গল্প

কেবলি ছায়া হয়ে যায়

মোহাম্মদ জাকির হোসেন সেলিম
 | প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৮, ০৯:২০

অবশেষে রোজিন কাজলের ডেরা খুঁজে বের করে। নীলাম্বর সাহার চিলেকোঠার ঘর। একটা নয়, পাশাপাশি দুইটা ঘর। একটা হলে মানাত ভালো। একটাই ছিল। বাড়িওয়ালা মাঝখান দিয়ে দেয়াল তুলে দিয়েছে। এখন দুইটা ঘর, ভাড়া আদায় হয় বেশি। কাজলের ঘরে তালা দেওয়া। ছোট্ট একটা তালা। ট্রাভেল ব্যাগে যেসব তালা থাকে তেমনি। বিশেষভাবে লক্ষ না করলে বোঝা যাবে না। রোজিন দেখে দরজায় একটা কাগজ সাঁটানো, চমৎকার হাতের লেখা-

‘ভেতরে, শীতল পাটি বিছানোর মতো একটু জমিন আছে। 
জানালা মতো কিছুটা ফাঁক আছে, দেয়ালে। 
ঘরে আলোর ভাব আছে, ছায়া আছে; নড়ে। 
ছোট হয় বড় হয়।
একটা চেয়ার আছে, একটা টেবিল আছে।
একটা ঘটি, বাটি আর মগ আছে।
খাট আছে, বই আছে, আছে আংশিক সোফা।
একটা চাদর, একটা বালিশ, মশারি বাঁধার চারটি পেরেক আছে।
মশারি আর কাজল নাই।’

পুরো লেখাটা রোজিনের কাছে হেঁয়ালির মতো লাগে। তার রাগ বাড়ছে। রোজিন দরজায় রাগ ঝাড়ে, জোরে জোরে ধাক্কা দেয়। মড়মড় শব্দ হয়। দরজা খুলে না। ভাঙতে যেয়েও ভাঙে না। পাশের ঘরের দরজা খুলে যায়, 
কে দরজা ভাঙে? নীল গেঞ্জি আর সাদা হাফ প্যান্ট জানতে চায়।
দরজা ভাঙ্গি না, কাজলের খুঁজে এসেছি, রোজিন উত্তর দেয়।
ভেতরে কী আছে কী নেই, তালিকা কি দেওয়া নেই?
কথা শেষ, পাশের দরজা আবার বন্ধ হয়ে যায়। নীল গেঞ্জি আর সাদা হাফ প্যান্ট নাই।
রোজিন লেখাটা আবার পড়ে। তালিকা দেখে।
রোজিন বিস্মিত, এটা কী করে হয়? সব পাগল একসাথে থাকে কী করে?
ইমপসিবল! টোটাল ইমপসিবল।

২.
কাজল জোনাকী সিনেমা হলের সামনে।
রিকশায় বসা, বিরক্ত। দুই হাতও ব্যস্ত। কতক্ষণ পর পর কপাল থেকে ঘাম মুছছে। সেই হাত আবার মুছছে প্যান্টে।
নাই কাম তো খই ভাজ। বড় বড় সব পোস্টার দেখছে। মেয়েদের ছবিই বেশি। রঙের বাহারি ব্যবহার, সবকিছু বড় বড়। তার সারা গা ঘামে কুট কুট করছে। দুই দিন গোসল করা হয় না। আজ গোসল করতে হবে। যাকে বলে সত্যিকার গরম, ছত্রিশ ডিগ্রি তাপমাত্রার সাথে বাতাসে আর্র্দ্রতা আশি শতাংশ। এটা আবহাওয়ার খবর। সব ডিম যে কেন ওমলেট হয়ে যাচ্ছে না, কে জানে? রিকশা থেমে আছে। জ্যাম, কতক্ষণে ছাড়বে বুঝতে পারছে না। তার মতিঝিল যাওয়া দরকার। একজনের সাথে দেখা করতে হবে।

রিকশাচালককে চিন্তিত মনে হচ্ছে না, সে খুশি। এক পা হ্যান্ডেলের ওপর তুলে বসে আছে। মুখ হাসি হাসি, এদিক-ওদিক দেখছে। রিকশা না চালিয়েও যদি টাকা পাওয়া যায়, মন্দ কি? কাজল ওয়েইটিং চার্জসহ রিকশা ভাড়া করেছে। কেউ যেতে রাজি হচ্ছিল না। কাজলই প্রস্তাব দেয়। প্রথমে রিকশাচালক কিছুক্ষণ ভাবে, তারপর রাজি হয়ে যায়। ছোট একটা শর্ত দেয় কাজলকে। শর্ত হলো মাঝপথে রিকশা ছাড়া যাবে না। কাজল শর্তের গভীরতা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। সে এখন চিন্তিত, চালকের পা রিকশার হ্যান্ডেলে। ভালোই বিপদে পড়েছে। আরও কিছুক্ষণ এ রকম থাকলে শর্ত ভঙ্গ করতে হবে। তার কাছে রিকশাচালককে দেওয়ার মতো যথেষ্ট টাকা থাকবে না। ইতোমধ্যে যথেষ্ট হয়েছে।

কাজল কিছু ভাবছিল। আনমনা হয়ে থাকবে। কেউ একজন তাকে ডাকছে। বাঁ দিক থেকে। ফুটপাত সেদিকেই।

কাজল নিজের নামে নিজেই কনফিউজ হয়। অমনি ডাইরেকশনের মতো, এদিকেও যাওয়া যায়, ওদিকেও যাওয়া যায়। ছেলেদের নামও কাজল, মেয়েদের নামও কাজল। ওয়ানওয়ে রোড না। ‘কাজল’ ডাক শুনলেই সে দ্রুত সাড়া দেয় না। কিছুক্ষণ ডাকতে থাকুক, দরকার হলে তো ডাকবেই। ধীরেসুস্থে ফিরে তাকানো যাবে।

রিকশাচালকের পা হ্যান্ডেল থেকে নেমেছে। রিকশা গড়াতে শুরু করেছে। থানার সামনে আবার রিকশা থেমে যায়। সহসাই রোজিনকে দেখে তার বাঁ পাশে। দৌড়ে এসেছে বোধ হয়। দ্রুত শ্বাস নিচ্ছে, নিয়মিত ছন্দে বুক ওঠানামা করছে। চাচ্ছে কিন্তু কিছু বলতে পারছে না। কাজল লক্ষ করে রোজিনের মুখে ঘামের চিহ্ন নেই। বিস্ময়কর! রোজিনের উপস্থিতি কাজলকে অবাক করেছে। ভালো লাগার একটা ঘোর তৈরি হচ্ছে। হতে দেওয়া যাবে না। 
আসসালামু আলাইকুম, লম্বা করে সালাম দেয় কাজল।

রোজিনের মুখ হা হয়ে যায়। বলে, এটা কী? তুই আমায় সালাম দিচ্ছিস কেন? আবার নতুন কোনো ধান্ধা? নেমে আয় রিকশা থেকে। কাজলের মাঝে অবশ্য রিকশা থেকে নেমে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। 

রোজিন আবার তাড়া দেয়। কী রে বসে আছিস কেন? কথা শোনা যাচ্ছে না? কতক্ষণ ধরে ডাকছি। মাইলখানেক দৌড়ে ধরতে হয়েছে। এখন আমাকে লম্বা সালাম দেয়। নাম রিকশা থেকে।
তা সম্ভব না আপা। রিকশাচালক কাজলের জন্য এগিয়ে আসে। ভাইজানকে নিয়ে মতিঝিল যাব ইনশা আল্লাহ। বাণিজ্যিক এলাকা। যত রাতই হোক। 

এই, তুমি কে? কিসের বাণিজ্যিক এলাকা? কিসের রাত? 
এটা আমার রিকশা। আপনি কে? আমার প্যাসেঞ্জার নামায়া নিয়া যাবেন? 
কাজল দুইজনের বাহাস দেখছে। কী হতে কী হয়ে গেল? রোজিনের এখানে থাকার কথা না। একটু আগেও রোজিন ছিল না এখানে। এখন কাজল নেই। আছে রোজিন আর রিকশাচালক, সে এখন তৃতীয় পক্ষ। কাজল পুরো ব্যাপারটা এনজয় করছে। কিছু বলতে গিয়েও বলে না। চুপ করে যায়। রোজিন যথেষ্ট রেগে আছে। কারণও আছে। আর রাগানো ঠিক হবে কি না বুঝতে পারছে না। দুইজনের বাহাসের মাঝে তার না থাকলেও চলে। চুপ থাকা লাভজনক। কাজল চুপ করে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।
ও, আপনার রিকশা? এই তুই নেমে আয়। আবার তাড়া দেয় রোজিন। রিকশা ভাড়া দিয়ে দে। রিকশাচালককে বলে, 
ভাই আপনি ভাড়া নিয়ে চলে যান। ওকে আমি অনেক দিন পর খুঁজে পেয়েছি। ছাড়া যাবে না। 
হবে না। জীবনে প্রথম ওয়েটিং চার্জসহ রিকশায় প্যাসেঞ্জার নিছি, শেষ দেখতে হবে না?
কিসের ওয়েটিং চার্জ? কাজল তুই কিছুই স্বাভাবিকভাবে করতে পারিস না? 
তুই ওয়েটিং চার্জসহ রিকশা ভাড়া করেছিস? 

আমি কিসের পেছনে ঘুরছি? কেন ঘুরছি? নিজেকেই যেন প্রশ্ন করে রোজিন। 
কিছুটা ধাতস্থ হয়। রিকশাচালককে বলে, ভাই বলেন কত টাকা হয়েছে? আমি দিয়ে দিচ্ছি। এই, তুই নেমে আয় রিকশা থেকে।
রিকশাচালক পকেট থেকে মোবাইলে বের করে সময় দেখে। কাজলের ঘড়ির সাথে মিলায়। তারপর বলে তিনশ।
তিনশ, ঢাকা শহর চক্কর দিয়েছেন নাকি? রোজিনের চোখে নিখাত বিস্ময়।
মতিঝিল পর্যন্ত গেলে ওয়েটিংসহ আরো শ খানেক হবে ইনশা আল্লাহ। কমই তো বলেছি।
রোজিন ব্যাগ থেকে দুইশ টাকা বের করে এগিয়ে দেয়। বলে, ভাই টাকা নিয়ে চলে যান।
কী বলেন! তিনশ হয়েছে, মতিঝিল গেলে হবে চারশ। তারপর ধরেন বকশিশ!

ভাই, ওকে দেখেন না? কাজলকে দেখায়। পকেটে পয়সা নাই। মতিঝিল গিয়ে হারিয়ে যাবে। খুঁজে পাবেন না। বুঝেন না কেন ওয়েটিং চার্জসহ রিকশা ভাড়া করেছে? ভাড়া দেওয়ার ইচ্ছা আর ক্ষমতা কোনোটাই নাই।

এ ওষুধটা কাজ করে। নগদ দুইশ টাকা চোখের সামনে। চকচকে নোট। কাজলকে বলে, ভাই নামেন তো। যত সব ফকির মিসকিন। আপার লগে যান। দেন আপা আমারে দুইশই দেন। বুঝলেন, মানুষ চিনা যায় না। কাজল রিকশা থেকে নেমে আসে। রিকশাচালকের শুদ্ধভাবে কথা বলার চেষ্টা আপাতত বন্ধ আছে। কান্ট্রি ল্যাঙ্গুয়েজে ফিরে গেছে। কাজল অনেক চেষ্টা করেও তার গ্রামের বাড়ি কোন জেলায় আন্দাজ করতে পারে না।

৩.
কাজলের নতুন চাকরি। তাড়াহুড়া করে ফ্ল্যাট ভাড়া নিতে হচ্ছে। এখন সে ইন্টারভিউ দেওয়ার মতো করে বসে আছে।
প্রথম প্রশ্ন, ব্যাচেলর কি না!

ব্যাচেলর কাউকে বাড়ি ভাড়া দেবে না। 
কাজল বলে, সে খুব শিগগির বিয়ে করছে, ফ্ল্যাট দরকার এই জন্যই। 
খন্দকার সাহেব, কাজলের নতুন বাড়িওয়ালা; প্রসন্ন হন। উচ্চস্বরে কাউকে ডেকে চা দিতে বলেন। ফ্ল্যাট ভাড়া দিতে রাজি। ভাড়া কোনো সমস্যা না। টাকা-পয়সা আল্লাহ তাকে অনেক দিয়েছে। নিজেকে আবার স্মরণ করিয়ে দেয়। মানুষ পছন্দ হলে ভাড়া কোনো সমস্যা না। কাজলকে তার পছন্দ হয়েছে। তার বড় ছেলে থাকত এই ফ্ল্যাটে, উচ্চশিক্ষার জন্য এখন সে দেশের বাইরে। ফ্ল্যাট খালি না রেখে ভাড়া দিচ্ছে। টাকা মূল বিষয় না, আবার বলেন। মিসেস খন্দকার, দেখে খন্দকার সাহেবের চেয়ে বয়স্ক মনে হয়। কাজলকে দেখেই বলেছে, তুমি আমায় মামি ডাকবে। 
কেন বলেছে কে জানে?

কাজল কিছুটা সময় পেলে ফ্ল্যাট গুছিয়ে নিতে পারত। রোজিন সে সময় দিতে রাজি হয় না। আসলে সে পারছে না। বাসার সাথে যুদ্ধ করতে করতে ক্লান্ত। কিছু কেনাকাটা করা দরকার। গতকাল সারা বিকাল ঘুরেছে কাজল। একটা খাট অন্তত কেনা দরকার। কিনতে পারেনি। বাজেটের সাথে শখ মেলে না। রোজিন মন খারাপ করতে নিষেধ করে। রোজিনের সাথে কথা বললেই তার মন ভালো হয়ে যায়।

আজই মিসেস খন্দকারকে তার বিয়ের কথা জানায়। সকালে ফ্রিজের পয়েন্ট লাগাতে ইলেকট্রিশিয়ান আসে। মিসেস খন্দকারও এসেছিলেন খোঁজ নিতে। বিয়ের কথা শুনে তো অবাক। বলেন,

তুমি বিয়ে করবে? তোমার তো দেখছি কোনো প্রস্তুতি নেই। বাসা পুরো খালি।
হয়ে যাবে মামি। রোজিন এসে সব ঠিকঠাক করে নেবে। কাজল উল্টো সান্ত¡না দেয়। 
নতুন বউ আসবে, ঘর খালি; এ কেমন কথা। হঠাৎ যেন সিদ্ধান্তে আসেন। বলেন,
ঠিক আছে, ঘরের কথা তোমাকে ভাবতে হবে না। দেখি আমি কী করতে পারি।
কিছু লাগবে না মামি। কাজল বলে।

কাজলের ফ্ল্যাটে তার আসার আগেও তেমন আসবাবপত্র ছিল না। মিসেস খন্দকার আবার সব ফিরিয়ে আনেন। কাজল আবারও আপত্তি করেছিল। তিনি শোনেননি। বলেছেন,
তুমি যখন নতুন আসবাবপত্র আনবে, আমাকে বলো। সব পুরানো আসবাবপত্র সরিয়ে নেব। বেশি কিছু তো নয়, সামান্যই। বিদেশে তো ফার্নিস্ট ফ্ল্যাটই ভাড়া দেওয়া হয়। নিজের কাজের লোকদের দিয়ে ফ্ল্যাটটা ঝকঝকে করে ফেলেন। এখন দেখতে ভালো লাগছে। কিছু ফুল টুল থাকলে বিয়েবাড়ি বিয়েবাড়ি মনে হতো। 
কাজলের মনটা আর্দ্র হয়ে যায়। ঘরে নতুন বউ আসবে। ফ্লোরি করা ঠিক মানাত না।

৪.
চারুকলা 

কাজল পাঞ্জাবিতে ঠিক অভ্যস্ত নয়। নিজেকে জোকার জোকার লাগে। আজ সে পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে এসেছে। রোজিন বলে, পাঞ্জাবিতে তাকে রাজপুত্রের মতো লাগে। সে কেন বলে কে জানে? এই পাঞ্জাবিটা রোজিনের কিনে দেওয়া। রোজিন এলে কাজল কীভাবে কথা শুরু করবে বুঝতে পারছে না। সে একটু নার্ভাস। তার পাঞ্জাবির পকেটে দুইটা গোলাপ আছে। বড় বড় দুইটা গোলাপ। ফুল বিক্রেতা বলেছে এত সুন্দর গোলাপ তার জীবনে দেখেনি। কাজল হাসে। সব মন ভুলানো কথা। মিথ্যে হলেও শুনেই মন ভালো হয়ে যায়। মন্দ কি? কেউ একজন তো বলেছে। সেও মুগ্ধ হয়ে শুনেছে। রোজিন এলে গোলাপ দুটো তার হাতে দেবে।

কাজল অনেকক্ষণ হলো দাঁড়িয়ে আছে। বারবার ঘড়ি দেখছে। রাত বাড়ছেই। সন্ধ্যায় রোজিনের আসার কথা। এখন তো সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত। সে এখনও আসছে না। তার ফোন বন্ধ। কখনও তো বন্ধ থাকে না! এখন কেন বন্ধ? সব ঠিক আছে তো? দুপুরে শেষবার কথা হয়েছে। কাজলকে ধমক লাগিয়েছে বারবার ফোন করার জন্য। আসলে কাজল খুব নার্ভাস ছিল। কী করতে হবে না করতে হবে; মনে হচ্ছিল কিছুই ঠিকমতো হচ্ছে না। তাই বারবার ফোন করছিল।

কাজল এখন কী করবে? তাদের আজ বিয়ে করার কথা। বিয়ে, তার নতুন বাসাতেই হবে। কয়েকজন বন্ধু আসবে। সাথে করে কাজি সাহেবকে নিয়ে আসবে। নয়টা চল্লিশ, রাস্তায় রিকশা চলাচল কমছে। পাবলিক লাইব্রেরির দক্ষিণ কোনায় আসর বসে গেছে। গাঁজার গন্ধের তীব্রতা বাড়ছে। নিজের রহস্য নিয়ে রাত গভীরের দিকে যাত্রা করেছে। মিসেস খন্দকার কিছুক্ষণ পর পর ফোন করছেন। কাজল বারবার একই উত্তর দিয়ে চলেছে। কী হলো রোজিনের? রুনুকে ফোন দেয় কাজল। রোজিনের কথা জানতে পারে। রুনুর ফোন বাজছে, কেউ ধরছে না। কাজল ঘড়ি দেখে, রাত দশটা। ভাবে, আর অপেক্ষা করা ঠিক হবে না। সে নিশ্চিত, রোজিনের কোনো সমস্যা হয়েছে। খোঁজ নেওয়া দরকার। দরকার হলে রোজিনের বাসায় যাবে। শাহবাগ মোড় থেকে ট্যাক্সি বা সিএনজি ধরবে। রাস্তায় নামে কাজল। পাবলিক লাইব্রেরির সামনে আসতেই বুঝতে পারে কারও ফোন বাজছে। সে স্পষ্ট শব্দ শুনতে পাচ্ছে। ফোন তার পকেটেই বাজছে। কাজল পকেট থেকে ফোন বের করে। রুনু ফোন করেছে। জানায়, একটু আগে বাসায় ফিরেছে। এয়ারপোর্ট থেকে ফিরছিল, গাড়িতে ফোনের শব্দ শুনতে পায়নি বলে ধরা হয়নি। ফোনে এই টুকুই শুনে কাজল। তারপরও বলে চলে রুনু, অনেক কথা। কথাগুলো কানে গেলেও ঠিক অর্থ বুঝতে পারে না কাজল। দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তার মাঝে। রুনু ফোনের অপর প্রান্তে হ্যালো হ্যালো করছে। আকাশের দিকে তাকায় কাজল। কোনো তারা নেই। সে হাঁটছে। জুনের শেষ, আকাশটাও রহস্য করে। হঠাৎ করেই ঝরঝর করে বৃষ্টি নামে। ভিজছে। কাজল আবার চারুকলার দিকে ফিরে চলছে। বৃষ্টিতে ভিজে সয়লাব। 

পাঞ্জাবিটা শরীরের সাথে লেপ্টে গেছে। পেছনে একটা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। হেড লাইটের আলো পড়ছে কাজলের ওপর। সামনে তার লম্বা ছায়া পড়েছে। কাজল হাঁটছে, সাথে সাথে ছায়াটি আরও দীর্ঘ হচ্ছে; রাজপথ ধরে হাঁটছে কাজলের সঙ্গে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

সাহিত্য বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত