তিস্তার কথা বারবারই তুলেছেন শেখ হাসিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৬ মে ২০১৮, ১০:৫৪ | প্রকাশিত : ২৬ মে ২০১৮, ১০:৪১

 

পশ্চিমবঙ্গ সফরের উদ্দেশ্য তিস্তা চুক্তি নয়, এই বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আগেভাগেই বলে দেয়া হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিস্তা চুক্তির প্রসঙ্গটি বারবারই তুলেছেন তিনি। কখনও পরোক্ষভাবে, কখনও প্রত্যক্ষভাবে।

ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই, কলকাতার জনপ্রিয় দৈনিক আনন্দবাজারে এই প্রসঙ্গটি এসেছে নানাভাবেই।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দেয়া ছাড়াও বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি সম্মানসূক ডিলিড ডিগ্রি গ্রহণের জন্য দুই দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী এখন পশ্চিমবঙ্গে।

পশ্চিমবঙ্গ যাওয়ার দুই দিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সংবাদ মাধ্যমকে জানান, এই সফরের উদ্দেশ্য তিস্তা চুক্তি নয়। তারপরও আলোচনায় এই বিষয়টিই।

২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক হলেও বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষিত তিস্তা চুক্তি হয়নি। তবে সে সময় মোদি বলেছিলেন, দুই দেশের সরকারের চলতি মেয়াদেই এই চুক্তি হবে।

২০১১ সালেই এই চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আপত্তিতে আটকে যায় চুক্তি।

এবার প্রধানমন্ত্রীর সফরে মমতার সঙ্গে বৈঠক হয় কি না, এ নিয়ে সংশয় ছিল। তবে সফরের আগের দিন মমতা নিশ্চিত করেন, তিনি বৈঠকে বসছেন। সফরের দ্বিতীয় দিন দেশে ফেরার আগে তার সঙ্গে বসবেন মমতা।

মমতা অবশ্য ভাবছেন তিস্তা নিয়েই। তিনি আগেভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন, তিস্তা নিয়ে কথা বলবেন না। তবে শুক্রবার বিশ্বভারতীতে বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে অমীমাংসিত সমস্যার সমাধানের আশাবাদের কথা বলেছেন শেখ হাসিনা।

ভারতের বিভিন্ন দৈনিক প্রতিবেদন করেছে, এই বক্তব্যের মাধ্যমেই শেখ হাসিনা পরোক্ষভাবে তিস্তার পানির কথাই বলে দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধনের পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক ঘণ্টা একান্তে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বার্তা সংস্থা পিটিআইকে বলেছেন, দুই দেশের অমীমাংসিত বিষয়ে, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক নানা বিষয়েই কথা হয়েছে।

এক ঘণ্টার বৈঠকে অবশ্য দুই নেতা ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। আর এই বৈঠকের বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের দৈনিকগুলো যে প্রতিবেদক প্রকাশ করেছে, তার সবই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে।

তবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বার্তা সংস্থা পিটিআইকে নিশ্চিত করেছেন, এই বৈঠকে দুই পক্ষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।  

‘যদিও আমি ওই বৈঠকে ছিলাম না, তবে এটা বলতেই পারি, দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলো আলোচনা হয়েছে। এই অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়েও কথা হয়েছে।’

তিস্তার বিষয়টি আলোচনা হয়েছে কি না্, এমন প্রশ্নে শাহরিয়ার বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী আগেই বলেছেন, আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা যায়। আর আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর আস্থা রাখছি।’

আনন্দবাজার জানিয়েছে, মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর সন্ধ্যায় শহরের পাঁচতারা এক হোটেলে রাজ্যের শিল্পকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ‘হালকা মেজাজে’ তিস্তার নাম করেন শেখ হাসিনা।

বৈঠক শেষে ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট আবদুল মতলুব আহমেদ বলেন, ‘‘এ রাজ্যের এক শিল্পকর্তা ‘গঙ্গা আমার মা, পদ্মা আমার মা’, এই গানটির দু’টি পংক্তি বলেছিলেন। তখন প্রধানমন্ত্রী হেসে  বলেন, আর তিস্তাকে বাদ দিলেন?’’

কথা হয়েছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়েও

মোদির সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার বিষয়টিও নিশ্চিত করেছেন শাহরিয়ার আলম। বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ এবং ভারতের অবস্থান একই। দুই পক্ষই চায় রোহিঙ্গারা শান্তিপূর্ণ উপায়ে নিজ দেশে ফিরে যাক।

‘পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ মিয়ানমার সফরের পর বাংলাদেশের পাশে থাকতে যে ঘোষণা দিয়েছেন, সে জন্য আমরা ভারতের কাছে কৃতজ্ঞ। সুষমা বলেছেন, তারা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পক্ষে।’

তবে রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের একসঙ্গে কাজ করার কোনো মেকানিজম আছে কি না, এমন প্রশ্নে শাহরিয়ারের জবাব নেতিবাচক। বলেন, এই ধরনের কোনো মেকানিজম নেই।

আনন্দবাজার যা জানাচ্ছে

দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি না আসায় কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকাও সংবাদ প্রকাশ করেছে গোপন সূত্রের খবর দিয়ে। তারা জানায়, শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি ভারতের বেশ কিছু দাবি পূরণ করেছেন, তিনিও এবার প্রতিদান চান।

আনন্দবাজারের দাবি, শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার উত্তর-পূর্বের জঙ্গিদের দেশছাড়া করেছে, ট্রানজিট দিয়েছে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে বরাবর দিল্লির পাশে থেকেছে। কাজেই বাংলাদেশের নির্বাচনের বছরে ভারতের সহযোগিতা তিনি চান।

তিস্তা চুক্তি না হওয়ায় রাজনৈতিক চাপ রয়েছে বাংলাদেশের। বিরোধী পক্ষ বারবার সরকারকে আক্রমণ করছে এই বিষয়টি নিয়ে। ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি এ বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিতে না পারলেও তারাই আবার সরকারকে ব্যর্থ বলছে।

বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এপ্রিলে ভারত সফরে গিয়ে নির্বাচনের বছরে তিস্তা চুক্তি না হলে সরকারের জন্য সুখকর হবে না বলে মোদিকে জানিয়ে এসেছেন। আর মোদি সরকার চুক্তির বিরোধিতা করা মমতাকে বোঝানোর চেষ্টা করছে।

এমনকি মমতাকে বাইরে রেখে চুক্তির সম্ভাবনার কথাও বলছেন ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং কলামিস্ট।

কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার আরও জানায়, মোদীকে শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্ন ছিল পাকিস্তানি শোষণে ছিবড়ে হয়ে যাওয়া বাংলাদেশকে মর্যাদার সঙ্গে বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড় করানো। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নেমেছেন তিনি। মুক্তিযু্দ্ধের মতো এই কাজেও ভারতকে পাশে চান।

মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে সরাতে, বাংলাদেশকে ফের পাকিস্তান বানানোর চক্রান্ত চলছে-এই বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনা হয় বলেও দাবি করেছে আনন্দবাজার। আওয়ামী লিগ ক্ষমতা হারালে পশ্চিমে আর পূর্বে দেই দিকেই পাকিস্তান নিয়ে ঘর করতে হবে ভারতকে-সতর্ক করে দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

‘তাই ভারতের উচিত বাংলাদেশের বর্তমান সরকারই যাতে ক্ষমতায় ফেরে, সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা’-বলছে আনন্দবাজার।

সফরের দ্বিতীয় দিন আজ শনিবার নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দেয়ার পাশাপাশি সেখান থেকে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি নেবেন শেখ হাসিনা। আর সেখান থেকে ফিরে মমতার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি।

ঢাকাটাইমস/২৬মে/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত