সন্দেহ সংশয়ের বিশ্বকাপ - ৩

মিনহাজ ইসলাম
| আপডেট : ১৩ জুন ২০১৮, ২২:০৬ | প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৮, ২১:৪৩

বিশ্বকাপ ফুটবলের সেই জমজমাট আসর আসন্ন। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা করা নিয়ে তর্কযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পাড়া মহল্লায়। এ যেন মাসব্যাপী ঈদ উদযাপন! উৎসবের আমেজ এমনটাই চারিদিকে। এই বিশ্বকাপ ফুটবল দ্বৈরথ যেমন অনেক স্মরণীয় মূহুর্তের জন্ম দিয়েছে ঠিক তেমনি সৃষ্টি করে গেছে কিন্তু অনেক বিতর্কেরও। যা এখনো মুখরোচক ক্রীড়াপ্রেমীদের মাঝে। ডিয়েগো ম্যারাডোনার সেই হাত দিয়ে করা গোল থেকে ২০১৮ এবং ২০২২ বিশ্বকাপ আয়োজনের দায়িত্ব রাশিয়া এবং কাতারকে উপহার দেওয়া পর্যন্ত অসংখ্য বিতর্কের সৃষ্টি করেছে এই বিশ্বকাপ। কোনো কোনো সময় দেখা যেতো সেইসব ঘটনাসমূহের কাছে টুর্নামেন্টের বিজয়ী দলের সাফল্যগাথা কিংবা সেরা খেলোয়াড়দের পারফর্মেন্সও একরকম গৌণ হয়ে গিয়েছে।

ব্যাটল অফ সান্টিয়াগো (১৯৬২)

 

বাষট্টি বিশ্বকাপের ইতালি আর স্বাগতিক চিলির মধ্যকার ম্যাচটিকে বিতর্কিত, লজ্জাজনক, কুখ্যাতসহ বিভিন্ন নেগেটিভ নামে আখ্যা দেওয়া যায়। আসল কাহিনীর সূত্রপাত অবশ্য ইতালিয়ান সাংবাদিকদের হাত ধরে। উল্লেখ্য বিশ্বকাপ শুরুর দুই বছর আগে চিলিতে আঘাত হানে ৯.৫ মাত্রার এক ভয়ংকরতম ভূমিকম্প। ইতালিয়ান মিডিয়া সেই সূত্র ধরে বলে আসছিলো চিলির বেশিরভাগ স্টেডিয়ামই ঐ ভয়াবহ ভূমিকম্পের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে পুরোপুরিভাবে রিকভারি করতে পারেনি এবং বিশেষত সান্টিয়াগো স্টেডিয়ামটি একদমই খেলার অযোগ্য। ম্যাচ শুরুর আগেই তাই দুইদলের খেলোয়ারদের মাঝে বিরাজ করছিল থমথমে উত্তেজনা। উত্তেজনার পারদ যে কতটা উঁচুতে ছিল তা বোঝা যায় ম্যাচ শুরুর ১২ সেকেন্ডের মাথায়ই ফাউলের মধ্য দিয়ে। ম্যাচটিতে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের প্রতি হিংস্রতার পরিমাণ এতোটাই বেগতিক ভাবে বাড়ছিল যে মাত্র বারো মিনিটের মাথায়ই রেফারিকে মাঠ থেকে একজনকে বহিষ্কার করতে হয়। কেউই যেনো কারো চেয়ে কম যায় না দুই দলই একে অন্যকে শারীরিক আক্রমণ করতে থাকে অজস্র উপায়ে। কিল,ঘুষি,ধস্তাধস্তি কিছুই বাদ যাচ্ছিল না বিধায় লোকাল পুলিশকে মোটমাট তিনবার মাঠে নামা লাগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করবার জন্য।

আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফিক্সড (১৯৭৮)

 

অনেকেই বিশ্বাস করেন ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপটিতে প্রচুর পরিমাণে ফিক্সিং হয়েছিল এবং আর্জেন্টিনার তৎকালীন সামরিক শাসক জেনারেল জর্জ রাফায়েল ভিদেলার সেখানে বেশ বড় ভূমিকা ছিল। অনেকগুলো বিতর্কিত ঘটনা সমালোচকদের সেই রায়ে ঘি ঢেলে দেয়। তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ব্রাজিলকে টপকে আর্জেন্টিনার ফাইনালে কোয়ালিফাই। সেই সময়ের কোয়ালিফাইং সিস্টেমে ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে ফাইনালে উঠতে হলে আর্জেন্টিনার পেরুর বিপক্ষে কম করে হলেও ৪-০ গোলে জয়ের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ঐসময়ের পেরুর ন্যাশনাল ফুটবল দলটি এতোটাও ফেলনা ছিল না যে আর্জেন্টিনা ওরকম স্কোরলাইন নিয়ে পেরুকে হারিয়ে আসবে। সেখানে লা আলবিসেলেস্তেরা ৬-০ গোলের এক বিশাল ব্যবধানে পেরুকে হারিয়ে দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।

সমালোচকদের ভাষ্যমতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটিও বাদ যায়নি ফিক্সিং এর ছোঁয়া থেকে। নেদারল্যান্ডস ফুটবল দল ফাইনালের ভেন্যুতে পৌঁছায় খেলা শুরু হওয়ার মাত্র দশ মিনিট আগে। যেমনটা আগে বা পরে কোনো বিশ্বকাপ আসরেই হয়নি। নেদারল্যান্ডস ফুটবল দল তাদের ম্যানেজমেন্টসহ ফাইনালের ভেন্যুতে যাতে দেরীতে পৌঁছায় সেজন্য তাদেরকে হোটেল থেকে স্টেডিয়ামে নিয়ে আসা হয় ভিন্ন এক রুট ধরে। এবং নির্ধারিত স্থানে পৌছাবার মাত্র দশ মিনিটের মধ্যেই তাদেরকে প্রায় সত্তর হাজার আর্জেন্টিনা সমর্থকের উন্মত্ততার শিকার হতে হয়। ম্যাচ চলাকালীন সব ফিফটি-ফিফটি ডিসিশন গুলিই যায় স্বাগতিকদের পক্ষে। আর সেই সঙ্গে ৩-১ গোলের ব্যবধানে ডাচদের হারিয়ে ফাইনাল তথা শিরোপা জিতে নেয় আর্জেন্টিনা ইতিহাসের অন্যতম এক বিতর্কিত টুর্নামেন্টে।

 

(ঢাকাটাইমস/১৩জুন/এমআই)

সংবাদটি শেয়ার করুন

খেলাধুলা বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত