আইলার ৯ বছর, ক্ষত কাটেনি আজও

এম. বেলাল হোসাইন, সাতক্ষীরা
| আপডেট : ২৫ মে ২০১৮, ১৩:০০ | প্রকাশিত : ২৫ মে ২০১৮, ১২:৪২

আজ ভয়াল ২৫ মে। ২০০৯ সালের এইদিনে বিধ্বংসী ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের উপকুলজুড়ে। সর্বগ্রাসী আইলার ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও কাটেনি ক্ষত। এ অঞ্চলের উপকুলজুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত আইলা কবলিত হাজার হাজার পরিবার এখনও পুনর্বাসিত হয়নি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, আশ্রয়হীন এ জনপদে এখনও চলছে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও খাবার পানির জন্য তীব্র হাহাকার। 

২০০৯ সালের ২৫ মে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট সর্বনাশা আইলা আঘাত হানে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকুলীয় জনপদে। মুহুর্তেই সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি ও খুলনা জেলার কয়রা ও দাকোপ উপজেলার উপকুলবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। স্বাভাবিকের চেয়ে ১৪-১৫ ফুট উচ্চতায় সমুদ্রের পানি নিমিষেই ভাসিয়ে নিয়ে যায় নারী ও শিশুসহ কয়েক হাজার মানুষ, হাজার হাজার গবাদী পশু আর ঘরবাড়ি। গৃহহীন হয়ে পড়ে লাখো পরিবার। লাখ লাখ হেক্টর চিংড়ি আর ফসলের ক্ষেত তলিয়ে যায়। ধ্বংস হয়ে যায় উপকুল রক্ষা বাঁধ আর অসংখ্য ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সর্বনাশা আইলার আঘাতে শুধু সাতক্ষীরায় নিহত হয় ৭৩ জন নারী, পুরুষ ও শিশু আর আহত হয় দুই শতাধিক মানুষ। প্রলংয়করী আইলা আঘাত আনার ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও উপকুলীয় অঞ্চল সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, পদ্মপুকুর ও আশাশুনির প্রতাপনগর এলাকায় মানুষের হাহাকার এতটুকু থামেনি।দুমুঠো ভাতের জন্য জীবনের সাথে রীতিমত লড়াই করতে হচ্ছে তাদের। আইলার পর থেকে এসব এলাকায় সুপেয় পানি সঙ্কট প্রকট আকার ধারণ করেছে। খাবার পানির জন্য ছুটতে হচ্ছে মাইলের পর মাইল। আইলা কবলিত এ অঞ্চলের রাস্তাঘাট, উপকূলীয় বেড়িবাধ এখনও ঠিকমত সংস্কার হয়নি। ফলে উচ্চ বিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত সবাইকে প্রতিনিয়ত করতে হয় বেঁচে থাকার সংগ্রাম। ক্ষতিগ্রস্ত আইলা কবলিত এ বিশাল জনপদে খুবই কম সংখ্যক সাইক্লোন সেন্টার রয়েছে যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। আইলার ভয়াবহতায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ও পদ্মপুকুর ইউনিয়নে বসবাসরত মানুষের চোখে মুখে এখনও ভয়ংকর সেই স্মৃতি। আইলার আঘাতের পর থেকে গোটা এলাকা বৃক্ষ শূন্য হয়ে পড়ে। কৃষি ফসল ও চিংড়ি  উৎপাদন বন্ধ থাকায় গোটা এলাকাজুড়ে তীব্র কর্মসংস্থানের সংকট দেখা দিয়েছে। কর্মহীন মানুষ অনেকেই এলাকা ছেড়ে কাজের সন্ধানে বাইরে চলে গেছে।

অপরদিকে, বনদস্যুদের অত্যাচারে সুন্দরবন, কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়া নদীর উপর নির্ভরশীল এ এলাকার মানুষের জীবন যাপন দূর্বিসহ হয়ে পড়েছে। ফলে বিকল্প কর্মসংস্থানের কোন ব্যবস্থা না থাকায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারছেন না উপকুলীয় এ জনপদের প্রায় ৮০ হাজার মানুষ। আইলার পরপরই কিছু সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে কাজের বিনিময় খাদ্য প্রকল্পের কাজ হলেও এখন আর কোনো কাজ হচ্ছে না। আর এ কারনেই বাড়ছে দরিদ্র ও হৃত দরিদ্রের সংখ্যা। 

এদিকে, আইলার ৯ বছর অতিবাহিত হলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপকূল রক্ষা বেড়ি বাঁধগুলোর ভয়াবহ ফাঁটল দেখা দেয়ায় এবং সংস্কার না করায় সামান্য ঝড় বৃষ্টিতে ঝুকিতে থাকতে হচ্ছে এ জনপদের কয়েক লাখ মানুষের। তাই উপকুলীয় এ জনপদের মানুষের সরকারের কাছে দাবি টেকসই উপকূল রক্ষা বেড়িবাধ নির্মাণ  ও বেকার জনগোষ্ঠির কর্মস্থানের ব্যবস্থা করা।

স্থানীয় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা নওয়াবেকী গনমুখী ফাউন্ডেশন পরিচালক  লুৎফর রহমান জানান, আমরা বেসরকারি উদ্যোগে মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছি। লবন পানিকে মিষ্টি পানিতে রুপান্তরিত করে খাবার উপযোগী করছি। পুকুর খনন করেছি। তিনি আরও জানান, আইলার আঘাতের পর মানুষের জীবন ধারনের সব সুযোগ হারিয়ে গেছে। চিকিৎসা নেই। প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট সংখ্যক সাইক্লোন শেল্টারও নেই।

এ ব্যাপারে শ্যামনগর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সুজন কুমার সরকার জানান, আইলার পরে প্রায় ৪৮ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত  পরিবার প্রতি ২০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদানও দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, সরকারি-বেসরকারিভাবে আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বাঁধ সংস্কারের কাজও করা হয়েছে।  সুপেয় পানির সমস্যাও সমাধান হয়ে যাবে।

(ঢাকাটাইমস/২৫মে/প্রতিনিধি/ওআর)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত