গাজীপুরে বাড়িমুখো শ্রমিক-ভোটারদের ‘জামাই আদর’

আবুল হাসান, গাজীপুর
| আপডেট : ১৩ জুন ২০১৮, ২৩:৩৮ | প্রকাশিত : ১৩ জুন ২০১৮, ২১:৫৯

গাজীপুরের বিভিন্ন কারখানার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে একাধিক বাস। এসব বাসে কোনো হাঁকডাক নেই। আগেভাগে এনে রাখা হয়েছে কারখানার শ্রমিকদের গ্রামের বাড়ি পৌঁছে দিতে, যাতে তারা স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উদযাপন করতে পারে। পাড়া মহল্লায়ও এমন ঘোষণা। যেন নওশা তুলে নিতে দোয়ারে দাঁড়িয়ে পালকি।

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই নির্বাচনী মাঠ নিয়ে প্রার্থীদের হিসাব-নিকাশের পরিধি বাড়ছে। বাড়ছে চিন্তাও। তবে সবচেয়ে বেশি চিন্তার কারণ হচ্ছে গাজীপুরে কর্মরত বিভিন্ন পেশার লোকজনের  গ্রামের বাড়ি ঈদ করতে যাওয়া নিয়ে। ফাঁকা হচ্ছে গাজীপুর।

ঈদে বাড়ি যাওয়া এসব ভোটার সঠিক সময়ে নির্বাচনী এলাকায় ফিরতে পারবেন কি না এ নিয়ে চিন্তায় ভাঁজ পড়েছে মেয়র-কাউন্সির সব প্রার্থীর কপালে।

গাজীপুর সিটি এলাকায় এক লাখের বেশি ভোটার রয়েছে যারা মূলত শ্রমিক। তাদের অনেকেই এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের ছুটি নেয় বাড়িমুখো হচ্ছেন।

ঈদের ছুটির পরই শুরু হবে নির্বাচনের ভোটযুদ্ধ। ২৬ জুন হবে ভোট। এই সময়ে শ্রমিক ভোটারদের বেশির ভাগই থাকবেন লম্বা ছুটিতে। তাই মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা চাইছেন শ্রমিকরা যেন ২৬ জুনের আগে কর্মস্থলে ফিরে আসেন। কেউ কেউ শ্রমিক ভোটারদের যথাসময়ে ফিরিয়ে আনতে নিয়েছেন বিশেষ উদ্যোগ। এর মধ্যে বাস ভাড়া করে তাদের বাড়ি পৌঁছে দেয়া ও ভোটের আগে ফিরিয়ে আনার মতো ভ্যবস্থা রয়েছে।

এদিকে বড় দুই রাজনৈতিক দলের মেয়র প্রার্থীরা প্রতিদিন ইফতার মাহফিল ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ভোট প্রার্থনা করে চলেছেন।
রমজান মাসে আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম নগরীর ৫৭টি ওয়ার্ডেই ইফতার সম্পন্ন করেন। মহানগর আওয়ামী লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ১০টি থানা আওয়ামী লীগ ২৭ দিনে শতাধিক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। এসব ইফতার মাহফিলে অন্তত তিন লাখ মানুষ ইফতার করেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারও বিভিন্ন সংগঠন-প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দেন। গতকাল মঙ্গলবার নগরের ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের মিলগেট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হাজি দুলালের ব্যক্তিগত একটি ইফাতার মাহফিলে অংশ নেন তিনি। এ সময় তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে দোয়া ও ভোট প্রার্থনা করেন। এর আগে তিনি নিজ বাসায় আগত নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে গাজীপুরের পোশাক কারখানার ছুটি শুরু হবে ১৫ জুন। কোনো কারখানা ১০ দিন, কোনো কারখানা তারও বেশি ছুটি ঘোষণা করছে। এ ছাড়া অনেক শ্রমিক ছুটি শেষ হলেও নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরে আসেন না এমনটা দেখা যায় প্রতিবছর। এ কারণে ভোটের দিন শ্রমিক ভোটারদের বড় অনুপস্থিতির আশঙ্কা প্রার্থীদের।

মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা নিজ উদ্যোগে শ্রমিক ও কারখানা কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছেন। তারা উপায় খুঁজছেন কীভাবে শ্রমিক ভোটারদের ভোটের আগে গাজীপুরে ফিরিয়ে আনা যায়।

জানা গেছে, অনেক কাউন্সিলর প্রার্থী শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে শ্রমিকদের ভোটের আগে ফিরিয়ে আনতে বাস ভাড়া করে দিচ্ছেন। ওই বাস যথাসময়ে তাদের গন্তব্যে নিয়ে যাবে এবং ভোটের আগে তাদের ফিরিয়ে আনবে। শ্রমিকদের যাওয়া-আসার খরচ দিচ্ছেন প্রার্থীরা।

গাজীপুর সিটি এলাকায় দেড় হাজারের বেশি শিল্পকারখানা রয়েছে। এগুলোতে কাজ করেন নানা শ্রেণির শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের মধ্যে কেউ জমি কিনে বাড়ি করেছেন। আবার কেউ বাসাবাড়িতে ভাড়া থাকলেও ভোটার হয়েছেন। এমন এক লাখের বেশি শ্রমিক ভোটার এবার ঈদে বাড়ি যাচ্ছেন।

তাদের অনুপিস্থিতির কারণে ভোটে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় প্রার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। বিশেষত শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এ প্রভাব পড়তে পারে প্রকটভাবে। সংকট সমাধানে মরিয়া প্রার্থীরা। গাজীপুর শহরের শিববাড়ী থেকে চৌরাস্তা, চৌরাস্তা থেকে টঙ্গী, চৌরাস্তা থেকে কোনাবাড়ী সড়কের দুই পাশে থাকা কারখানার শ্রমিকদের বাড়ি পৌঁছে দিতে বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষ থেকে রিজার্ভ বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

মহানগরের পাড়া-মহল্লার সড়কগুলোতেও প্রার্থীদের উদ্যোগে রিজার্ভ বাসের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কাউন্সিলর প্রার্থীরাই এগিয়ে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

টঙ্গী এলাকার শ্রমিক নেতা মাইনুদ্দিন হোসেন বলেন, তার সঙ্গে টঙ্গীর ৪৬, ৪৭ ও ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থী যোগাযোগ করেছেন। টঙ্গী বিসিক ও মিরাশপাড়া এলাকার শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য বাস ভাড়া করে দিতে চান ওই প্রার্থীরা। তাদের ইচ্ছামতো বাস ভাড়া করে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

কোনাবাড়ি এলাকার কারখানা শ্রমিক আব্দুল মোমিন জানান, প্রতিবছর তিনি নিজে চারটি গাড়ি ভাড়া করেন উত্তরবঙ্গে যাওয়ার জন্য। তাদের বাসে থাকবে রাজশাহী ও চাপাইনবাবগঞ্জের শ্রমিকরা। এতে তার কিছু লাভও থাকে। এবার স্থানীয় একজন কাউন্সিলর শ্রমিকদের জন্য চারটি বাস ভাড়া করে দিচ্ছেন। এর জন্য কাউকে কোনো টাকা দিতে হবে না।

এ বিষয়ে জানতে একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কথা বলতে রাজি হননি।

(ঢাকাটাইমস/১৩জুন/মোআ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত