‘আমি মনে করি সাহিত্যটা অ্যালজেব্রা না’

জব্বার আল নাঈম
| আপডেট : ১৬ জুন ২০১৮, ১১:০০ | প্রকাশিত : ১৬ জুন ২০১৮, ১০:৫৮

হেলাল হাফিজ ১৯৪৮ সালের ৭ অক্টোবর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন। ওই শহরেই কাটে তার শৈশব, কৈশোর ও প্রথম যৌবন। নেত্রকোনায় স্কুল ও কলেজজীবন শেষ করে তিনি ঢাকা ভর্তি হন বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় রচিত কবির ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতাটি তাকে রাতারাতি তারকাখ্যাতি এনে দেয়। ‘এখন যৌবন যার মিছিলে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়/এখন যৌবন যার যুদ্ধে যাবার তার শ্রেষ্ঠ সময়’ তার এই অমর পঙ্ক্তিযুগল পাণ্ডুলিপি থেকে উঠে আসে মিছিলে, স্লোগানে আর এই ভূখণ্ডের দেয়ালে দেয়ালে। বিস্ময়ের বিষয় হেলালের কবিতা ব্যতীত এখন তরুণ-তরুণীর প্রেমও থেকে যায় অসম্পূর্ণ। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত হয় হেলাল হাফিজের প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘যে জলে আগুন জ্বলে’। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সর্বাধিক বিক্রীত এই কাব্যগ্রন্থ কবিকে এনে দেয় তুঙ্গস্পর্শী কবিখ্যাতি আর ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা। সাক্ষাৎকার গ্রহণ জব্বার আল নাঈম

শৈশবের কবিতার প্রতি ভালো লাগা বা ভালোবাসার সূত্রপাত কখন থেকে শুরু বুঝতে পারেন?

শৈশব বলো আর কৈশোর বা যৌবনের শুরুর দিকে আমি কবি ছিলাম না। কবিতা পড়তাম। লিখতাম না। ছিলাম একজন খেলোয়াড়। নেত্রকোনা শহরের বিভিন্ন জায়গায় আমি তখন খেলতে যেতাম। খুব ভালো খেলতাম। খেলোয়াড় হিসেবেও আমার একটা সুনাম ছিল। সে জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে আমার ডাক পড়ত বেশ। বলা যায় শৈশবে আমি খুব খেলা পাগল ছিলাম। তখন বেশির ভাগ সময়ই মাঠে পড়ে থাকতাম।

কোন ধরনের খেলা?

এই ধরো ফুটবল, ভলিবল, ক্রিকেট; তবে ক্রিকেটটা একটু কম খেলতাম। কারণ তখনও ক্রিকেটের এত জনপ্রিয়তা বাড়েনি। আজকের এই পর্যায়ে ক্রিকেট চলে আসবে তখনকার অনেকেই ভাবেনি। ক্রিকেটের এত প্রচার বা প্রসারতার কারণ হলো, করপোরেট কোম্পানি। এর পেছনে তাদের বিশাল ভূমিকা রয়েছে। তখনকার নেত্রকোনার মতো মফস্বল শহরে আজ হতে ৫৫-৬০ বছর পূর্বে আমি লং টেনিসও খেলেছি। আর সেটাও খেলতে পেরেছি আমার বাবার কারণে। আমার বাবা সে সময় নেত্রকোনার খুব খ্যাতিমান একজন শিক্ষক ছিলেন। সেই সুবাধে আমার সুযোগ হয়েছে। খেলাধুলা বেশি করারও আরেকটা কারণ ছিল। আমার বয়স যখন তিন তখন আমার মাতৃবিয়োগ হয়। সারাদিন মন খারাপ থাকত। একটা সময় খেলার দিকে মনোযোগী হলে মায়ের আদর ও ভালোবাসা একটু হলেও ভুলে থাকতে পারতাম। আমার বড় ভাইও মানসিকভাবে খুব ভেঙে পরেন। এত কম বয়সে মাকে হারানোটা আসলেই তখন মেনে নিতে পারিনি আমরা।

৬৬ ছয় দফা উত্থাপনের সময় আপনি ঢাকায়?

আমি তখনও ঢাকায় নিয়মিত হই না। থাকতাম নেত্রকোনায়। তখন এসব নিয়ে এত মনোযোগীও ছিলাম না। মনোযোগী না হওয়ার পেছনের কারণ হতে পারে ঢাকায় না থাকাটা। তখন এত যোগাযোগের ব্যবস্থাও ছিল না। যার ফলে ঢাকায় কী হচ্ছে তা সাথে সাথে আমরা জানতাম না। যাওয়া-আসায় সময় যেত দু-তিন দিন। তত দিনে আন্দোলনের গতি অন্যদিকে ঘুরে যেত। তবে শিক্ষা আন্দোলন কিছুটা মনে আছে। ক্লাস না করে তারা বেরিয়ে যেত।

নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় প্রেক্ষাপট সম্পর্কে বলুন

৬৯’র গণ-অভ্যুত্থান আমাকে এক ধাক্কায় ওই যে ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতাটি লিখতে সাহায্য করে। এই ৬৯’র গণ-অভ্যুত্থান না হলে এই কবিতাটি আমার মাথায় আসত না। লেখাও হতো না হয়তো। আর কবিতাটি যখন লিখি তখন আমি ইকবাল হলে আবাসিক থাকতাম। এখন যা জহুরুল হক হল নামে পরিচিত। তৎকালে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল দুটি জায়গা। একটি ছিল শেখ মুজিবের ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বাড়ি। আরেকটি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হক হল। এই ৬৯’র গণ-অভ্যুত্থানের সময় আমি আমার ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’ কবিতাটি লিখে রাতারাতি বিখ্যাত বলো কিংবা তারকা খ্যাতি বলো সেটি পেয়ে যাই। তখন তো ইউনিভার্সিটিতে সমস্ত দেয়ালে লিখন হলো। এটা হয়েছিল আহমদ ছফা এবং হুমায়ূন কবীরের নেতৃত্বে। তারা আবার বাম রাজনীতি ঘেঁষা লোক ছিল তো। দুইজনেই আমাকে অত্যন্ত পছন্দ করতেন। এই একটি কবিতা লিখেই আমি একদম তারকা বনে গেছি। আমার সম্মানও বাড়তে থাকে। ওই যে নজরুলের বিদ্রোহী কবিতার মতো। (হা হা হা...) তারপর তো কত যুদ্ধ হলো। জীবন যুদ্ধ। আমাকে টিকে থাকার যুদ্ধ। যুদ্ধ আমি এখনও করছি।

আহমদ ছফা নাকি তখন আপনাদের সবার গুরু ছিলেন? সমসাময়িকদের গাইড করতেন?

হেলাল হাফিজ: হুম। গুরু বলতে আসলে ছফা ভাই (আহমদ ছফা) প্রতিভা চিনতেন। যাঁর ভেতরে মেধা আছে বা প্রতিভা আছে তিনি তাদের নার্সিং করতেন সময় দিতেন। আড্ডা দিতেন। বিভিন্ন প্রোগ্রামে ডাকতেন। কখন কোন বই পড়তে হবে, তা বলতেন। বই সংগ্রহ করে দিতেন। কোন লেখাটা পড়া জরুরি, তাও বলতেন আমাদের। তিনি আমাদের অনেক দিক দিয়ে হেল্প করতেন, যা উপকার হয়েছে। এটা সবাই করতে পারে না। ছফা ভাই অনেক বড় হƒদয়ের মানুষ ছিলেন। লেখক হিসেবেও ছিল অনেক বড় মানের।

কার বই কখন বের হবে তাও সিলেক্ট করে দিতেন?

ঘটনা হয়েছে কি, আমি যখন নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় লিখলাম তখন ছফা ভাই আর হুমায়ূন কবীর ভাই কবিতা নিয়ে তৎকালীন দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকায় গিয়েছিলেন। পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক কবি আহসান হাবিব। খুব পরিচিত একজন সম্পাদক। ছফা ভাইয়ের সাথে আমিও গিয়েছিলাম। আহসান হাবিব ভাই কবিতা পড়েন আর আমার দিকে তাকান। বলে রাখি, দৈনিক পাকিস্তান তখন সরকারি কাগজ। আর নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় হলো, সরাসরি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কবিতা। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। একটা সংগ্রামের আহ্বান। তো বুঝতেই পারছ। এই কবিতা ছাপলে পরের দিনই তার চাকরি যাবে। এমনকি কাগজটিও বন্ধ হয়ে যেতে পারত। সুতরাং তিনি ছফা ভাইকে বললেন। শোনো, ও তো বাচ্চা ছেলে মনে কষ্ট পাবে। লেখা তো ছাপা যাবে না। ছাপলে কালকের কাগজ বন্ধ হয়ে যাবে। তবে একটা কথা বলে রাখি হেলাল অমরত্ব পেয়ে গেছে। ওর আর কবিতা না লিখলেও চলবে। তখন আসলেই বুঝতে পারিনি। এখন বুঝি। আর হাবিব ভাইও বড় কবি ছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছেন। হা হা হা... এরপর যুদ্ধ শেষ হলে আমরা সবাই আবার ক্যাম্পাসে ফিরি।

যে জলে আগুন জ্বলে প্রকাশ হতে সময় লেগেছে, শেষে ১৯৮৬ সালে প্রকাশ হলো?

মনে মনে তৈরি আমি হচ্ছিলাম ঠিকই। কিন্তু বিষয়টি হচ্ছে কি, আমি আজন্ম খুব অলস। কিন্তু একটা জিনিসি আমি ভালোভাবে খেয়াল করলাম। এখন তো মেলায় এক হাজার বারো’শ কবিতার বই বের হয়। আর তখন বের হত এক’শ বা দেড়’শ বই। কিন্তু দুঃখের বিষয় মেলা শেষে পরদিন থেকে কোনো বইয়ের নাম কারও মুখে আর নেই। কেউ কোনো বইয়ের খোঁজও করে না। আমি এমন একটা বই করতে চাই, যেটা মেলা শেষেও হারিয়ে যাবে না। একটা ইগো তৈরি হলো। এটা মাথায় রেখে দীর্ঘ ১৭ বছর লেখালেখি করেছি। দীর্ঘ ১৭ বছর লেখালেখির পর ১৯৮৬ সালে আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ যে জলে আগুন জ্বলে’ বইটি বের হয়।

আজকাল যারা কবিতার বই বের করে তাদের সিংহভাগ কবিতার বই কিন্তু কবি নিজে টাকা দিয়ে বের করে। এটা তো জানো? আমার ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো। অর্থাৎ প্রকাশ আমাকে টাকা দিয়েছে। টাকা দিয়ে আমার পাণ্ডুলিপি নিয়েছে।

যে জলে আগুন জ্বলে’র পাণ্ডুলিপি প্রস্তুতির সময় আপনি কোন জিনিসের দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন?

৮০-৮১ সনের দিকে শ’ দেড়েক কবিতা নিয়ে পাণ্ডুলিপি নিয়ে বসি। আশির দশক শেষে নব্বই দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও উচ্চারিত হয়েছে আমার কবিতা ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয়’। আবার তরুণ-তরুণীরা প্রেম করবে আমার কবিতা খোঁজে। ছ্যাকা খাওয়ার পরও আমার কবিতা খোঁজে। হাসি... এটাকে কি আমি আমার বিরাট সৌভাগ্য বলব না। অবশ্য একজন কবি হিসেবে এবং জীবদ্দশায় এমন সৌভাগ্য অর্জনে আমি গর্বিত। কবিতায় হয়ত আমি আমার শব্দ ব্যবহার করেছি। কিন্তু এই আমি আসলে সবাই। সবাই ভাবে তাকে কেন্দ্র করেই কবিতা। আবার পড়ার সময় সবাই ভাবে এটা হেলাল হাফিজের কবিতা না। এটা আমার পরম সৌভাগ্য। একটা আমি ৫৬টি কবিতার লিস্ট করলাম। রাতে বাসায় গিয়ে মনে হলো, আরে আমি তো ওই আন্দোলনের সময় ৬ লাইনের একটি কবিতা লিখেছিলাম। আমার জšে§র নামে হবে কলঙ্ক হবে/এরকম দুঃসময়ে আমি মিছিলে না যাই... এই কবিতাটি তো দেওয়া হলো না। আবার পরের দিন এসে আরেকটি কবিতার লিস্ট করি। আবার দুদিন পরে মনে হলো আরে ওই মেয়েটির সাথে ফস্টিনস্টি করার সময় বলেছিলাম আমি তোমার জন্য এই কবিতাটি লিখেছি। এই কবিতাটি আমি বইয়ে দেব। তখন আবার লিস্ট পাল্টাই। এভাবে কত বার যে লিস্ট পাল্টিয়েছি আমি।

যে জলে আগুন জ্বলে’ পরবর্তীতে কীভাবে প্রকাশিত হলো?

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বইটি প্রকাশিত হয় ‘অনিন্দ্য প্রকাশ হতে। বর্তমান যে অনিন্দ্য আছে সেই অনিন্দ্য নয়। আমাকে ধরল বইটি প্রকাশ করার জন্য। সাথে আসে নির্মলেন্দু গুণ, হুমায়ূন আহমেদ ও সালেহ চৌধূরী। এই তিনজন এসে আমাকে বলল যে, কবি, তোমার বইটি অনিন্দ্যকে দিতে হবে। ওই বছর অনিন্দ্য হতে তিনটি বই প্রকাশ হয়। একটা শামসুর রাহমানের, একটি নির্মলেন্দু গুণের। আরেকটা আমার। বই বের হওয়ার পর আমারটা সুপার ডুপার হিট।

এমন জনপ্রিয়তার পরেও গত ত্রিশ বছরে আপনার দ্বিতীয় বই বাজারে আসেনি!

ত্রিশ বছর হয়ে গেল প্রায়ই আমাকে বিভিন্ন জনের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় ‘হেলাল হাফিজের আর কোনো বই নেই।’ আসল কথা হলো, প্রথম বইয়ের পর মানুষের প্রত্যাশা আমার কাছে অনেক বেশি বেড়ে গেছে। আমাকে আরও ভালো কিছু লিখতে হবে এই তাড়না আমার ভেতরে কাজ করতে থাকল। গত তিন বছর ধরে আমি ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছি আগামী বছর দ্বিতীয় নতুন বই করব। কিন্তু বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে তা হয়ে উঠছে না।

কী আছে দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থে?

আমার পা-ুলিপির নাম ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’। নাম শুনেই বুঝতে পার, এখানে থাকবে মানবিক বোধের কবিতা, প্রেম ও ভালোবাসার কবিতা। এই অঞ্চলের মানুষ তো প্রেমপরায়ণ। প্রেমকে প্রাধান্য দিতেই হবে। এসব নিয়েই প্রতিনিয়ত ভাবছি। আশা রাখি ১৯ সালে বইমেলায় কিংবা তার পরে বই করার পরিকল্পনা আছে।

আপনার মনে হয় না, আপনি পাঠককে ঠকিয়ে চলছেন?

এ জন্য আমি নিজেকে দোষী সাব্যস্ত করি। আমি আমাকে কখনও ক্ষমা করতে পারিনি। অপরাধবোধ কাজ করে। হেলায় অনেক সময় নষ্ট করেছি। পাঠককে আমার আরও অনেক কিছু দেওয়ার ছিল, যা আমি করিনি। আমি নিজের সঙ্গে নিজে যুদ্ধ করছি। খুবই অপরাধও করেছি। অনেক সময় অপচয় করেছি। এ জন্য আমি লজ্জিত, দুঃখিত ও মর্মাহত। আমার অন্তত পনেরোটি বই থাকার কথা ছিল। তা না হলেও দশটি বই থাকা উচিত ছিল। কিন্তু এর জন্য দায়ী তোমরাও কম না। তোমরা পাঠকরা যদি আমাকে এত বেশি ভালো না বাসতে আমি কোনো চাপ নিতাম না (হাসতে হাসতে কথাগুলো বললেন)। পাণ্ডুলিপি করতে গেলে মনে ভয় আসে। আমি ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ থেকে বেরিয়ে আসতে পারব তো।

আপনি দীর্ঘ ২৫ বছর স্বেচ্ছানির্বাসনে ছিলেন, এর কারণটা কী?

এর অনেক কারণ আছে। তবে এর মধ্যে দু-একটা বলি, তোমরা তা প্রকাশ করতে পারো। আপত্তি নেই। কিছু ব্যক্তিগত অভিমান, ব্যক্তিগত কিছু পরাজয়, কিছু না পাওয়া। আর আরেকটা হলো, আমি তো আবার এত প্রতিভাবান কবি না। যে চাইলেই কবিতা লিখতে পারি। আমি খুব ঘষেমেজে কবিতা লিখতাম। চাইলেই কবিতা হয়ে যেত না। আর আমি খুব জুয়া খেলতাম। গেইমলিং ওয়াজ মাই প্রফেশন। আমি স্পোর্টস হিসেবে খেলি না। আমি খেলেছি জীবিকার জন্য। ‘যে জলে আগুন জ্বলে’ বের হওয়ার পর আমারও একটা কিউরেসিটি হয় এটা নিয়ে গেইমলিং করার। আড়ালে গিয়ে দেখি, আমি যে দিন মারা যাব পাঠক আমাকে ভুলে যাবে কি না? এই অবজারভেশন থেকে আমার আড়াল হওয়া। নিজের কাছে নিজেকে লুকিয়ে রাখা। এর ফলে ১৯৮৮ সালের শেষের দিকে একেবারে নিজেকে লুকিয়ে নিলাম। কেউ আমাকে এই ঢাকা শহরে কোথাও দেখে না। কাগজে আমার লেখা নেই। দেশের অধিকাংশ মানুষ মনে করেছিল আমি মরে গেছি। কেউ কেউ ভাবত আমি বিদেশ চলে গেছি। একমাত্র তারা জানত যারা ওই সময়ে ক্লাবে (প্রেস ক্লাবে) আসত। তারা আমাকে প্রায় দেখত। তারা জানত আমি লেখালেখি করি না, ছেড়ে দিয়েছি। আসলে আমি সারা দিন জুয়া খেলতাম। এই ২৫ বছর আড়ালে থাকলেও কারা কী লিখছে, আমার কবিতা নিয়ে কার কী মন্তব্য, আমাকে নিয়ে কারা আলোচনা করেছে, তার সবই দেখতাম বা জানতাম। গোপনে গোপনে খোঁজ রেখেছি। দেখে আমার বোধ হলো, আমি যখন মারা যাব একেবারে রাতারাতি মানুষ আমাকে ভুলে যাবে না। কিছুকাল অন্তত মনে রাখবে।

আপনার জীবন সম্পর্কে পাঠকের কৌতূহল আছে আত্মজীবনী লিখবেন?

সেটাই বলতে চাইছি। দ্বিতীয় বই প্রকাশের পর সেটা শুরু করতে পারব আশা রাখি। আমার আত্মজীবনী কিন্তু খুবই হƒদয়গ্রাহী হবে। সব লিখব। কোনো কিছুই হাইড করব না। হাইড করার ইচ্ছে নেই।

সব সত্য প্রকাশ করবেন আত্মজীবনীতে?

সব আসবে। আমার গেইমলিং আসবে। জুয়া খেলাও আসবে। সমাজে নারী পতিতা আছে, শুধু তাই নয়। আমি পুরুষবেশ্যা ছিলাম, আমার সেই কথাও আসবে। সমকামিতার কথা আসবে। হিজড়াদের সঙ্গে কাটানো সময়ের কথা আসবে। একটা সময় সমকামিতা আমার খুব পছন্দ ছিল। আমি সেসবও নিয়ে আসব। আমি আমার আত্মজীবনীতে কিছুই হাইড করব না। একটা সময় আমার পরিবারে কথা কাটাকাটি করে অভিমান করেছি তা থাকবে। অপরাধবোধ থাকবে। প্রেমের কথা থাকবে। বিরহ থাকবে। কিছুই বাদ দেব না। আমার জীবনে যে ছোটখাটো কিছু অন্যায় বা দোষত্রুটি আছে, সেসবও নিয়ে আসব।

আপনার প্রেম রোমান্স সম্পর্কে কিছুটা জানতে ইচ্ছুক

আমার কবিতায় আছে সবিতা সেন, হেলেন আবার রানা। এগুলোর কোনোটাই কাল্পনিক নয়। এরা সবাই বাস্তব। রক্ত-মাংসের মানুষ। মিসট্রেস সবিতা সেন হলেন আমার প্রথম এবং অসম প্রেম। তিনি আমার চেয়ে বারো বছরের বড়। আমরা একই শহরে পাশাপাশি থাকতাম। তিনি খুব রূপসী এবং বিদুষী মহিলা ছিলেন। খুব ছোটবেলায় আমার মা মারা গেছেন, তা তো জানো। তাকে দেখলেই আমার মায়ের কথা মনে পড়ত। তিনি তা বুঝতে পেরেছেন। বুঝতে পেরে আমাকে অসম্ভব রকমের আদর করতেন। তিনি ছিলেন স্কুলের শিক্ষক। যেহেতু আমার বাবা ডাকসাইটের খুব নামকরা একজন শিক্ষক ছিলেন। সেই হিসেবেও তিনি আমাকে খুব আদর করতেন। কিন্তু তার প্রতি আমার আস্তে আস্তে মোহ কাজ করতে থাকে। তার এক ছোট ভাই আছে সে ছিল আমার ক্লাস ফ্রেন্ড। সেই হিসেবে সে আমাকে আরও বেশি আদর করতেন। তখন আমি ক্লাস টু কি থ্রিতে। তখন থেকেই তার সাথে আমার নিবিড় সখ্য গড়ে ওঠে। স্কুল থেকে ফিরে বই রেখে তার কাছে ছুটতাম। গিয়ে দেখি সে তখন হয়তো আসেনি। সেও স্কুলের মিসট্রেস। খুব মন খারাপ হতো। তখন মাঠের পাশে গিয়ে বসে থাকতাম। খেলাধুলা করতাম। রাস্তা দিয়ে যখন দিদি যেতে তখন দেখতাম। উনি যখনই বাসায় আসতেন তখন আমি দৌড় দিতাম। দেখা যেত উনি বাসায় নাড়– বানাতেন। তার ভাইকে দিয়ে আমাকে খবর পাঠাতেন। এই যা হেলালকে বলে আয়। রোজ রোজ এমনটা চলতে লাগল। তার প্রতি আমার অদ্ভুত রকমের মোহ কাজ করতে থাকে। সেও জেনে গেল আমি তাকে পছন্দ করি। তখন ছিল আমাদের বয়ঃসন্ধিকালের সময়।

আর হেলেন?

ফোর, ফাইভ, সিক্স, সেভেন। সেভেনে যখন আমি পড়ি তখন হেলেনের সাথে আমার সম্পর্ক হয়। হেলেন ছিল আমার সমবয়সী একজন। অর্থাৎ বয়ঃসন্ধিকাল। তখন সবিতা সেনকে আমি দ্বৈত ভূমিকায় আবিষ্কার করি। তার প্রতি একধরনের কাম জাগে। অর্থাৎ মানুষের যে জৈবিক তাড়না। মানে ফ্রয়েড আমার মাথায়। যদিও তখন আমি ফ্রয়েডের নাম জানি না।

এগুলো কি গোপন ছিল?

তখন নেত্রকোনা শহরের সবাই জেনে গেছে হেলাল দুটো প্রেম করে। একটি সবিতা সেন। আরেকটি হেলেনের সঙ্গে। এটা আমাদের পিতৃতুল্য যারা তারা জেনে গেছে, বন্ধুরা জেনে গেছে, নেত্রকোনার সব নারী জেনে গেছে, আমার সব বন্ধুরা জেনে গেছে। সবিতা দিদির স্কুলের সবাই জানে, আমার স্কুল কলেজের সবাই জানে। মানে এটা একটা মহা আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল সে সময়। তখন আমাদের প্রেমের কথা শহরে চাউর হয়ে গেল। এরপর ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকায় চলে আসি। ঢাকায় আসার পর থেকে যোগাযোগ কমতে থাকে। এখনকার মতো তখন যোগাযোগ ছিল না। এখন মোবাইল আছে। তখন ছিল ল্যান্ডফোন। কিন্তু ল্যান্ডফোন আমার বা সবিতা কারও বাসায় ছিল না।

তাহলে যোগাযোগ হতো কীভাবে?

চিঠির মাধ্যমে। একমাত্র বাহন ছিল চিঠি। তো...। চিঠি লিখতেও ভয় পেতাম। কার হাতে গিয়ে পরে। তখনকার সমাজও কনজারভেটিভ ছিল। চিঠি কার হাতে গিয়ে পরে। এই ভয়ে চিঠি লিখতামও কম। এই হলো আমার প্রথম প্রেম।

গত এক দুই বছর আগে একজন মহিলা কবি তার প্রকাশিত বইয়ের নাম দিয়েছেন ‘আমিই হেলেন’। এই হেলেন কে?

হ্যাঁ। আমি জানি। আমি ওই হেলেনকে চিনিও। নাম শামসুন্নাহার রহমান। ঠিকই বলেছ, সে আমার বই থেকেই নামটি নিয়েছে। আমার সাথে কথাও হয় মাঝে মাঝে। দেখাও হয়েছে। তবে কবিতার বিষয়বস্তু তার। সে মটিভেট হয়ে নামটি নিয়েছে। তিনি আমাকে খুব পছন্দ করেন। আসলে আমার নারীভাগ্য খুব ভালো।

সবার সঙ্গে আপনার কেবল সাদামাটা প্রেমই ছিল?

তবে সব প্রেম যে দৈহিক ছিল তেমন নয়। ওই সময় দুই একজনের সাথে একবারে এক্সট্রিম সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। বাকিগুলো একটা জায়গায় ছিল। তো... কবিতার জন্য তো এটা জরুরিও হয়ে পড়ে অনেক সময়। আমার বেলায়ও তাই হয়েছে। আমিও করেছি। জীবন উপভোগ করেছি।

হঠাৎ করে টিভি অনুষ্ঠানের দিকে আগ্রহী হয়ে ওঠার কারণ?

টিভিতে পার্টিকুলার একটা টাইমে অনুষ্ঠানটি শুরু হলো আবার শেষ হয়ে গেল। প্রিন্ট মিডিয়াতেও আলাদা একটা মজা আছে। প্রিন্ট মিডিয়াতে একটা জিনিস বেরোনো মানে ইউ ক্যান প্রিজারভড ইট। এ জন্য প্রিন্ট মিডিয়া থেকে একটু দূরে চলে গেছি।

এখন টিভিতেও প্রিজারভড করা যায় ক্যাসেট করে, সিডি করে অথবা মোবাইলেও রাখা যায়। কিন্তু প্রিন্ট মিডিয়ারটা মনে হয় যেন জীবন্ত দলিল। রাখা যায়, বারবার দেখা যায়। সমালোচনা করা যায়। যদিও আমার কাছে সমালোচনা আবার খুব ভালো লাগে। শিল্প সাহিত্যের সমালোচনা আরও হওয়া দরকার।

সমালোচনার বিষয় যদি বলি, ‘নিষিদ্ধ সম্পাদকীয় ছাড়া অন্য কবিতাগুলো নিয়ে নানা প্রশ্ন তোলে ব্যাপারে জানেন কিছু?

হতে পারে। একেক জনের দৃষ্টিভঙ্গি একেক রকম। আমার নিজেরও সন্দেহ আছে। সাহিত্যের ইতিহাসে এমন অনেক নজির আছে যে, সমকালে খুবই নন্দিত কিন্তু কালের প্রবাহে সে হারিয়ে যায়। ধোপে টিকে না। আবার সমকালে অনুপস্থিত কিন্তু ১০০ বা ১৫০ বছর পরে অত্যন্ত মহিমান্বিতভাবে আবির্ভূত হয়। কেউ যদি আমার সমালোচনা করে যে, হেলালের কবিতা কালের হাতে টিকবে না, জলজ বা হালকা। আমি মোটেও কষ্ট পাই না। পাব না। আমি আরও সচেতন হই। আমি জানলাম যাই হোক সমাজে এটাও তাহলে মত আছে।

অনেকেরই ধারণা, আমার লেখা খুবই সহজ সরল। এটা বোধ হয় টিকবে না। নাই টিকতে পারে। এই নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই। রবীন্দ্রনাথ যখন নোবেল পেলেন তখন তারা বলাবলি শুরু করেছেন, পৃথিবীতে একটি পুরস্কার ছিল যেটার এত দিন সম্মান ছিল। এখন আর থাকল না। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ তো শেষ পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথই রয়ে গেলেন। অন্যরা কোথাই? এই প্রসঙ্গে আমি তোমাকে বলি, তুমি চাইলে টুকে রাখতেই পারো। সমকালীন বাংলা সাহিত্যে হেলাল হাফিজ রাজকুমারের মতো। আমি আমার কবিতা নিয়ে এত ভাবি না।

এটা এক ধরনের অহংকার?

বলতে পারো। আমার আত্মবিশ্বাস আছে। এমন তো না যে আমি কবিতা কিছুই বুঝি না। কিংবা যাদের কবিতা টিকে থাকবে বলে দাবি করে তাদের কবিতা আমি পড়ি না। আমি গর্ব করে বলছি না। কিন্তু এটা সত্য যারা এমনটা দাবি করে, তাদের অবস্থান আজকে কোথায় তা যদি আমরা নির্ণয় করি। তখন একটা জবাব পাওয়া যাবে। এখন অনেকেই অনেক কিছু ঈর্ষাকাতর হয়ে বলে।

আমার পরিচিত এক শিল্পী চেয়েছেন আপনার কিছু কবিতায় লিরিক দিতে

আমি আমার কবিতা নিয়ে বাণিজ্য করতে চাই না। তুমি লেখো, সবাই জমায় টাকা, আমি চাই মানুষ জমাতে। মানে আমার কবিতা দিয়ে আর কি? সেই মানুষ কিছু জমাতে পেরেছি কি না, আমি জানি না। তোমরা তা জানো। আমি অন্যদের মতো কারও পেছনে ঘুরতে যাই না, টাকা জমাতে যাই না। সাধারণ পাঠককেই আমি চাই।

প্রধানমন্ত্রী আপনার বন্ধু, চাইলে অগ্রাধিকার সূত্রে কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পেতে পারেন

এটা তো আরও মুশকিল হয়েছে। তুমি যে আমাকে ভালোবাসো। আমি তো অপেক্ষায় আছি তুমি কখন আমাকে ডাকো। আই ওয়েট। তুমি কখন ডাকবে আমাকে। আমি কেন যাব? আমার তো কোনো প্রয়োজন নেই। এটা আমার পক্ষে সম্ভব না। আর আমি মনে করি কবি হলো একটা সবরেন্ট আইডেন্টি, স্বাতন্ত্র্য ও সার্বভৌম সত্তা। একটি সমাজে যখন একজন কবি বা অকবিরা পোষা পাখি হয়ে যায়, বুঝতে হবে সেই সমাজ নষ্ট হয়ে গেছে।

সুযোগ নেওয়াটা অন্যায় বা অবৈধ কিছু না

দোয়া করো তার আগেই যেন আমি চলে যেতে পারি। মরে যেতে পারি। এমন সুযোগ-সুবিধা আমার দরকার নেই। রাষ্ট্রে আমার চেয়ে দুঃখে কষ্টে কোটি কোটি মানুষ আছে। আমি এই সমাজে অসাধারণ একটা আদর নিয়ে বেঁচে আছি। 

ভিন্ন প্রসঙ্গে আসি, সমাজতন্ত্রের প্রতি আপনার পক্ষপাত আছে, সমাজতন্ত্র আবার আগের মতো ক্ষমতায় আসতে পারবে?

সাম্যবস্থা যদি তুমি করতে চাও সে ক্ষেত্রে খুব দরকার। তুমি বলতে পারো সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেছে। রাশান পতন হয়েছে। সমগ্র বিশ্বে আজ সমাজতন্ত্র ভালো অবস্থানে নেই। আমাদের পাশের দেশ পশ্চিমবঙ্গে পতন হলো, এটা হয়েছে আদর্শের জন্য না। এটা ভুল মানুষের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার কারণে হয়েছে। যোগ্য নেতৃত্বের কারণে পতন হয়েছে। তারপরও আমি সমাজতন্ত্রের কথা বলব। কারণ সমাজতন্ত্র একটা ব্যালান্সের কথা বলে।

এমন মনে হয় না যে, বিয়ে করলে ভালো হতো?

সে কথা বলে লাভ নেই। সময় আর বসে নেই। শরীরও আগের মতো নেই। এভাবে থাকা ছাড়া বিকল্প আর কিছু দেখছি না। খুব ভালো হতো। আমি অনেক ভুল করেছি জীবনে। সেসব ভুলের মাশুল গুণছি। বিয়ে করলে হয়তো আমার জীবনটা অন্য রকম হয়ে যেত।

বেদনাকে বলেছি কেঁদো না দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থে কোন ধরনের কবিতা বেশি অগ্রাধিকার পাবে?

নাম শুনলেই তো বুঝতে পারো কেমন কবিতা হবে। আমি চেষ্টা করব এমন কিছু পঙ্ক্তি এই বইটিতে সংযোজন করতে যেন তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ পর্যন্ত সবার অন্তরে যেন নাড়া দেয়। যেমন, তোমার বুকের ওড়না আমার প্রেমের জায়নামাজ। এটা ফেসবুকে আছে।

বা ধরো, আমার আরেকটি এক লাইনের কবিতা আছে। নাম ‘থুথু’। থুথু তো তুচ্ছার্থে ব্যবহার করি আমরা। করি না? এই থুথু দিয়ে যখন প্রেমিকাকে চুমু খাবে তখন থুথু অমৃত না। কিংবা তোমার স্ত্রীকে তুমি বা স্বামীকে স্ত্রী যখন চুমু খাবে তখনও থুথু অমৃত। কবিতা একাত্তরের ১৫টি কবিতাও এই বইয়ে দেব।

কবিতার ছন্দ নিয়ে কিছু বলেন এবার। কবিতায় কোনটি বেশি দরকার ছন্দবিমুখতা না ছন্দের প্রয়োজনীয়তা?

বাংলা কবিতাচর্চা করবে আর ছন্দ জানবে না কেউ, তা হয়। কবি একটি কবিতাও ছন্দে লিখবে না গদ্যে লিখবে লিখুক, কথা হলো তারপরও তাকে ছন্দ জানতে হবে। কোনো কিছুর নিয়ম জানলেই সে নতুন কোনো নিয়ম দাঁড় করাতে বা ভাবতে পারে। না হয় নতুন চিন্তা করা সম্ভব না।

সাহিত্যচর্চা শুরুর আগে আপনি কার লেখা কবিতা দ্বারা বেশি প্রভাবিত ছিলেন বা পড়তেন?

আমার সাহিত্য শুরুর আগে যে দুজন দ্বারা বেশি প্রভাবিত ছিলাম, বেশি প্রভাবিত হয়েছি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আর জীবনানন্দ দাশ দ্বারা। আর আমার সমকালে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছি আবুল হাসান দ্বারা। আমি আমার সমসাময়িক কবিদের মধ্যে একজনকেই ঈর্ষা করতাম। জীবদ্দশায় আমি আবুল হাসানকে বলেছিও সে কথা।

(ঢাকাটাইমস/১৬জুন/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাক্ষাৎকার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত