোউন চেং হুন ইনজুরিতে পড়েন।দলের অন্যতম বড় এই খেলোয়াড় বর্তমান মৌসুমে ফ্রেঞ্চ ক্লাব ডিওন এফসির হয়ে ১১ গোল করেছে ইনফর্ম এই মধ্যমাঠের কারিগর।

পানামা, রোমান তোরেস

১৯৭৪ সালের আগে পানামা বিশ্বকাপের বাছাই পর্বই খেলতে পারেনি। মাত্র ৪০ লাখ জনসংখ্যার ছোট্ট একটি দেশ পানামা এবার বিশ্বকাপের ভাগ্য সমুজ্জল করেছে যে তার নাম রোমান তোরেস। লম্বা কেশের অধিকারী সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার রোমান তোরেস দেশের কাছে জাতীয় বীর। কোস্টারিকার বিপক্ষে গাব্রিয়েল তোরেসের গোলের পর শেষ মিনিটে শেষ মিনিটে দারুণ এক হেডে দেশকে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে নিয়ে যায় রোমান। যার ফলশ্রুতিতে একদিনের ছুটিও ঘোষণা হয় দেশটিতে।

ইরান, আলিরেজা জাহানবক্স

ইরানীদের আশার প্রতীক হয়ে থাকবেন আলকামার-এর হয়ে খেলা উইঙ্গার ও মিডফিল্ডার ২৪ বছর বয়সী আলিরেজা জাহানবক্সের ওপর।ইউরোপের বড় কোন লীগে এশিয়ার প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এ বছর সর্বোচ্চ গোলের মালিক হন জাহানবক্স। লীগে তার মোট গোল ছিল ২১টি।নেদারল্যান্ডসের ঘরোয়া লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা আলিরেজা জাহানবক্স থাকবেন দলের প্রাণভোমড়া হিসেবে। ইরানের ফুটবল ইতিহাসে পরপর দুটি বিশ্বকাপ খেলার অনন্য দৃষ্টান্ত গড়তে যাচ্ছেন তিনি।

মরক্কো, মেহেদি বেনাটিয়া 

আয়াতনে বাংলাদেশের ৩ গুন হলেও জনসংখ্যায় মাত্র সাড়ে তিন কোটি। আয়াতনে বাংলাদেশের ৩ গুন হলেও জনসংখ্যায় মাত্র সাড়ে তিন কোটি।জুভেন্টাসের সেন্টার ব্যাক মেহেদি বেনাটিয়া রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে।ছাড়া  উইঙ্গার নাবিল দিরার, আশরাফ লাজার যে কোন দলের জন্য হুমকি হতে পারে।

লেখক: নিয়ামুল আযীয সাদেক, সাংবাদিক

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত