মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে রাজনীতি নয়: হানিফ

অনলাইন ডেস্ক
| আপডেট : ২৫ মে ২০১৮, ২২:২৮ | প্রকাশিত : ২৫ মে ২০১৮, ২০:৫৭
ফাইল ছবি

দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে রাজনীতি না করতে অনুরোধ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। বলেছেন, ‘মাদক নির্মূল অভিযানকে দেশের মানুষ সাধুবাদ জানিয়েছে। কিন্তু বিএনপি নেতারা ও একশ্রেণির সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এটাকে নিয়ে রাজনীতি করছেন। বর্তমানে মাদক বিরাট আকার ধারণ করার কারণেই সরকার জিরো টলারেন্স নীতি মাথায় রেখে কঠোর অবস্থানে নেমেছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে যা হচ্ছে তা বিচার বহির্ভূত কিছু না। সুতরাং এ নিয়ে রাজনীতি করার কিছু নেই।’

শুক্রবার বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত ‘অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনের তিন দশক’ শীর্ষক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

গত ৪ মে থেকে সারাদেশে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭০ জনেরও বেশি মারা গেছে র‌্যাব-পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, সন্দেহভাজনকে আটক করতে গেলে বা তাদেরকে নিয়ে অভিযানে বের হলে সন্দেহভাজন বা তার সহযোগীরা গুলি করে। আর পাল্টা গুলিতে নিহত হয়েছেন সন্দেহভাজন। তবে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা এটা হত্যাকাণ্ড হিসেবে অভিযোগ করেছেন। অপরাধীকে আইনের আওতায় না এনে এভাবে ক্রসফায়ারের নামে হত্যার প্রতিবাদ করেছেন তারা। তাদের কথার বক্তব্যের দেন হানিফ।

শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে দেশের মানুষ নিরাপদ উল্লেখ করে হানিফ বলেন, ‘নিজেদের সংখ্যালঘু মনে করে দেশ ত্যাগের কোনো কারণ নেই। সরকারের ওপর আস্থা রাখুন। অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন সরকারকে পাশে পাবেন।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় শুধু সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত না পুরো দেশের মানুষই নির্যাতিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। দেশের প্রথিতযশা সাংবাদিক, সাধারণ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। ফলে, মনে করার কোনো কারণ নেই যে ওইসব সরকারের সময় শুধু হিন্দুরা অনিরাপদ। তাই কোনো আঘাত এলে অভিমান করে দেশ ত্যাগ নয় আসুন জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে স্বাধীনতার চেতনাসমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা করি।’

হানিফ বলেন, ‘এদেশের অনেক অনেক রাজনৈতিক দলের নেতা ধর্মকে উদ্দেশ্য স্বপ্রণোদিতভাবে ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। আমরা বিশ্বাস করি যার যার ধর্ম তারা নিরাপদে শৃঙ্খলভাবে পালন করবে।

অনুষ্ঠানে ‘অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলনের তিন দশক’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করেন আয়োজক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। তিনি তার প্রবন্ধে আগামী সংসদ জাতীয় সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের নেতা খালেকুজ্জামান, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জি এম কাদের প্রমুখ।

(ঢাকাটাইমস/২৫মে/টিএ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত