ঈদে খালেদার সাক্ষাৎ পেলেন না ফখরুলরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৬ জুন ২০১৮, ১৮:০৮ | প্রকাশিত : ১৬ জুন ২০১৮, ১৩:২৪

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঈদের দিন সাক্ষাৎ পাননি বিএনপি নেতারা। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে নেতারা গিয়েছিলেন কারাফটকে। পরে অনুমতি না পাওয়ায় চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেই তারা ফিরে আসেন।

বেলা সোয়া ১২টার দিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা কারাগারের কাছে আসেন। মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদসহ মহিলা নেতা-কর্মীরাও ছিলেন।

কারাগারের মূল ফটক থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে নেতাদের আটকে রাখে। সেখানে দুই শতাধিক নেতা-কর্মীও অবস্থান নেয় যারা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শ্লোগান দেয়।

ভেতরে ঢুকতে না দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফখরুল বলেন, ‘আমাদের দেশনেত্রী এদেশের মানুষের হৃদয়ের মনি বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে অন্যায়ভাবে বন্দী করে রাখা হয়েছে।  ঈদের দিনে আমরা তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলাম। তিনদিন আগে আমরা সাক্ষাতের জন্য আবেদন করেছিলাম।

এ সময় তিনি আবেদনের চিঠির অনুলিপি দেখিয়ে বলেন, ‘নিয়ম আছে, ঈদের দিন বন্দীর সাথে দেখা করার। কিন্তু পুলিশ আমাদেরকে এখানে আটকিয়ে রেখেছে। জেলগেইটের কাছেও যেতে দিচ্ছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

এ সময় মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা অনেকবার জেল খেটেছি, অনেক বছর জেলে থেকেছি। দেখেছি ঈদের দিন আত্মীয়-স্বজন, কাছের মানুষদের দেখা সাক্ষাৎ করার সুযোগ থাকে, সুযোগ দেয়। এবার যে অমানবিক আচরণ করা হয়েছে, এরকম অতীতে আর কখনো দেখিনি।’

এর আগে বিএনপি নেতারা দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধা শেষে ফখরুল সাংবাদিকদের জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

একটি দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে প্রায় চার মাস ধরে কারাগারে থাকা খালেদা জিয়ার ঈদ কাটছে সেখানেই। তবে কারাগারে এটাই খালেদা জিয়ার প্রথম ঈদ নয়। এক-এগারোর সরকারের সময় বিশেষ কারাগারে বন্দী অবস্থায় দুটি ঈদ কেটেছিল তার। সে হিসেবে কারাগারে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর এটা তৃতীয় ঈদ।

প্রতি বছর ঈদে দলের নেতাকর্মী, বিশিষ্টজন, বিদেশি কূটনীতিক ও সর্বসাধারণের সঙ্গে ঈদের কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন খালেদা জিয়া। তবে এবার কারাবন্দি থাকায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না।

কারা সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন খালেদা জিয়ার খাবারের তালিকায় থাকছে বিশেষ আয়োজন। নাস্তার মেন্যুতে থাকছে সেমাই, পায়েস ও মুড়ি। আর দুপুরে তার ইচ্ছা অনুযায়ী ভাত বা পোলাও সরবরাহ করা হবে। সঙ্গে থাকবে মাছ, মাংস, ডিম ও আলুর দম। আর রাতে বিএনপি প্রধানের খাবারের তালিকায় থাকবে পোলাও গরু অথবা খাসির মাংস, মিষ্টান্ন, পান-সুপারি এবং কোমল পানীয়।

দলের চেয়ারপারসন কারাগারে থাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের এবারের ঈদ কাটছে বিষাদে। দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এবার হয়তো নেতাকর্মীরা ঈদের নামাজ পড়েছেন, কিন্তু আনন্দ ও বেদনামিশ্রিত ঈদ করছেন সবাই। আমি ছাত্রজীবন থেকে যেহেতু নেত্রীর সঙ্গে আছি, সেহেতু তাকে ছাড়া ঈদ আমাদের জন্য এক কষ্টের উদযাপন।’

বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, নেত্রী যেখানে অসুস্থ অবস্থায় কারাগারে পরিবার-পরিজন ছাড়া অনেক কষ্টে থাকছেন, সেখানে তারা এত স্বার্থপর হবেন কী করে। তাই এবারের ঈদের আনন্দকে  ছুটি দিয়ে দিয়েছেন তারা।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘চেয়ারপারসন ঈদ করছেন কারাগারে। সেখানে আমাদের কীসের ঈদ? হয়তো পারিবারিকভাবে একটা ঈদের আবহ থাকছে, কিন্তু আমরা যারা জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করি তাদের জন্য ঈদের আনন্দ নেই। এর মধ্যে নেত্রী গুরুতর অসুস্থ। এক-এগারোর সময় নেত্রী যখন জেলে ছিলেন, আমরা ঈদের দিন জেলগেটে গিয়ে তার জন্য ফুল, উপহার নিয়ে যেতে পেরেছি। এখন সেই সুযোগও হচ্ছে না।’

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে খালেদা জিয়া কারাগারে। সবশেষ খালেদা জিয়াকে কুমিল্লায় হত্যা ও নাশকতার দুই মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন ২৪ জুন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ঈদের আগে আর মুক্তি মিলেনি তার।

(ঢাকাটাইমস/১৬জুন/বিইউ/জেবি)

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত