ঈদ মোবারক

আরিফুর রহমান দোলন
 | প্রকাশিত : ১৫ জুন ২০১৮, ২০:০৯

‘রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ’- জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের এই শ্বাশত আবাহনী সংগীত অনুরণন তুলছে বাংলাদেশসহ উপমহাদেশের মুসলিম প্রাণে। কাল শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে এই অঞ্চলে।

এদিকে আজ যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ বিশ্বের অনেক দেশে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।

ভ্রাতৃত্ব ও সাম্যের এই উৎসবে আমাদের পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতাসহ সব শুভানুধ্যায়ীকে জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। ঈদ মোবারক।

এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদ নিয়ে আসে শান্তি আর আনন্দের সওগাত। ঘরে ঘরে চলে ঈদ উৎসবের প্রস্তুতি। ইতিমধ্যে সেই পর্বও শেষ। গৃহিণীরা এখন ব্যস্ত পরিবারের স্বজন আর অতিথিদের জন্য ফিরনি-পায়েস পোলাও-কোরমার আয়োজনে। মেহেদিতে হাত রাঙানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কিশোরী-তরুণীরা।  

কাল সকালে উঠে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা নতুন জামা-কাপড় পরে দলে দলে যাবেন ঈদগাহে। সেখানে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের মাধ্যমে নিজেকে সমর্পণ করবে আল্লাহর দরবারে। এরপর ছোট-বড় ধনী-গরিব সব ভেদাভেদ ভুলে কোলাকুলির মধ্য দিয়ে ঘোষিত হবে সাম্যের বারতা। কবি কাজী নজরুল ইসলাম কবিতার ভাষা যেন অনুরণিত হয়- ‘আজ ভুলে যা সব হানাহানি, হাত মেলা হাতে’।

আসলে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঈদ উৎসব জীবনকে নতুন করে রাঙানোর উপলক্ষ। সব সংকীর্ণতা ও ভেদাভেদ ভুলে পরস্পরের সঙ্গে মিলিত হওয়ার উৎসব।

ঈদ উৎসবকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ নগর-বন্দরের কর্মজীবী মানুষের বাড়ি ফেরায় প্রতিবছর বেশ ভোগান্তির সৃষ্টি হয় যানবাহনের অপ্রতুলতার কারণে। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করার পরও অনেক মানুষকে ট্রেনের ছাদে চড়ে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। বাসযাত্রা এক মহা ভোগান্তির নাম বেশ কয় বছর ধরে। তবে এবার ট্রেনের চিত্র একই থাকলেও বাসযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছ্।ে

রমজানে দ্রব্যমূল্য আগেরবারের তুলনায় কিছুটা নিয়ন্ত্রিত ছিল এটা আশার কথা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কোনো অস্থিরতা নেই। সামনের দিনগুলো যেন নির্ঝঞ্ঝাটভাবে কাটাতে পারে সবাই, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। আশা করি এবারের ঈদ সবার জন্য আনন্দময় হবে।

তবে ঈদের মতো উৎসব বর্ণিল হয়ে ওঠে সমাজের সবার অংশগ্রহণে। ধনী-গরিব, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে  সবাই যেন এই উৎসবে শামিল হতে পারে সেদিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। ঈদ আমাদের জীবনে যে ঐক্য ও শুভবোধ জাগ্রত করে, তা সঞ্চারিত হোক সবার প্রতিদিনের জীবনে।

প্রতি বছরই ঈদের ছুটিতে রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটে। নিশ্চয়ই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা নাগরিকরা নিজের বাসার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ব্যাপারে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে এই সময়ে, যাতে কারও সহায়-সম্পদ খোয়া না যায়।

সবাইকে আবারও জানাই ঈদ মোবারক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজপাট বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত