পুরনো সাইকেলের কদর বেশি

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযু্ক্তি ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৪ মে ২০১৮, ১৪:৫৮

ই-বাইক, কার্বন দিয়ে তৈরি হালকা আধুনিক মডেল আজ সাইকেলকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গেছে৷ কিন্তু ইউরোপে পুরানো আমলের ঐতিহাসিক সাইকেলের আকর্ষণ বেড়েই চলেছে৷ তরুণ প্রজন্মও পুরানো সাইকেল চালাতে চাইছে৷ খবর ডয়েচে ভেলের।

পেয়ার-ওলফ কিপেল যখন তার পেনি-ফার্দিং সাইকেল নিয়ে পথে বেরোন, তখন সবাই তাকিয়ে থাকে৷ সুইডেনের দক্ষিণে টুমেলিলা শহরে বসবাস করেন এই স্থপতি৷ এত উঁচু জায়গায় বসে প্রতিবার রোমাঞ্চ অনুভব করেন তিনি৷ কিপেল বলেন, ‘এমন সাইকেল খুব ভালোবাসি৷ চালাতে অসাধারণ লাগে৷ মুক্তির স্বাদ পাই৷ এই অনুভূতি ভয়, গতি, আবেগ, ভালবাসা, পাগলামি, আনন্দের এক মিশ্রণ৷’

২০১৩ সালে পেয়ার-ওলফ একাই পেনি-ফার্দিং সাইকেল তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন৷ তিনি কিন্তু কোনো ঐতিহাসিক মডেলের অনুকরণ করেন না৷ আধুনিক রূপেই সেগুলি তৈরি করেন৷ তার ‘স্ট্যান্ডার্ড হাইহুইল’ মডেলের মূল্য ১,৫০০ থেকে ১,৮০০ ইউরো৷ তিনি বলেন, ‘এটা সত্যি একটা আইকন৷ বাইসাইকেলের আইকনিক ডিজাইন৷ অত্যন্ত সহজ সরল৷ স্থপতি হিসেবে এই সহজ ডিজাইন, তার কার্যকারিতা খুব ভালো লাগে৷ কাজ অনুযায়ী ডিজাইন স্থির হয়৷’

সহজ-সরল ডিজাইন, কার্যকারিতা এবং উচ্চ মান৷ পেয়ার-ওলফ-এর হাইহুইল-গুলিকে এই সব শর্ত পূর্ণ করতে হয়৷ শুধু দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য উপযোগী করে তুলতে তিনি কিছু পরিবর্তন করেন৷ পেয়ার-ওলফ বলেন, ‘ব্যবহারিক দিক থেকে একেবারেই উপযুক্ত নয়৷ গিয়ার নেই, ব্রেক নেই৷ ব্রেক লাগানো যায় বটে, কিন্তু এই সাইকেলে কোনো ব্রেক নেই৷ পথে বাধা এলে পা নামিয়ে সাইকেল থামানোর উপায় নেই৷ তখন লাফিয়ে নেমে পড়তে হবে৷ এর কোনো ব্যবহারিক কারণ নেই৷ অন্য কারণ রয়েছে৷ মজাই হলো আসল কারণ৷’

‘বার্লিনে ঐতিহাসিক সাইকেল’ নামের এক সমিতিও সাইকেল চালানোর মজাকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়৷ সদস্যরা নিয়মিত মিলিত হয়ে তাঁদের পুরানো, ঐতিহাসিক সাইকেল নিয়ে মুক্ত প্রকৃতির কোলে বেরিয়ে পড়েন৷

বেশিরভাগ সাইকেলই বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে তৈরি হয়েছিল৷ গোটা বিষয়টিকে পূর্ণতা দিতে আরোহীরাও সেই সময়কার পোশাক পরেন৷ তবে সবারই নিজস্ব যুক্তি রয়েছে৷ কেউ বলেন, নতুনের তুলনায় পুরানো সাইকেল দেখতে অনেক সুন্দর লাগে৷ কেউ মনে করেন, পুরানো সাইকেলের চাকা এখনো কত ভালো চলে, তা দেখে মুগ্ধ হতে হয়৷ নতুন সাইকেল বড় একঘেয়ে, তাই পুরানোই ভালো৷ আরেক জনের মতে, চালাতে বেশি কষ্ট হয় না৷ তবে ব্রেক না থাকায় ঝুঁকি একটু বেশি৷

উলরিশ ফাইক শুধু ভিন্টেজ সাইকেল চালাতে ভালোবাসেন না, এটা তার পেশারও অংশ৷ কারণ বার্লিনে তার ঐতিহাসিক সাইকেলের দোকান রয়েছে, যা এক মিউজিয়ামের মতো৷ স্পেয়ার পার্টস বা যন্ত্রাংশ পেতে হলে এটাই আসল জায়গা৷ চাহিদা বেড়েই চলেছে৷ তিনি বলেন, ‘কমবয়সিরাও আরও বেশি করে পুরানো সাইকেলের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে৷ তাই চাহিদাও বাড়ছে৷ বিখ্যাত ইবে পোর্টালে খুঁজলে অবাস্তব দাম চোখে পড়ে৷ আমার মতে, বিষয়টি ভালোমন্দের উর্দ্ধে চলে গেছে৷’

আধুনিক সরঞ্জামের বদলে পুরানো উপাদান দিয়ে তৈরি সাইকেল চালানোর রোমাঞ্চই আলাদা৷ পেয়ার-ওলাফ কিপেল-এর মতো অনেকের কাছে সেটাই হলো মূল আকর্ষণ৷

(ঢাকাটাইমস/২৪মে/এজেড)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত