গাইবান্ধায় কৃষিশ্রমিক সংকট

জাভেদ হোসেন, গাইবান্ধা
 | প্রকাশিত : ২৬ মে ২০১৮, ২২:১০

গাইবান্ধা জেলার সাত উপজেলায় আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হলেও হাসি নেই কৃষকের মুখে। প্রাকৃতিক দূর্যোগের কবল থেকে ক্ষেতের পাকা ধান রক্ষার জন্য কৃষকেরা এখন ধান কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এবারে প্রাকৃতিক দুর্যোগ কালবৈশাখীর জড়ো-হাওয়া, শিলাবৃষ্টিসহ বোরো ক্ষেতে ব্লাস্টসহ নানা রোগ-বালাইয়ের কারণে ফলন কম হওয়ায় অনেকটা চিন্তিত কৃষকরা। ফলে জেলায় খাদ্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন উপজেলার সর্বত্রই ইরির আগাম জাতের বি.আর-২৮ ধান কাটা শুরু করেছেন কৃষকরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের আতঙ্কে এবার কৃষকরা আগে ভাগেই ধান কাটা-মাড়াই শুরু করেছেন।

জেলা শহর থেকে ১০কিমি দূরে সাদুল্ল্যাপুর উপজেলা জামালপুর ইউনিয়নের লিখু মিয়াসহ একধিক কৃষকরা জানান, ইতিমধ্যেই তারা আগাম জাতের বি.আর-২৮ ধান কাটা শুরু করেছেন। চলতি মৌসুমে ধান ক্ষেতে ছত্রাকের আক্রমণ হওয়া ফলন উৎপাদন অনেকটাই কম হবে তাদের। 

একই থানার ধাপেরহাট ইউনিয়নের আজাহার আলী বলেন, বৈরী আবহাওযার কারণে পাকা ধান ঘড়ে তোলা জরুরি, কিন্তু শ্রমিক সংকটের কারণে ধান ঘরে তুলতে না পারায় একদিকে যেমন হতাশা বিরাজ করছে অন্যদিকে গবাদী পশুর খাবার সংকট দেখা দিয়েছে।

সাদুল্ল্যাপুর থানার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের ঢাকটাইমসকে জানান, এবার কৃষকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। কোন সেচ সংকট ছিল না। সময়মত সার ও বালাইনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। 

সাদুল্ল্যাপুর থানার কৃষি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) জোবায়দুর রহমান ঢাকটাইমসকে জানান, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে কৃষি বিভাগের তদারকি প্রশিক্ষণ ও কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবার ছিল চোখে পড়ার মতো তবে সাম্প্রতিক শিলা বৃষ্টিতে কিছুটা ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

পলাশবাড়ী উপজেলার পবনাপুর ইউনিয়নের কৃষক আবু হানিফসহ অনেকে বলেন, ৩ বেলা খাবারসহ ১ জন শ্রমিককে ৫/৬ শত টাকা দিয়েও ধান কাটার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। একদিকে প্রতিকূল আবহাওয়া অন্যদিকে শ্রমিক সংকট এই দুই মিলে তাদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা ও দুশ্চিন্তা।

সাঘাটা থানার সদরে কৃষক নুরুল ইসলাম জানান, এবার বৈরী আবহাওয়ার কারণে পাকা ধান অগাম ঘরে তোলা জরুরি, কিন্তু শ্রমিক সংকটে ধান তুলতে পারছি না।

একই অবস্থা বিরাজ করছে গাইবান্ধার ফুলছড়িসহ সুন্দরগঞ্জ ও সদরেও।

কৃষি অফিস সুত্রে জানা যায়, এবার গাইবান্ধা জেলায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৬৭০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরোর আবাদ করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসরণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আ কা ম রুহুর আমিন ঢাকটাইমসকে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কালবৈশাখীর জড়ো-হাওয়া, শিলাবৃষ্টিসহ ইরি-বোরোর ক্ষেতে ব্লাস্টসহ নানা রোগ-বালাই ফলনের তেমন কোন ক্ষতি করবে না।

তিনি বলেন, ফলনে ব্লাস্টসহ রোগ-বালাই দেখা দেয়ার সাথে সাথে আমাদের মাঠ পর্যায়ে কৃষি অফিসাররা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে ভাটাজনিত কারণে শুধুমাত্র ভাটা এলাকাগুলোতে বিঘা প্রতি কিছু ধান কম হবে বলে জানান তিনি।

(ঢাকাটাইমস/২৬মে/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত