'হুইলচেয়ারে করেই মহাকাশে যেতে চাই'

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ২৮ মে ২০১৮, ০৯:৪৫

জন্মের পরই তার অবস্থা দেখে চিকিৎসক জানিয়েছিলেন এই বাচ্চাটি হয়তো সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বাঁচবে। কিন্তু না সেই চিকিৎসকের কথা উল্টে দিয়ে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নিয়েই অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে সম্প্রতি গ্রাজুয়েশেন শেষ করেছেন ২৭ বছরের যুবক অ্যাডওয়ার্ড। তার লক্ষ্য শুধু পুথিবী নয়, বরং মহাকাশ জয় করা।

অ্যাডওয়ার্ডের জন্ম হয়েছিল স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রফি নামক স্নায়বিক সমস্যা নিয়ে। তবে সেই প্রতিবন্ধকতা নিয়েই এতটা পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। তার অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। পেশিগুলো দিন দিন দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়ে যাচ্ছে।

নিজ সম্পর্কে বলতে গিয়ে অ্যাডওয়ার্ডের ভাষ্য, 'এই বছরের শেষে আমার বয়স হবে ২৮ বছর। সুতরাং দুই দশকের বেশি সময় ধরে আমি অতিরিক্ত সময় বেঁচে আছি। কারণ চিকিৎসক তো পাঁচ বছর বাঁচবো এমন কথা জানিয়েছিলেন।’

পরিকল্পনার সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, 'আমার অন্যতম উদ্দেশ্য অধ্যাপক স্টিফেন হকিন্সকে শ্রদ্ধা জানানো। যিনি নিজেও মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। প্রায় দুই বছর আগে আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করলাম, এমন কী করতে পারি যার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধিত্বের বিষয়টিকে সমাজ যে দৃষ্টিতে দেখে কিংবা যেভাবে ভাবে তাকে বদলে দিতে পারি? তখনই আমার মনে হলো আমি মহাকাশে যেতে পারি।’

তিনি বলেন, 'আমার প্রতিদিনকার উপলব্ধি হচ্ছে, সবকিছুতেই আমার সাহায্য দরকার, খাওয়া দাওয়া, সকালে উঠে কাপড় পরা। প্রকৃতপক্ষে সপ্তাহে সাতদিন চব্বিশ ঘণ্টা প্রতি মুহূর্তই আমাকে লোকজনের সাহায্য নিয়ে চলতে হয়'।

কিন্তু শুধু তার একার সংগ্রামে বিষয়টি হয়তো সম্ভব হতো না। তার মায়ের নিরলস চেষ্টা তাকে এই সুযোগ করে দিয়েছে যা হয়তো অন্য অনেক প্রতিবন্ধী মানুষের নাগালের বাইরে। তাদের জন্য কিছু একটা করতে চেষ্টা করার কথা জানিয়ে অ্যাডওয়ার্ড বলেন, 'আমার মা একজন রকস্টার। সবধরনের সুযোগ সুবিধা যেন আমি পাই সেই চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। প্রচলিত শিক্ষায় আমি যেন শিক্ষিত হতে পারি সেজন্য তিনি সব চেষ্টাই করেছে আমাকে মেইনস্ট্রিমের স্কুলে ভর্তির জন্য'।

অ্যাডওয়ার্ডের এ ধরনের ডিজঅ্যাবিলিটির ফলে ধীরে ধীরে কোন কোন অঙ্গ বা কোষের কর্মক্ষমতা নষ্ট হতে থাকে। কিন্তু তিনি প্রথম কোনো আফ্রিকান যিনি ডিজেনারেটিভ ডিজ্যাবিলিটি নিয়ে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে গ্রাজুয়েট করেছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, 'এমন এক মহাদেশে বাস করছি যেখানে ডিজঅ্যাবিলিটি আছে এমন অধিকাংশ শিশুই স্কুলের ক্লাসরুম কেমন তা কখনোই জানে না। আমি আমার গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানের কথা স্মরণ করতে পারি। সেইসব শিশুর কথা ভেবেই আমি সেটি করেছি। বিশ্বের সবল প্রতিবন্ধী মানুষই আমার অনুপ্রেরণার উৎস। যারা প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে নতুন একটি দিনের সাথে লড়াই শুরু করে। আমি তাদের জন্য এমন একটি বিশ্ব চাই যা থাকবে সবার জন্য উন্মুক্ত'।

অ্যাডওয়ার্ড এমন এক বিশ্ব তৈরি করতে চান যেখানে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সকল সুযোগ সুবিধার অধিকারী হবেন। তাদের স্বপ্নগুলো পাবে হয়ে উঠবে বাস্তব। সূত্র: বিবিসি

(ঢাকাটাইমস/২৮মে/একে/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত