বন্দুক ছাড়া মাদক নিয়ন্ত্রণে ‘উদাহরণ’ সুইডেন

আবুল কাশেম, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ৩০ মে ২০১৮, ১০:৪৫ | প্রকাশিত : ৩০ মে ২০১৮, ০৮:৫৫

নিষিদ্ধ হলেও পৃথিবীর সব দেশেই মাদকের ব্যবহার আছে কমবেশি। এ নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। বন্দুকের কঠোর ব্যবহারও আছে বিভিন্ন দেশে।

লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেও কলোম্বিয়া-মেক্সিকো যেখানে মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি, সেখানে কৌশলে মাদক সমস্যার সমাধান করে ফেলেছে সুইডেন। তাও পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ উপায়ে।

স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি মাদক নিয়ন্ত্রণে আনার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটাকে যুগান্তকারী বলা যায়। সেখানে সীমিত পরিসরে মাদক নেয়া বৈধ করে দেয়া হয়েছে।

মাদক সেবনের বৈধতা দিয়ে সমালোচনাও শুনতে হয়েছে সুইডেনকে। তবে যতই সমালোচনা হোক না কেন, এই কৌশলেই তারা মাদককে সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে দেশটি।

সুইডেনে মাদক ব্যবহারকারীরা তাদের ব্যক্তিগত ডাক্তারের পরামর্শ মেনেই মাদক সেবন করে থাকে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া মাদক সেবনকারী খুব কম। অনেক সময় প্রেসক্রিপশনে মাদক ব্যবহারের উল্লেখ থাকে।

সেখানে এছাড়া মাদকসেবী বা অপরাধীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আইন রয়েছে। মাদকাসক্তদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা খুব কার্যকর সুইডেনে। কেউ পরিমাণের চেয়ে বেশি মাদক সেবন করলে বা মাদকদ্রব্য আইনের আওতায় পড়লে তার স্বাস্থ্যসেবা করে সরকার।

২০০০ সালে দেশটিতে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাদকদ্রব্য অপরাধের এই নীতিমালা মাদক প্রতিরোধে কার্যকর প্রভাব ফেলেছে।

জাতিসংঘের ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের (ইউএনওডিসি) একটি প্রতিবেদনে পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে মাদক ব্যবহারে সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকায় সুইডেনের প্রশংসা করা হয়েছে।

সুইডেনের মাদক আইন এবং স্বাস্থ্য সেবার কারণে এমনটি সম্ভব হয়েছে বলেও ইউএনওডিসির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

২০০৫ সালে ইউরোপীয় মনিটরিং সেন্টার ফর ড্রাগস অ্যান্ড ড্রাগ এডিকশন (ইএমসিডিডিএ) অনুযায়ী, সুইডেনের মাথাপিছু মাদকের হার নেদারল্যান্ডসের তুলনায় দ্বিগুণ বেশি ছিল এবং অন্যান্য দেশের চেয়ে বেশি তীব্র মাদকাসক্ত ব্যক্তি ছিল। তবে এখন তার হার উল্লেখযোগ্য হারে কম।

২০১১ সালে হোয়াইট হাউসের ড্রাগ পলিসির পরিচালক কেরিলকোয়েস সুইডেনের ড্রাগ কন্ট্রোল নীতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মডেল হিসেবে উল্লেখ করেন।

২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইএমসিডিডিএ এর রিপোর্টে দেখা গেছে যে, সুইডেনে মাদক ব্যাবহারকারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে।

ঐতিহাসিকভাবে একটি দরিদ্র রাষ্ট্র ছিল সুইডেন। আর জীবনযাপনের মান ছিল অনেক কম। তবে তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে সুইডেন বরাবরই উপরের দিকে ছিল।

উনিশ শতকের শুরুতে দেশটিতে সাম্প্রদায়িক আন্দোলেনের উত্থান হয় এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় অ্যালকোহলের একচেটিয়া ব্যবসা চালু হয় সুইডেনে। ১৯৩০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অ্যালকোহল ব্যবহার হ্রাস পায়।

১৯২৩ সালে সুইডেন প্রথম মাদক আইন করে। সে সময় আন্তর্জাতিক আফিম কনভেনশনে যোগ দেয় সুইডেন। এরপর দেশটিতে আফিম ও কোকেনসহ কয়েকটি মাদকদ্রব্য আমদানি রপ্তানির অনুমোদন দেয়। ১৯৩০ সালে মাদকদ্রব্যের সংখ্যা বাড়িয়ে কোকা পাতা এবং গাঁজাকে সংযুক্ত করা হয়।

তবে দেশটিতে মাদকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযান পরিচালনা করে ট্রাফিক পু্লিশ। গাড়ি চালানোর সময় মাদক ব্যবহারে কঠোর তারা। প্রতি বছর ২৫ লক্ষ সাধারণ পরীক্ষা এবং ১২ হাজার সন্দেহজনক পরীক্ষা করে পুলিশ।

দেশটির সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও তাদের কর্মীদেরকে নিয়মিত মাদক পরীক্ষা করে থাকে। সেখানে পরিমাণের চেয়ে বেশি মাদক সেবনের প্রমাণ পেলে অনেক সময় চাকরি হারাতে হয়।

তবে নির্ধারিত মাত্রার বেশি মাদক নিলে সাজা পেতে হয়। দেশটিতে মাদক আইনে চার প্রকারের শাস্তি রয়েছে। তা হলো: ক্ষুদ্র মাদকদ্রব্য অপরাধের কারণে জরিমানাসহ সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড।

মাদকদ্রব্য অপরাধ ক্ষুদ্রের চেয়ে বেশি হলে জরিমানাসহ সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান আছে।

আর মারাত্মক কোনও মাদকদ্রব্য অপরাধের সর্বনিম্ন শাস্তি দুই বছরের জেল এবং সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ মারাত্মক কোনও মাদকদ্রব্য অপরাধে সর্বনিম্ন ছয় বছরের জেল এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড।

ঢাকাটাইমস/৩০মে/একে/ডিএম/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বিশেষ প্রতিবেদন বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত