গুলিতে বদির স্বজন নিহত, বন্দুকযুদ্ধ নয়: পুলিশ

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৫ মে ২০১৮, ১৮:০৮ | প্রকাশিত : ২৫ মে ২০১৮, ১২:৩০

কক্সবারের মেরিনড্রাইভ সড়ক থেকে সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির এক স্বজনের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি মাদকের কারবারে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

নিহতের নাম আকতার কামাল। তিনি বদির বড় বোন শামসুন্নাহারের দেবর (স্বামীর ভাই)। তিনি টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য। আকতার তালিকাভুক্ত ইয়াবা কারবারি।

শুক্রবার ভোরে মেরিনড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর দুই নম্বর ব্রিজ এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তবে আকতারের মৃত্যু গত কয়েক দিন ধরে তুমুল আলোচিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। কর্মকর্তারা জানান, মরদেহ পড়ে থাকার খবরেই তারা ঘটনাস্থলে যান।

কক্সবাজার হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ঢাকাটাইমসকে জানান, ভোরে দরিয়ানগর সেতু এলাকায় গোলাগুলির খবর পেয়ে পুলিশ টহলে যায়। এক পর্যায়ে সেখানে সড়কের পাশে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ দেখতে পায় তারা।

মরদেহের পাশে এক হাজারটি ইয়াবা বড়ি, একটি এলজি ও চারটি গুলি পড়ে ছিল। পরে স্থানীয়রা এসে আকতার কামালকে বলে শনাক্ত করেন।

গত ৪ মে থেকে সারাদেশে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে ৭০ জনেরও বেশি মারা গেছে র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সন্দেহভাজনকে আটক করতে গেলে বা তাদেরকে নিয়ে অভিযানে বের হলে সন্দেহভাজন বা তার সহযোগীরা গুলি করে। আর পাল্টা গুলিতে নিহত হয়েছেন সন্দেহভাজন।

তবে বদির স্বজন পুলিশ বা র‌্যাবের গুলিতে নিহত হননি বলে জানিয়েছেন হিমছড়ি ফাঁড়ির পুলিশ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম। তাঁর ধারণা, প্রতিপক্ষ মাদক কারবারিদের সঙ্গে গোলাগুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন।

সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল থেকেই দেশে ব্যাপকভাবে ইয়াবার আসক্তি বেড়ে যায়। যারা ইয়াবার কারবার সারাদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছেন তাদের মধ্যে গোয়েন্দা সংস্থার তালিকায় সংসদ সদস্য বদি এবং তার স্বজনদের নাম রয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে।

মাদকবিরোধী চলমান অভিযানে সরকারকে বারবার বদিও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, বদির বিষয়ে অভিযোগ আছে, কিন্তু আরও প্রমাণ লাগবে।

২৪ মে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রমাণ পেলে বদি না, আরও কোনো প্রভাবশালী হলেও তাকে ছাড় দেয়া হবে না।

সংসদ সদস্য বদি বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেয়া প্রতিক্রিয়ায় মাদকবিরোধী এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন। বলেছেন, এই অভিযান আরও আগে শুরু হওয়া উচিত ছিল। বরাবরের মতোই তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ষড়যন্ত্র বলেছেন। বদির বাদি, জামায়াত অধ্যুষিত এলাকাটিতে তিনি স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির প্রভাব ক্ষুণ্ন করেছেন, এ কারণে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

ঢাকাটাইমস/২৫মে/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত