নাটোরে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

নাটোর প্রতিনিধি, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৬ মে ২০১৮, ১৬:৩০

নাটোরের নলডাঙ্গা থেকে শরিফা আক্তার ছবি নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শরিফা আক্তার ছবি নাটোরে বড়াইগ্রাম উপজেলার কৈডিমা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে ও নলডাঙ্গা উপজেলার পিপরুল গ্রামের প্রবাসী মিল্টন হোসেনের ছেলে।

নিহতের বাবার পরিবারের দাবি, শরিফা আক্তার ছবিকে শ্বশুড়, শ্বাশুড়ি ও ননদ মিলে হত্যার পর বাথরুমে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছে। এঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। শনিবার সকালে উপজেলার পিপরুল গ্রাম থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, গত ১১ বছর পূর্বে বড়াইগ্রাম উপজেলার কৈডিমা গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মেয়ে শরিফা আক্তার ছবি সাথে নলডাঙ্গার পিপরুল শেখপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মিল্টন হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর ছবির স্বামী মিল্টন তার চাকরির জন্য রিয়াদে পাড়ি জমায়। এরপর তাদের সংসার বেশ ভালোই চলছিল। পরবর্তীতে প্রতিবছরই প্রায় মিল্টন দেশে বেড়াতে আসত। গত কয়েকবছর মিল্টন দেশে না আসলে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে প্রায় ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকত। এনিয়ে পরিবারের সকলের সাথে শরিফা আক্তার ছবির মাঝে মাঝেই ঝগড়ার এক পর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মারধর করত। ঘটনাটি শরিফা আক্তার ছবি বেশ কয়েকবার তার বাবার বাড়ির লোকজনকে জানিয়েছে। তারাও শরিফা আক্তার ছবির শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদসহ অন্যদের সাথে কথা বলে মীমাংসা করেছেন। এভাবেই চলছিল তাদের সংসার। গতরাতে খাওয়া শেষে মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে শরিফা আক্তার ছবি তার শোবার ঘরে চলে যায়। এরপর শনিবার সকালে বাড়ির বাথরুমে গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় শরিফা আক্তার ছবির মৃতদেহ ঝুলতে দেখে পরিবারের লোকজন। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানালো পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

নিহত শরিফা আক্তার ছবির ভাই শাহ আলম জানান, তিনি সকালে এলাকাবাসীর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানতে পেরে বোনের বাড়িতে আসেন। সেখানে পৌছে তিনি তার বোনের গলায় দড়ি প্যাঁচানো মৃতদেহ দেখতে পায়।

নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুর হোসেন খন্দকার জানান, বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় মেম্বার ও এলাকাবাসীর মাধ্যমে তিনি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাথরুম থেকে ঝুলন্ত মৃতদেহটি উদ্ধার করেন। পরে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। নিহতের বাবা, ভাইসহ অনেকেই ঘটনাটি হত্যা বলে দাবি করছেন। তবে এটা হত্যা না আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের পর সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে নিহতের বাবা বাদী হয়ে একটি মামলার প্রস্তুতি চালাচ্ছেন।

(ঢাকাটাইমস/২৬মে/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত