বাজেটে গরিবের জন্য কী কী আছে?

সঞ্চয় দে
| আপডেট : ০৯ জুন ২০১৮, ১৩:৫৩ | প্রকাশিত : ০৯ জুন ২০১৮, ১০:৪১

বাজেট ঘোষণার পরদিন অর্থমন্ত্রীকে কোনো এক সাংবাদিক ‘অনেকের’ উদ্ধৃতি দিয়ে এ ধরনের প্রশ্ন করতে পারেন, ভাবতে সংবাদ কর্মী হিসেবেই লজ্জা হয়। পুরো ২৪ ঘণ্টায় উনার সময় হয়নি বাজেটটি ঘেটে দেখার, শুধু ‘অনেকের’ বলাবলিকে আশ্রয় করে উনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। তাও আবার শুধু ১১০০ স্কয়ার ফুট পর্যন্ত ফ্ল্যাটের নিবন্ধন খরচ আধা শতাংশ বাড়ানোর তথ্যের ভিত্তিতেই ওনার এই ভয়ঙ্কর ‘প্রশ্নবান’।

আমি জানি না, দেশের কোন ‘গরিব’-এর ফ্ল্যাট প্রাপ্তি এই বাজেটের ফলে রুদ্ধ হচ্ছে। পাশাপাশি এই বাজেট প্রথম আলোর ভাষায় গরিবকে শুধু কম দামে ‘পাউরুটি আর স্যান্ডেল’-এর জোগান দেবে- এমন ধরনের তামাশারও কিছু পাইনি। বরাবরের মতো আমার আগ্রহের জায়গাটি এবারেও ছিল সামজিক সুরক্ষা খাতের পরিকল্পনা নিয়ে এবং মোটামুটিভাবে আমার অর্থমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভালো লেগেছে। এসব কোনো ‘গরিব মারা’র বাজেটে থাকে কি না আমার জানা নেই-

১. বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৩৫ লাখ থেকে ৪০ লাখে উন্নীত করা হবে।

২. অস্বচ্ছল যুদ্ধাহত ও অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।

৩. বিধবা ও স্বামী নিগৃহিতা মহিলা ভাতাভোগীর সংখ্যা ১২ লাখ ৬৫ হাজার থেকে ১৪ লাখে উন্নীত করা। অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতাভোগীর সংখ্যা সংখ্যা ৮ লাখ ২৫ হাজার থেকে ১০ লাখে উন্নীত করা হবে।

৪. প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির হার বাড়িয়ে প্রাথমিকে ৫০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকায়, মাধ্যমিকে ৬০০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকায় এবং উচ্চমাধ্যমিকে ৭০০ টাকা থেকে ৮৫০ টাকা করা হবে এবং ভাতাভোগীর সংখ্যা ৮০ হাজার থেকে ৯০ হাজারে উন্নীত করা হবে।

৫. হিজড়া, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উপবৃত্তির হার প্রাথমিকে ৩০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা, মাধ্যমিকে ৪৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা, উচ্চ মাধ্যমিকে ৬০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা এবং উচ্চতর শিক্ষায় ১ হাজার টাকা থেকে ১২০০ টাকা হবে।

৬. বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৬ হাজার থেকে ৬৪ হাজারে উন্নীত এবং এদের মধ্যে বিশেষ ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার হতে ৪০ হাজারে এবং শিক্ষা উপবৃত্তি প্রাপ্তদের সংখ্যা ১১ হাজার থেকে ১৯ হাজারে উন্নীত করা হবে।

৭. ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার করা হবে।

৮. চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজারে বাড়ানো হবে।

৯. দরিদ্র মায়ের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা মাসে ৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা এবং ভাতার মেয়াদ ২ বছরের পরিবর্তে ৩ বছর করা হবে। ভাতাভোগীর সংখ্যা ৬ লাখ থেকে ৭ লাখ বাড়ানো হবে।

১০. কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তার আওতায় মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা এবং ভাতার মেয়াদ ২ বছরের পরিবর্তে ৩ বছর করা হবে। ভাতাভোগীর সংখ্যা ২ লাখ থেকে আড়াই লাখ করা হবে।

১১. কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার প্রতিটিতে ২০ হাজার হিসেবে মোট ৪০ হাজার বাড়িয়ে ভিজিডি কার্যক্রমের উপকারভোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ৪০ হাজারে নেয়া হবে।

১২. বেসরকারি ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিতদের জন্যও পেনশন সুবিধা চালুর পরিকল্পনা (প্রথম পর্যায়ে অল্প পরিসরে)।

লেখক: সাংবাদিক

সংবাদটি শেয়ার করুন

মতামত বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত