কারাগারে প্রেমিককে হেরোইন দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার ছাত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৩ জুন ২০১৮, ১৯:৫৩ | প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৮, ১৭:২৭

যত কাণ্ড কারাগারে। শুক্রবার রাতে পশ্চিমবঙ্গের আলিপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদিদের কাছে মাদক ও মোবাইল ফোন পাচারের অভি‌যোগ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন কারা চিকিৎসক অমিতাভ চৌধুরী। এবার দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে মাদক পাচার করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেন এক কলেজছাত্রী।

সুস্মিতা মালাকার নামে ওই তরুণীকে আটক করার পর পুলিশ প্রথমে তাকে ‘চুনোপুঁটি’ বলেই মনে করেছিল। কিন্তু জেরার মুখে জানা যায়, আপাত নিরীহ ওই কলেজছাত্রী একটা গ্যাং-এর নেত্রী। কারাগারে বসে থাকা অপরাধী, যে আসলে ওই তরুণীর প্রেমিক, তারই নির্দেশে চলত চাঁদাবাজি, ডাকাতি বা খুনের মতো অপরাধ। আর গোটা চক্রটাই একা হাতে সামলাতেন সুস্মিতা।

মঙ্গলবার বিকালে দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে এসেছিল সুস্মিতা। কারারক্ষীদের তিনি জানিয়েছিলেন, বিচারাধীন বন্দী ভগীরথ সরকারের সঙ্গে দেখা করতে চান। নিজেকে ভগীরথের আত্মীয় বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। নিরাপত্তারক্ষীদের দাবি, তল্লাশি চালানোর সময় একটি পাউডারের কৌটো পাওয়া যায় ওই তরুণীর কাছে। সেই কৌটার ভিতরে ছিল হেরোইন। সঙ্গে সঙ্গেই তাকে আটক করা হয়। এরপরেই শুরু হয় জিজ্ঞাসাবাদ। খবর পাঠানো হয় দমদম থানায়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ওই তরুণীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, সুস্মিতার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের ন’পাড়ার নেতাজি পল্লিতে। আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজের দ্বিতীয় বর্ষে সংস্কৃত নিয়ে পড়াশোনা করছেন তিনি। থানায় নিয়ে গিয়ে সুস্মিতাকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পুলিশ জানতে পারে, উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গা এলাকার কুখ্যাত অপরাধী ভগীরথের হয়েই তার গ্যাং চালাচ্ছে সুস্মিতা। ভগীরথের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে ছয়টি মামলা ঝুলছে। চাঁদাবাজি-ডাকাতি-খুনের জন্য নিয়মিত কারাগারেও থেকেছে সে। বীজপুরে একটি ডাকাতির ঘটনায় মাস কয়েক ধরেই দমদম কারাগারে বিচারাধীন হিসাবে বন্দি রয়েছে ভগীরথ। প্রতি সপ্তাহে দু’বার করে কারাগারে ভগীরথের সঙ্গে দেখা করতে আসতেন সুস্মিতা। এই দেখা করার নাম করেই ভগীরথকে কারাগারের ভিতরে হেরোইন পৌঁছে দিতেন সুস্মিতা।

তদন্তে জানা গিয়েছে, ভগীরথের সঙ্গে বছরখানেক আগে ফেসবুকে আলাপ হয় সুস্মিতার। সেই সময় থেকেই তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা। অপরাধে ভগীরথের হাতে খড়ি বাইক চুরি দিয়ে। তারপর মাদক পাচারের ব্যবসাও শুরু করে সে। এর মধ্যে সুপারি নিয়ে খুনের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। কুখ্যাত অপরাধী ভগীরথ কারাগারে থাকলেও তার চক্রের কাজকর্ম কিন্তু থেমে থাকেনি। পুলিশ এবং কারারক্ষীদের একাংশের সন্দেহ ছিল, কারাগারের বাইরে থাকা কেউ তাকে সাহায্য করছে। তবে সেই ব্যক্তি কে, তা নিয়ে কোনও ধারণা ছিল না কারও। শেষে সুস্মিতা গ্রেপ্তার হতেই পর্দার আড়ালে থাকা সেই ‘ব্যক্তি’র পরিচয় ফাঁস হয়ে যায়।

এত কম বয়সে, এত নিপুণ হাতে সব কিছু সামলাচ্ছেন এক কলেজছাত্রী। দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারের এই ঘটনায় রীতিমতো হতবাক পুলিশ কর্মকর্তারা।

এক তদন্ত কর্মকর্তার কথায়, ‘২০১৭ সালে আমডাঙাতে বাইক চুরিকে কেন্দ্র করে এক যুবক খুন হয়ে যান। সেই ঘটনাতে বড় ভূমিকা ছিল সুস্মিতার। ওই ঘটনায় ভগীরথ ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করেছিল। খুনের পর সে গা ঢাকা দেয়। সেই সময় ভগীরথের ভাগের টাকা লেনদেন হয় সুস্মিতার মাধ্যমে। ভগীরথ গ্রেপ্তার হওয়ার পরে ওর বাইক চুরির গ্যাং-এর ‘অপারেশন’ পুরোটাই দেখতেন এই ছাত্রী।’

পুলিশের দাবি, ভগীরথের নির্দেশেই কারাগারের বাইরে তার হয়ে চাঁদাবাজি, খুনের সুপারির নেয়ার মতো কাজকারবার দেখতেন সুস্মিতা।

সুস্মিতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্য দিনের মতো মঙ্গলবারও তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু, রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় দত্তপুকুর থানায় অভিযোগ জানানো হয়। তখনই জানা যায় দমদম থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

বুধবার বারাসত আদালতে পেশ করা হয় ওই ছাত্রীকে। তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

(ঢাকাটাইমস/১৩জুন/এসআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত