ঈদে ট্রেনের আগাম টিকিট ১ জুন থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৪ মে ২০১৮, ১৭:৩৮ | প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৮, ১৩:৫৬
ফাইল ছবি

ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ ১৬ জুন ধরে ১ জুন থেকে ট্রেনের আগাম টিকিট দেয়ার ঘোষণা এসেছে। বিক্রি চলবে ৬ জুন পর্যন্ত।

এর আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে ২ জুন থেকে আগাম টিকিট বিক্রির কথা শোনা গিয়েছিল। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে টিকিট বিক্রি একদিন এগিয়ে আনা হয়।

বৃহস্পতিবার রেলভবনে সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। জানান, ঈদের পর ফিরতি যাত্রার টিকেট বিক্রি হবে ১০ থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত।

মন্ত্রী জানান, প্রথম দিন দেয়া হবে ১০ জুনের টিকিট। ২ জুন পাওয়া যাবে ১১ জুনের টিকিট, ৩ জুন মিলবে ১২ জুনের টিকিট। একইভাবে ৪, ৫ ও ৬ জুন দেয়া হবে যথাক্রমে ১৩, ১৪ ও ১৫ জুনের টিকিট।

এবার সারাদেশে ঈদে প্রতিদিন দুই লাখ পঁচাত্তর হাজার টিকিটি বিক্রি করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এর মধ্যে শতকরা ২৫ ভাগ টিকিট বিক্রি হবে অনলাইনে। বাকিগুলো কাউন্টার থেকে দেয়া হবে।

কমলাপুর থেকে প্রতিদিন সকাল আটটায় ঈদের আগাম টিকিট দেয়া হবে। একজন যাত্রী চারটির বেশি টিকিট সংগ্রহ করতে পারবে না। এবার ২৬টি কাউন্টারে টিকিট দেয়া হবে এবং নারীদের জন্য দুইটি কাউন্টারে টিকিট দেয়া হবে।

এক প্রশ্নে মন্ত্রী জানান, স্বাভাবিক সময়ে আন্তঃনগর ট্রেনে যতগুলো বগি থাকে, ঈদের সময় বাড়ানা হয় সে সংখ্যা। বলেন, ‘আমাদের রেল বহরে এবারও অতিরিক্ত কোচ বাড়বে, প্রতিদিন যা আসা যাওয়া ছিল তার চেয়ে বেশি যাবে এবার।’

ঈদে যাত্রী চাপ সামলাতে সাত জোড়া বিশেষ ট্রেন থাকবে। ঈদের তিনদিন আগে থেকে এবং ঈদের পর সাতদিন এসব ট্রেন চলাচল করবে।

বিশেষ ট্রেনের মধ্যে দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল চলবে ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা রুটে, চাঁদপুর স্পেশাল-১ এবং ২ চলবে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম রুটে, রাজশাহী স্পেশাল চলবে রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী রুটে, পার্বতীপুর স্পেশাল চলবে পার্বতীপুর-ঢাকা-পার্বতীপুর রুটে।

ঈদের দিন শোলাকিয়া স্পেশাল-১ চলবে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ভৈরব রুটে এবং শোলাকিয়া স্পেশাল-২ চলবে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ রুটে।

বরাবরের মতো এবারও ঈদ উপলক্ষে রেলের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটি বাতিল হয়েছে। টিকিট মতোই কালোবাজারি এবং নাশকতা কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণাও দেন মন্ত্রী।

মুজিবুল হক বলেন, ‘রেলের যাত্রী দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, ঈদ উপলক্ষে এই সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। আমাদের সীমিত সম্পদ দিয়ে যাত্রীদের শতভাগ সেবা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘এই রেল এক সময় শতভাগ অবহেলিত ছিল শেখ হাসিনা এ দিকে নজর দেয়ায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এ কারণে রেলের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। …যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে আমাদের চেষ্টা শতভাগ থাকবে।’

ঈদে প্রতি বছর ট্রেনে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। নিষদ্ধ থাকলেও ছাদে বসেও গন্তব্যে যায় যাত্রীরা। এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা ঠেকানোর বিষয়ে এক প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘যাত্রীরা স্বেচ্ছায় ট্রেনের ছাদে উঠে, এটা নিয়ম বর্হিভুত। বে-আইনি কোন কাজ আমরা করতে দিতে পারি না। আমাদের কর্মকর্তাদের বলা আছে, ছাদে যাতে যাত্রীরা না উঠে।’

ঈদে ট্রেন যাত্রার আরেক ভোগান্তি বেশ কিছু ট্রেনের নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে না যাওয়া। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন রাখেন সংবাদ সম্মেলনে। এর জবাব দেন রেলের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘রেলের সিডিউল বিপর্যয় আমাদের তেমন নাই, দুই একটা ট্রেন ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হয়।’

‘লালমনিরহাট এক্সপ্রেস কিছুটা বিলম্বে ছেড়ে যায়। এটার বিষয়ে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করব। বিলম্ব পরিহার করতে অন্য ট্রেন দিয়ে রিপ্লেস করে এবার ছেড়ে দেয়া হবে।’

ফিরতি টিকিট কবে?

ঈদ উদযাপন শেষে কর্মস্থলে ফেরার যাত্রীরা ১০ জুন পাবেন ১৯ জুনের টিকিট। ১১ জুন মিলবে ২০ জুনের, ১২ পাওয়া যাবে ২১ জুনের টিকিট। একইভাবে, ১৩, ১৪ ও ১৫ জুন যথাক্রমে ২২, ২৩ ও ২৪ জুনের ফিরতি টিকিট বিক্রি হবে।

সংবাদ সম্মেলনে রেলওয়ের কর্মককর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকাটাইমস/২৪মে/জিএম/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত