যুবকের পেনড্রাইভে ১২০০ নারীর গোপন ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৭ মে ২০১৮, ২০:১৯ | প্রকাশিত : ২৭ মে ২০১৮, ২০:০৯

নিজের বাড়ির উঠানে আপনি হয়ত কাজ করছেন। পাঁচিল ঘেরা বাড়ি। ঘরোয়া পোশাকেই আপনি রয়েছেন। ঘুণাক্ষরেও টের পেলেন না আপনার সেই ঘরোয়া পোশাক পরা অবস্থায় সবার অলক্ষে কেউ আপনাকে ক্যামেরাবন্দি করছে। অথবা কেউ নিজের বাথরুমে। সেখানেও লুকানো ক্যামেরায় আপনার ছবি তুলছে কেউ। তারপর সেই ছবি রেখে দিচ্ছে নিজের পেনড্রাইভে।

কয়েকশ বিভিন্ন বয়সের নারীদের এ রকম ছবি তুলে পেনড্রাইভে রাখত কলকাতার তিরিশ বছরের কৃষাণু বিশ্বাস। কখনও কারও বাথরুমের ছবি। কখনও বা নিছক রাস্তায় হেঁটে যাওয়ার ছবি। বারো’শর বেশি এ রকম ছবির হদিস মিলেছে কৃষাণুর কাছে। অনেক বছর ধরে এই কাজ করলেও কেউ কোনও দিন বুঝতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত পেনড্রাইভ হারিয়ে ধরা পড়ে গেল গুণধর এই কৃষাণু।

পর্ণশ্রীর অক্ষয় পাল রোডের বাসিন্দা কৃষাণু একটি কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তরে কাজ করে। কয়েক দিন আগে তার অফিসেরই এক সহকর্মী একটি পেনড্রাইভ খুঁজে পান। সেটা কার জানতে, সেই পেনড্রাইভ কম্পিউটারে লাগাতেই একটি ফোল্ডারের হদিস পাওয়া যায়। সেই ফোল্ডার খুলতেই বেরিয়ে একের পর এক নারীর ছবি। প্রথমে তার সহকর্মীরা বিষয়টি বুঝতে না পারলেও অন্য এক নারী সহকর্মী রহস্যের পর্দা ফাঁস করেন। তিনি ওই ছবির মধ্যে কয়েকজন পরিচিত নারীকে শনাক্ত করেন যারা কৃষাণুর প্রতিবেশী। সেই নারী সহকর্মীর মাধ্যমেই খবর এবং সেই পেনড্রাইভ পৌঁছায় কৃষাণুর প্রতিবেশী প্রীতম শূরের কাছে।

তিনি বলেন, ‘পেন ড্রাইভ খুলে আমরা রীতিমতো হতবাক। এই পাড়া, পাশের পাড়ার হেন কোনও নারী নেই যার ছবি নেই এই পেনড্রাইভে। কেউ বাড়ির পোশাকে, কেউ বাথরুমে— সেই অবস্থায় এই ছবি তোলা হয়েছে। লুকিয়ে নিজের আত্মীয়দেরও প্রায় নগ্ন ছবি তুলেছে কৃষাণু।’

গোটা বিষয়টি জানাজানি হতেই পর্ণশ্রী থানায় কৃষাণুর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান পাড়ার লোকজন। অবস্থা বেগতিক দেখে গা-ঢাকা দিয়েছে অভিযুক্ত যুবক। তাকে না পেয়ে তার বাড়িতে চড়াও হয় এলাকার মানুষ। যদিও অভিযুক্তের বাবা-মার দাবি তাদের ছেলে নির্দোষ।

তদন্তকারীরা কৃষাণুর খোঁজ চালানোর সঙ্গে সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করেছে ওই পেনড্রাইভও। শুধু মোবাইল ক্যামেরা না অন্য কোনও ক্যামেরা ব্যবহার করে সে ওই ছবি তুলেছে সেটা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। এক তদন্তকারী বলেন, অভিযুক্ত এসব ছবি নিজের পেনড্রাইভে রাখত, না এই ছবি বিভিন্ন পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটে ব্যবহার করত, সেটা জানা এখন বেশি প্রয়োজন।’

(ঢাকাটাইমস/২৭মে/এসআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত