ঈদে যাত্রী পরিবহনে ‘সাজছে’ বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২৮ মে ২০১৮, ১০:৪১ | প্রকাশিত : ২৮ মে ২০১৮, ১০:৩৮

ঈদযাত্রায় নামার আগে ঘষেমেজে বাসগুলোকে ঝকঝকে তকতকে করার চেষ্টা চলছে। রোজার প্রথম ১০ দিন শেষ হয়ে যাওয়ায় ঈদ করা, বাড়ি যাওয়ার পরিকল্পনা যেমন নগরবাসী সেরে রাখছেন, তেমনি পরিবহন মালিকরাও সেরে রাখছেন তাদের প্রস্তুতি।

গাবতলী টার্মিনাল বাস ডিপোর পেছন দিকে চলছে গাড়ির এই মেরামত যজ্ঞ। প্রতি ঈদের আগেই ভেঙে যাওয়া গাড়ির কাঠামোর পাশাপাশি মেরামত হয় আসনও, কোনো গাড়ির মালিক নতুন রঙ করতেও পছন্দ করেন।

আবার দূরযাত্রায় একসঙ্গে অনেকক্ষণ থাকতে হবে বলে ইঞ্জিনের ত্রুটিও সারিয়ে নেয়া হয়। ইঞ্জিন ওভারহলিং এর দরকার পড়লে সেটাও সেরে নেয়া হয় ঈদের আগে আগে।

তবে প্রতি বছরই অভিযোগ উঠে, ফিটনেসহীন বাসের বাহ্যিক রূপ পাল্টে দিয়ে মালিকরা যাত্রী আকর্ষণের চেষ্টা করছেন কি না। তবে এই অভিযোগ একেবারে অবান্তর বলে উড়িয়ে দিয়েছে পরিবহন মালিকদের সংগঠন। 

গাবতলী বাস টার্মিনাল নেতা ও বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন- এর সদস্য সালাউদ্দিন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমাদের এখনো কোনো পুরনো গাড়ি রঙ করা হচ্ছে না। কিছু নতুন গাড়ি আছে, যেগুলোর একটু রঙ উঠে গেছে, গাড়ির মালিকরা সেগুলোকে সুন্দর করে রাখছেন।‘

‘আমরা সব গাড়ির টিকেট বিক্রি করব না। মাত্র ৬০-৭০ ভাগ টিকেট বিক্রি করব। যে পরিমাণ গাড়ি আমাদের আছে, তাই তো আমরা ছাড়ব না। ফিটনেসহীন গাড়ির প্রসঙ্গ আসলো কোথা থেকে?’

পরিবহন মালিকদের সংগঠনের নেতা স্বীকার না করলেও প্রতি বছরই আলোচিত সড়ক দুর্ঘটনার পর তদন্তে বাসের ত্রুটির বিষয়টিও সামনে এসেছে। নামিদামি বাসগুলোতে তো আছেই, লোকাল হিসেবে চলা বাসের ক্ষেত্রে এই অভিযোগ আরও বেশি। ঈদে বাড়ি ফিরতে যখন তাড়া থাকে আর ভালো বাসের টিকিট যখন পাওয়া না যায়, তখন আর বাসের দিকে তাকানোর সুযোগ কোথায়?

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ছাত্র মেসবাহ উদ্দিন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘ঢাকার পড়াশোনা করি। ঈদে অবশ্যই বাড়ি যেতে হবে। সব সময় আগে ভাগে টিকেট পাওয়া যায় না। তারপরেও চেষ্টা করি। দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে। তাই, এদিকটা একটু বাড়তি নজরদারি দরকার। গাড়ির ফিটনেস, চালক নেশাগ্রস্ত কি না, এগুলো ভালোভাবে খেয়াল করা উচিত।’

২০১৭ সালে ঈদ যাত্রায় পাঁচ দিনে সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান ৫৯ জন। ২০১৬ সালের এই সময় চার দিনে মৃত্যু হয়েছিল ৫২ জনের।

তার আগের চার বছরেও যথাক্রমে ৪০, ৬৭, ৫২ এবং ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছিল সড়কে। যেসব কারণে এই দুর্ঘটনা হয়েছিল, তার অন্যতম ছিল ‘ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন’।

ঢাকাটাইমস/২৮মে/কারই/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজধানী বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত