বাস ট্রেন লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের স্রোত

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
 | প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৮, ১১:৪১

দরজায় কড়া নাড়ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি বাড়ির পানে ছুটছে মানুষ। তিন দিন আগে থেকে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা শুরু হলেও তাতে ‘ঈদের ভিড়ের’ আবহ ছিল অনেকটা কম। কিন্তু বুধবার প্রকৃত ঈদযাত্রার চিত্র দেখা গেছে রাজধানীজুড়ে। সকাল থেকেই রাজধানীর প্রতিটি বাস টার্মিনালে ছিল নীড়ে ফেরা মানুষের স্রোত। বাদ যায়নি ট্রেন স্টেশন ও লঞ্চঘাটও। ঘরমুখো মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে এসব স্টেশন।

সকালে গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে যাত্রীদের চাপ দেখা গেছে। যারা টিকিট পেয়েছেন তারা নিশ্চিন্তে বসে থাকলেও রাস্তায় যানজটের একটা আশঙ্কার ছাপ দেখা গেছে তাদের চোখেমুখে। আবার যারা টিকিট নিতে পারেননি তারা ছুটছেন বিভিন্ন কাউন্টারে। অনেকে কষ্ট করে টিকিটের দেখা পেলেও এজন্য গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে হবে এমন আশায় বেশি দামেই টিকিট কাটছেন অনেকে।

গাড়ি আসতে দেরি করার অনেক বাসকে বিলম্বে ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। তবে অন্যান্যবার যেমন দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো আজ তেমন অপেক্ষা করতে হয়নি যাত্রীদের।

পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন মহাসড়কে ধীরগতিতে গাড়ি চলায় টার্মিনালে পৌঁছাতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। সবাই নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।

তবে বাস স্টেশনের চেয়ে বেশি ভিড় দেখা গেছে কমলাপুর রেলস্টেশনে। সকালে সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, মানুষ আর মানুষ। কাঙিক্ষত ট্রেন স্টেশনে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাগ, লাগেজ হাতে নিয়ে মানুষ ছুটছেন সেদিকে। দরজা দিয়ে ঢুকতে না পেরে অনেকে জানালা দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করছেন। ট্রেনে আসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পুরো ট্রেন মানুষে ভরে যায়।

ট্রেনে যারা সিট পাননি তারা দাঁড়িয়েই গন্তব্যে যাচ্ছেন। সবমিলিয়ে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়ে ট্রেনের ভেতরে যেন তীল ধারণের ঠাঁই নেই। এছাড়া ট্রেনের ভেতরে যারা উঠতে পারেননি তারা অবস্থান নেন ট্রেনের ছাদে। যে যেভাবে পারছেন ট্রেনের ছাদে উঠে পড়ছেন।

স্টেশনে মানুষের ভিড় অনেক থাকলেও প্রতিটি ট্রেনে গন্তব্যের উদ্দেশে সময়মতো ছেড়ে গেছে।

এছাড়া সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও ভিড় ছিল উপচেপড়া। কেউ সপরিবারে, আবার কেউ একাই আসছেন এক বা একাধিক ব্যাগ নিয়ে।

ধামরাই থেকে সদরঘাটে এসেছেন আনিসুজ্জামান। তিনি যাবেন বরিশালে। ঢাকাটাইমসকে তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় লঞ্চে জায়গা পাওয়া যায় না বিষয়টি আগে থেকেই জানি। তাই ভোরে বাসা থেকে রওনা হয়েছি। কষ্ট করে হলেও লঞ্চে উঠতে পারলেই বাঁচি।’

এদিকে ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রী নির্বিঘ্ন করবে সব জায়গাতেই প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা দেখা গেছে।

ঢাকাটাইমস/১৩জুন/এমআর

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত