নতুন ঘর পাচ্ছে তোফা ও তহুরা

জাভেদ হোসেন, গাইবান্ধা
 | প্রকাশিত : ২৮ মে ২০১৮, ১৩:০৯

মা’র হাত ধরেই তোফা-তহুরা হাঁটছে। একাই চেয়ারে বসে থাকতে পারে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে দেশব্যাপী আলোচিত কোমরে জোড়া লাগানো জমজ দুই বোন তোফা-তহুরা।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামে নানার বাড়িতে হাসি-কান্না ও খেলাধুলায় কেটে যাচ্ছে তাদের দিন।

গত সাড়ে চার মাস ঢাকায় টানা চিকিৎসা শেষে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে তাদের ফিরিয়ে নেয়া হয় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামের নানার বাড়িতে। এখনও সেখানেই আছে তারা। এখন ভালো আছে তোফা ও তহুরা, হেসে খেলে দিন কাটছে তাদের। সবসময় শিশু দুটির সার্বিক খোঁজ-খবর রাখছেন জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তোফা ও তহুরার জন্য বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়েছে। এবার সেখানে আলাদা ঘর করে দেয়া হচ্ছে তাদের থাকার জন্য।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম গোলাম কিবরিয়া ঢাকাটাইমসকে বলেন, জন্ম নেয়ার পর থেকেই তোফা ও তহুরার পাশে ছিল স্থানীয় প্রশাসন। এর আগে শিশু তোফা ও তহুরার নানার বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ সংযোগ ও গরম থেকে রক্ষার জন্য তাদের ফ্যানও দেয়া হয়েছে। কয়েকদিন আগেও চিকিৎসার জন্য ঢাকা যাওয়ার খরচ হিসেবে তাদের আর্থিক সহায়তা করা হয়েছে। তবে এবার শিশু দুটির বেড়ে ওঠার সুবিধার জন্য তাদের নানার বাড়িতেই আলাদা একটি ঘর করে দেয়া হবে।

তোফা ও তহুরার মা শাহিদা বেগম বলেন, তোফা-তহুরা এখন ভালো আছে। তারা দুজনে বুকের দুধের পাশাপাশি অন্য খাবারও খাচ্ছে। এছাড়া তারা খেলছে ও বাড়ির উঠানে বাঁশ ধরে হাঁটা শিখছে। চিকিৎসকের পরামর্শে তহুরাকে ক্যাথেটার দিয়ে তিন ঘণ্টা পরপর প্রসাব করাতে হয়। তবে তহুরা এখনো মূত্র জটিলতায় ভুগছে। সেটাও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এছাড়া আর কোন সমস্যা নেই তাদের। তাছাড়া যে কোনও বিষয়ে ঢাকা মেডিক্যালের চিকিৎসকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করি। তারপর তাদের পরামর্শে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তবে সব মিলে এখন দুজনে ভালো আছে। ঈদের পর তোফা-তহুরার বাকি দুটি অপারেশন করার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসক।

তোফা ও তহুরার নানা শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি দরিদ্র হওয়ায় বাড়িতে শুধু দুটি ঘর আছে। একটি ঘরে স্ত্রীকে নিয়ে নিজে থাকেন এবং অপর ঘরে ছোট ছেলে থাকে। ছোট ছেলের ঘরেই এখন তোফা-তহুরাকে নিয়ে থাকেন মেয়ে শাহিদা বেগম। এক সঙ্গে থাকতে গিয়ে তোফা ও তহুরার অনেক সমস্যা হয়। এজন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে শিশু দুটির জন্য আলাদা ঘরের দাবি জানিয়েছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর কোমরে জোড়া লাগানো অবস্থায় গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের কাশদহ গ্রামে নানার বাড়িতে তোফা ও তহুরার জন্ম হয়। এরপর ৭ অক্টোবর তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মলদ্বার একটি থাকায় পরে ১৬ অক্টোবর প্রথম অস্ত্রপাচার করা হয়।

আবার ২০১৭ সালের ১ আগস্ট তাদেরকে আলাদা করার জন্য করা হয় দ্বিতীয় অস্ত্রপাচার। পরে সুস্থ হলে সে বছরেরই ১০ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা থেকে গাইবান্ধায় ফিরে আসে তোফা-তহুরা। পরে আবারও তহুরা অসুস্থ হলে গত বছরের ৮ অক্টোবর তহুরাকে ঢাকায় নেয়া হয়। দীর্ঘ সাড়ে চার মাস চিকিৎসা শেষে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি নানার বাড়িতে ফিরে আসে তারা।

(ঢাকাটাইমস/২৮মে/প্রতিনিধি/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত