তিস্তা নিয়ে অগ্রগতি আছে: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
 | প্রকাশিত : ২৬ মে ২০১৮, ১৬:৪২

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পশ্চিমবঙ্গ সফরের আলোচ্যসূচিতে তিস্তা চুক্তির বিষয়টি না থাকলেও এ বিষয়ে অগ্রগতি আছে বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। সময় মতো সেটা বলা হবে বলেও জানান তিনি।

শনিবার প্রধানমন্ত্রী যখন পশ্চিমবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন, তখন ঢাকার সাভারের সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইলে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক মন্ত্রী।

কাদের বলেন, ‘আমার বিশ্বাস, চুক্তি যেকোনো সময় হতে পারে। এ বিষয়ে অগ্রগতিও আছে। যদিও সফরের আলোচ্যসূচিতে এটা ছিল না, তারপরও এটা আমি নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি।’

সফরের প্রথম দিন শুক্রবার শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। আর দ্বিতীয় দিন শনিবার চুরুলিয়ার নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দিয়ে সম্মানসূচক ডি লিড ডিগ্রি নেন শেখ হাসিনা।

বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানান, এই সফরের উদ্দেশ্য তিস্তা চুক্তি নয়। তবে শুক্রবার ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক ঘণ্টার একান্ত বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওবায়দুল কাদের।

২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে বর্তমান সরকারের মেয়াদেই এই চুক্তি করার অঙ্গীকার করেছিলেন মোদি। যদিও চুক্তিটি ২০১১ সালেই হওয়ার কথা ছিল। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর ঢাকা সফরে চুক্তিপত্রও তৈরি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ সময়ে পশ্চিমবঙ্গেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের আপত্তিতে তা আটকে যায়।

দিল্লির নানা সূত্র জানাচ্ছে, এই চুক্তিতে রাজি করতে মমতাতে বোঝানোর চেষ্টা করছে মোদি সরকার।  এজন্য তাকে অন্যায়ভাবে ছাড় দেয়ার প্রস্তাবও এসেছে। আর তাকে রাজি করাতে না পারলে মমতাকে বাদ দিয়েও চুক্তি হতে পারে ভারতীয় সংবাদপত্রে বিভিন্ন সময় সংবাদ এসেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারে কোনো সমস্যা নেই। তবে দিল্লি সরকার একমত হলেই হবে না। এখানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেও একমত হতে হবে। আজ পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জীর সাথে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক আছে।’

‘বদির বেয়াই কিন্তু রেহাই পায়নি’

মাদকবিরোধী চলমান অভিযানে কক্সবাজারের আলোচিত সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিও স্বজনের মৃত্যু নিয়েও কথা বলেন কাদের। বলেন, ‘সংসদ সদস্য বদির বেয়াই যেমন ছাড় পায়নি, তেমনি আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ অন্যান্য দলের কেউই ছাড় পাবে না।’

আশুলিয়ায় দ্বিতল সড়ক হবে

সড়কমন্ত্রী বাইপাইল গিয়েছিলেন আসন্ন ঈদ যাত্রা নিয়ে কোনো সমস্যা আছে কি না তা দেখতে। ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গ যাতায়াতকরী যানবাহন প্রধানত এই সড়কটি ব্যবহার করে। 

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের অবস্থা আগের তুলনায় অনেক ভালো। আগে এই সড়কের পানি জমত। কিন্তু এখন আর জমে না।

দীর্ঘস্থায়ী প্রকল্পের আওতায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকায় বিমানবন্দর মোড় থেকে ইপিজেড পর্যন্ত দ্বিতল এলিভেটেড এক্সপেসওয়ে ও নিচে চার লেনের রাস্তার নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু হবে বলে জানান কদের।

মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প বাংলাদেশে অনুমোদনের পর এখন চীনে কিছু কাজ রয়েছে। চীনা এক্সিম ব্যাংক তহবিল দিলেই কাজ শুরু হবে।

মন্ত্রীর সঙ্গে সড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

(ঢাকাটাইমস/২৬মে/আইআই/ডব্লিউবি/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত