প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা

তিন জেলায় প্রতারক চক্রের সদস্যসহ আটক ২৬

ঢাকাটাইমস ডেস্ক,
| আপডেট : ২৬ মে ২০১৮, ১৬:৪৩ | প্রকাশিত : ২৬ মে ২০১৮, ১৬:০০

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় তিন জেলায়  প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সদস্যসহ ২৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে ছাত্রলীগ নেতাসহ বেশকয়েকজন পরীক্ষার্থী রয়েছেন। তিন জেলার মধ্যে   বরিশালে ১০জন, নওগাঁয় ১১জন ও রাজশাহী থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের আটককালে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র, টাকাসহ বেশ কয়েকটি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।

বরিশালের আটককৃতরা হচ্ছেন, বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম বাপ্পি ও তার সহযোগী  শহিদুল  ইসলাম সোহেল (৩৫), ফাতেমা বেগম (২৯), নাজমিন নাহার মনি (২৭), এলিনা বেগম রুপা (২৬), আনোয়ার হোসেন ফকির (৩৯), আহসান হাবিব হাওলাদার (৩৫), জহির উদ্দিন জুয়েল (৩৫), জায়েদা খাতুন (৩০) ও বাদল ব্যাপারি (৩৮)।

শনিবার দুপুরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহিউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কোতোয়ালি মডেল থানায় সাংবাদিক সম্মেলনে মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মাহফুজুর রহমান জানান, দশ জনকে আটকের পর প্রতারক চক্রের কাছ থেকে নগদ দেড় লাখ টাকা, তিনটি ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ও ৮টি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়েছে। এরা মূলত বরিশালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিভাইসের মাধ্যমে উত্তর বলে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। রেজাউল ইসলাম বাপ্পিসহ দালালরা মিলে ১০ জনের এই দলটি প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয় বলে তিনি জানান।

এদিকে নওগাঁয় পুলিশী অভিযানে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের  সঙ্গে জড়িত ১১ পরিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার শহরের বিভিন্ন পরিক্ষা কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়।

অটককৃতরা হলেন, সদর উপজেলার তিলকপুর গ্রামের মোফাজ্জোল হোসেনের মেয়ে তহমিনা আখতার (২৮), একই গ্রামের আজিম উদ্দিনের মেয়ে অতিয়া সুলতানা বিথি (২৭), পত্নীতলা উপজেলা আমাইড় সিধাতলা গ্রামের চপলের স্ত্রী সুইটি পারভীন (২৭), ধামইরহাট উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের ময়েন উদ্দিন মন্ডলের ছেলে শেদুল আলম (৪৫), একই গ্রামের সাজেম উদ্দিনের মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন (২৮), মহাদেবপুর উপজেলার বারবাকাপুর গ্রামের সহিদুল রহমানের ছেলে ফরহাদ (২৯), ভীমপুর গ্রমের আলতাফ হোসেনের ছেলে মামুনুর রশিদ (৩২), নওগাঁ শহরের পারনওগাঁ মহল্লার গোলাম মোস্তফার মেয়ে মুক্তা আখতার (২৯)। এছাড়া আটককৃত অপর ৩ জনের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।

নওগাঁ পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন ঢাকাটাইমসকে জানান, শহরের কুমাইগাড়ী মহল্লার তাজুল নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে উত্তরপত্র সরবরাহ করা হচ্ছে। এমন  গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্যরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। সেখান থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র, ডিভাইস ও প্রিন্টার জব্দ করা হয়। পরে সেখান থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ৬ নারীসহ ১১ জনকে আটক করা হয়। তবে মূল হোতা তাজুলসহ ওই চক্রের সদস্যদের ধরতে অভিযান চলছে বলে জানায় পুলিশ।

এছাড়া রাজশাহীতে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের  দায়ে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।

তারা হলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তুশমি। রাজশাহীর মোহনপুরের শাকিলা খাতুন নামে এক পরীক্ষার্থীর স্বামী আলমগীর হোসেন, তুশমি ও আলমগীরের মধ্যে মধ্যস্থতা করে দেয়ার অভিযোগে সারোয়ার হোসেন ও সাইদুর রহমান নামে আরও দুইজনকে আটক করা হয়। তাদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে।  এছাড়া রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্র্রে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে সালেহ আহমেদ নামে আরও একজনকে আটক করা হয়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এই পাঁচজনকে আটক করে। বিষয়টি নিশ্চিত করে মহানগর ডিবি পুলিশের পরিদর্শক রাশিদুল ইসলাম জানান, আটক পাঁচজনকে ডিবি অফিসে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঢাকাটাইমস/২৬মে/প্রতিনিধি/ওআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত