রাস্তার পাশের ইফতারে ছড়াচ্ছে কলেরা

কাজী রফিকুল ইসলাম, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৭ মে ২০১৮, ১০:১৬ | প্রকাশিত : ২৭ মে ২০১৮, ০৯:২৭

মোহাম্মদপুর কাদেরবাদ হাউজিংয়ে থাকেন সিয়ামুল। দেখা হলো কলেরা হাসপাতাল নামে পরিচিত আইসিডিডিআররিতে। অবস্থা শোচনীয়।

কীভাবে এমন হলে?- সিয়ামুল কলেন, ‘রোজার দিন, খাওয়ার মধ্যে খেয়েছি ইফতার। তৃতীয় রোজায় ইফতার বাইরে করেছিলাম। আর সেদিন রাত আটটা নাগাদ বমি-পাতলা পায়খানা শুরু হয়। তাই বাধ্য হয়ে আমার রুমমেটরা আমাকে এখানে ভর্তি করে।’

মহাখালীর এই হাসপাতালটিতে এখন সিয়ামুলের মতো মানুষের ভিড়। বছরের এই সময়টায় গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এমনিতেই ডায়রিয়ার রোগী বাড়ে, তার ওপর এবার রোজায় রাস্তার ধারের দোকানের ইফতারে পরিস্থিতি আরও করুণ।

কলেরার চিকিৎসা এই হাসপাতালে সবচেয়ে ভালো, তাও আবার বিনামূল্যে, এ কারণে রোগীর ভিড়ও হয় নিত্য। প্রতিষ্ঠানটির কর্মীরা বলছেন, ঢাকার পাশাপাশি নগরীর বাইরে থেকেও আসছে রোগী।

রোজার মাসে রাস্তার ধারে ইফতার পণ্য সাজিয়ে বসা দোকানের অভাব নেই। সেখানে সব খাবার ঢাকা থাকে তা নয়। আর বাসাতে থাকা ধূলাবালু তো আছেই, যারা ইফতার পণ্য তৈরি করছেন, তারা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কতটা মানেন, সে নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

আবার ভেজালবিরোধী অভিযানগুলোতে দেখা গেছে, নামিদামী প্রতিষ্ঠানেই বিক্রি না হওয়া ইফতার পণ্য নষ্ট না করে বিক্রির জন্য রেখে দেয়া হয় পরদিন। বহু দোকানে পাওয়া গেছে পচা পণ্য। সেখানে রাস্তার পাশের দোকানের অবস্থা কী, সেটা বলাই বাহুল্য।

সম্প্রতি হাসপাতাল ঘুরে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের একটি বড় অংশই বাইরে থেকে ইফতার পণ্য কিনে খাওয়ার পর আক্রান্ত হয়েছেন।

তৃতীয় বারের মত কলেরা আক্রান্ত হয়ে একই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের জাহাঙ্গীর। তার খোঁজখবর নেয়ার সময় অবস্থা ছিল বেশ খারাপ।

জাহাঙ্গীরের ভাই আলমগীর ঢাকাটাইমসকে জানান, ‘এই তিন বার ওর কলেরা হইছে। তিনবারই এহানে আনা লাগছে। স্যালাইন ১১ ডা চলে। আরো মনে হয় লাগব। দুই মিনিট পর পর পায়খানা করতাছে। তিনবারই বাইরের ইফতারি খাইয়া এই অবস্থা।’

আরেক রোগী মিনারা বলেন, ‘বাসা-বাড়িতে কাম করি। ঘরে ইফতারি বানানোর সময় পাই না। বাইরে থেকে কিনাই খাই। তিন রোজায় ইফতারি খাওয়ার পর এই অবস্থা। সবাই ধরাধরি কইরা আইনা এহানে ভর্তি করছে।’

চিকিৎসকরা জানান, গরম পড়ার পর রোগী বেড়েছিল। তবে পরে আবার কমে যায়। কিন্তু রমজানে রোগীর চাপ আবার বেড়েছে।

একজন চিকিৎসক বলেন, ‘অসুস্থতার প্রধান কারণ, বাইরের খাবার খাওয়া। রমজানে বাইরের ইফতার খেয়ে রোগে আক্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।’

এখানে ভর্তি হওয়া রোগীদের একটি বড় অংশ শিশু ও নারী। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে জানা যায়, অধিকাংশ শিশু আক্রান্ত হয়েছে জুস খেয়ে। নারী রোগীদের আক্রান্ত হওয়ার কারণ জুস ও ইফতারি।

হাসপাতালের মূল ভবনে একটি শয্যাও খালি নেই। মূল ভবনে জায়গা দিতে না পারায় সামনের উঠোনটিকে ব্যবহার করা হচ্ছে জরুরি বিভাগের একটি ওয়ার্ড হিসেবে। বর্ধিত এই ওয়ার্ডটিতে জায়গা পাচ্ছে শতাধিক রোগী।

বাইরের খাবার পরিহারের পাশাপাশি যে কোনো খাবার, পানি ও পানীয় পান করার প্রতি বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক।

শিশুদের নাগালের মধ্যে কোনো বাসি খাবার না রাখা ও শিশুদের পরিচ্ছন্নতার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শও দেন একাধিক চিকিৎসকরা।

ঢাকাটাইমস/২৭মে/কারই/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত