ঈদে কম ছুটির ‘আক্ষেপ নিয়ে’ নগরে ফেরা

এম গোলাম মোস্তফা ও কাজী রফিকুল ইসলাম, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ১৮ জুন ২০১৮, ২৩:০৩ | প্রকাশিত : ১৮ জুন ২০১৮, ১৭:৪৫

ঈদ আনন্দ শেষ। আবার কর্মব্যস্ত হবে শহর। তাই ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। তবে শহর ছাড়ার সময় যেভাবে উপচে পড়া ছিল ছিল যানবাহনে, যে রকম তাড়া ছিল মানুষের, ফেরার পথে তেমন কিছুই দেখা যাচ্ছে না।

এবার ঈদের ছুটিতে মন ভরার কারণ ছিল না চাকরিজীবীদের। তিন দিনের ছুটির দুই দিন আবার পড়েছে সপ্তাহিক বন্ধে। টানা তিন বছর ধরে সাপ্তাহিক বন্ধের সঙ্গে মিলিয়ে ঈদের ছুটি পাওয়ার পর এবার অনেকটাই যেন ঠকে যাওয়ার অনুভূতি।

যাদের কর্মস্থলে ফেরা ছাড়া উপায় নেই, যাদের পরীক্ষা তাদেরকে ‘ভগ্ন হৃদয়ে’ আসতে হচ্ছে জনবহুল নগরে। মনের মধ্যে আরও কিছু দিন বাড়িতে কাটিয়ে আসতে না পারার আক্ষেপের কথাই বলছিলেন যাত্রীরা।

কমলাপুর রেল স্টেশনে ফেরা ট্রেনগুলোতে এখনও তৈরি হয়নি চিরচেনা সেই ভিড়। ফেরার পথে নির্দিষ্ট স্টেশন থেকে সময়মত ট্রেন ছেড়েছে বলেও জানান যাত্রীরা।

রংপুর এক্সপ্রেসের যাত্রী ইলিয়াস আহমেদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এবারে ঈদে ট্রেনের যাত্রা নির্বিঘ্ন ছিল, আসার সময়ও কোন ঝামেলায় পড়তে হয়নি।’

একই পরিস্থিতি বাসে। ভিড়ও নেই, যানজটও নেই। গাইবান্ধা থেকে ফিরলেন রাসেল সরকার। বলেন, ‘গতকাল রাত সাড়ে এগারটায় গাইবান্ধায় বাসে উঠলাম, আর ভোর পাঁচটায় ঢাকা। এতো তারাতারি আসব ভাবতেই পারি নাই।’

রংপুর থেকে আসা আমিরুল হক বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের নিয়ে ফিরতে কষ্টই হয়েছে। দাদা-দাদুর আদর আর ভালোবাসায় ওরা ঢাকার কথাই ভুলতেই বসেছিল। তাছাড়া মুক্ত বাতাস, নদী-নালা, আম-কাঁঠালের মতো সব মৌসুমি টাটকা ফলও খেয়েছে ওরা। এসব ছেড়ে কার ঢাকা আসতে ইচ্ছে করবে বলেন?’।

গাবতলী টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে,কিছুক্ষণ পর পর কোনো না কোনো রুটের বাস এসে ভিড়ছে সেখানে।

যশোর থেকে ফিরে অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন শাহ আলম। বলেন, ‘আজই ডিউটি জয়েন করা কথা ছিল। কিন্তু ঈদ করেই তো আর গাড়িতে ওঠা যায় না। ছুটিটা অনেক ছোট হয়ে গেছে। আবার সিনিয়ররা অনেকেই আসবে আরও কয়েকদিন পর।’

‘অন্যের চাকরি করলে অনেক কিছু মেনে নিতে হয়। ঈদে সবার সাথে একটু হই-হুল্লোর করব সেটারও সুযোগ নেই। তবে আগে আসায় ভাল হয়েছে, রাস্তায় জ্যাম নাই। আর একদিন পর আসলে হয়ত জ্যামে পরতাম।’

চেরি আক্তারের ছেলে আবার ঈদ করেছে নানুর বাড়িতে। ফিরছে একাই। সন্তানকে নিতে টার্মিনালে মা। ব্যস্ততার কারণে যেতে পারেননি নিজে।

ঢাকাটাইমসকে চেরি বলেন, ‘দুই এক দিন পরে রাস্তায় জ্যাম থাকতে পারে তাই একটু আগেই আসতে বলেছিলাম। তার উপর স্কুল খুলেই পরীক্ষা।’

কেবল চাকরিজীবী না, ছাত্রদেরকেও ফিরতে হচ্ছে আগেভাগে, বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। ঈদের আগে অর্ধেক পরীক্ষা শেষ হয়েছে, বাকিগুলো হবে এখন। তাই ফিরতে হচ্ছে দ্রুত।

লালমনিরহাট থেকে ঢাকা ফিরেছেন তাওহীদ তন্ময়। বলেন, ‘আনন্দ করব ভেবে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরীক্ষার চিন্তায় ঈদ মাথায় উঠে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে তাড়াহুড়া করে চলে আসতে হলো।’

সাউথ লাইন পরিবহনের সুপারভাইজার সোহেল ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘মাত্র তো যাত্রী আসা শুরু হলো। টানা এক সপ্তাহ এভাবে আসবে। এখন যারা আসছে, তাদের অধিকাংশের আগে টিকিট করা ছিল। ছুটি কম যাদের তারা একটু আগেই আসে।’

হানিফ বাসের সহকারী ব্যবস্থাপক বাবুল মিয়ার ধারণা, আরও দুই একদিন এভাবেই যাবে। বুধবারের আগে পুরোদমে ঢাকায় ফেরা শুরু হবে না।

ঢাকাটাইমস/১৮জুন/কারই/জিএম/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

জাতীয় বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত