হাসিনার সঙ্গে কী কথা খোলাসা করলেন না মমতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৬ মে ২০১৮, ২৩:৪৩ | প্রকাশিত : ২৬ মে ২০১৮, ২৩:২৮

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আধা ঘণ্টার একান্ত বৈঠক। বেরিয়ে এসে মিনিট চারেক গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বললেন মমতা। কিন্তু কথার ঢংয়ে রাখ রাখ গুরগুর। বললেন অনেক কিছুই, আবার বললেন না কিছুই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পশ্চিমবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিন শনিবার দেশে ফেরার আগে সন্ধ্যায় কলকাতার বেঙ্গল তাজ হোটেলে কথা হলো দুই নেতার মধ্যে।
স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ৬টা ২৫ মিনিট থেকে শুরু করে এই বৈঠক চলে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত। বৈঠক শেষে গণমাধ্যম কর্মীদেরকে কিছু বলেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তবে স্বভাবসুলভ দ্রুতলয়ে হেঁটে বের হয়ে আসার সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মোট তিন মিনিট ৫৭ সেকেন্ড কথা বললেন মমতা। এখানেও তিনি তার স্বাভাবিক ঢংয়ে কথা বলেছেন দ্রুতলয়ে। আর বেশি প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়ে চলে গেলেন হঠাৎ কথা থামিয়ে।

মমতার সঙ্গে শেখ হাসিনার এই বৈঠকে দুই দেশেরই দৃষ্টি ছিল তিস্তা নিয়ে মমতা কী বলেন। ২০১১ সালে যখন অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তি কেবল সইয়ের অপেক্ষা, তখন মমতা হঠাৎ বেঁকে বসেন। জানিয়ে দেন, তিনি চুক্তি মানবেন না। আর তার অমতে কংগ্রেস সরকার এগিয়ে গেলে সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেবেন।
বর্তমানের মোদি সরকারের আর মমতার সমর্থন দরকার নেই। তারপরও তার অমতে চুক্তির বিষয়টি আগাতে চায় না।

২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কথা দিয়েছিলেন, বর্তমান সরকারের আমলেই এই চুক্তি হবে।
যদিও প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের উদ্দেশ্য তিস্তা চুক্তি নয়, তারপরও এ নিয়েই দৃষ্টি ছিল দুই দেশেই। সফরের প্রথম দিন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করেন। আর দ্বিতীয় দিন চুরুলিয়ায় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দিয়ে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি নেন। 

শেখ হাসিনার এই সফরের উদ্দেশ্য এই দুটি বিষয়ের বাইরে তিস্তা নয়, সেটা আগেই জানিয়েছিল সরকার। তারপরও সফরের প্রথম তিন মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার একান্ত বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারের সূত্রগুলো। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই চুক্তির বিষয়টিতে অগ্রগতি আছে।
দুপুরে কাদের যখন এই বক্তব্য রাখেন, তখন তিনি সন্ধ্যায় মমতার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি তুলেন। ইঙ্গিত দেন এখানে কিছু হতে পারে। 
তবে মোদির সঙ্গে এক ঘণ্টা এবং মমতার সঙ্গে আধা ঘণ্টা বৈঠকে তিস্তা নিয়ে কী কথা হলো, সেটা এখনও জানা যায়নি। মমতা এই প্রসঙ্গটা নিয়ে কিছুই বলেননি গণমাধ্যমকে।
কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে-জানতে চাইলে মমতা প্রথমে ইংরেজিতে বলেন, ‘তার বিস্তারিত আমি এখন এখানে বলতে চাই না। আমি বলছি না। গতকাল যা হয়েছে, সেটা আলাদা অধ্যায়, আজকেরটা আরেকটা অধ্যায়।’

পরে মমতা বাংলাতেই বলতে থাকেন। বলেন, ‘আজকের মিটিংটা খুব ভালো হয়েছে। এপার বাংলা ইন্ডিয়ারই পার্ট। এপার বাংলার সাথে ওপার বাংলার মিটিং অলওয়েজ ভালো হয়। আমাদের রিলেশন অলওয়েজ সৌজন্যমূলক, বন্ধুত্বপূর্ণ, ভাতৃত্বের বন্ধনে সম্প্রীতির সৌজন্যে।’

‘দুই দেশের বিভিন্ন ব্যাপার নিয়ে আমরা সব সময় আলোচনা করি। আমাদের কৃষ্টি, আমাদের কালচার, আমাদের বিজনেস, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক কীভাবে উন্নতি করা যায়, সবাই যেন ভালো থাকে দুই দেশের, এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

‘শেখ হাসিনার সাথে আমার রিলেশন একটা পার্সনাল লেভেলের। এটা আজকের নয়, দীর্ঘ ২০-২৫ বছরের।... তিনি এখন প্রধানমন্ত্রী, যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, তখনও তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল।’

‘উনি সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি নিয়েছেন, এটা আমাদের সম্মান বাড়িয়েছে। আমরা খুশি যে বিশ্বভারতীতে উনি এসেছেন। বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন হয়েছে। আমরা এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরোরিয়াল মিউজিয়াম করতে চাই। সেটা দুটো দেশ রাজি হলে পারমিশন দিলেই আমরা এটা করব।’

‘আরেকটা মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে, মুক্তিযুদ্ধের সাথে একটা জায়গা অনেক রিলেটেড ছিল। সেটা ওনারা রিস্টোর করতে চান। এটা দুই দেশের আলাপ আলোচনার বিষয়। এ নিয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা হয়েছে।’

‘আবার আসবার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি, ওনারা বারবার আসুক এটা আমরা চাই। আমরাও বারবার যাব বাংলাদেশে, এটা ওনারাও চান। দুই দেশের সম্পর্ককে দুই দেশেরই মেইনটেইন করতে হবে।’

বাংলাদেশ সফরে আসতে আমন্ত্রণ পেয়েছেন কি না- জানতে চাইলে মমতা বলেন, ‘সব সময়, এটা ওপেন ইনভিটেশন। বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে বাউন্ডারি কোনো কিছু পলিটিক্যাল বাউন্ডারি কিছু আছে বলে আমার জানা নেই। ইটস অ্যা ওপেন বাউন্ডারি।’

‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে খুব ভালোবাসেন, আমরাও খুব ভালোবাসি। আমাদের যখনই দেখা হয়, অনেক ব্যাপারে আমরা কথা বলি, আলোচনা হয়।’ 
‘ওখানে উনি যথেষ্ট ভালো আছে, ভালো করছেন, ভালো করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। ওনাদের আমার কাছে চাইবার কিছু নেই। আর ভারতবর্ষের সঙ্গে ওনাদের যে সম্পর্ক, মুক্তিযুদ্ধ আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে ফ্রম দ্য বিগিনিং, এটা ছিল, আছে থাকবে, এটা আমি বিশ্বাস করি।’

তিস্তা নিয়ে কথা হয়েছে কি না, হলে কী কথা হয়েছে, এই প্রশ্নটা করার আর সুযোগ দিলেন না মমতা। হঠাৎ কথা থামিয়ে ঘুরে হাঁটা শুরু করলেন তিনি।

ঢাকাটাইমস/২৬মে/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত