বিরূপ আবহাওয়াতেও সরব গাজীপুর

আবুল হাসান, গাজীপুর
 | প্রকাশিত : ১৯ জুন ২০১৮, ২১:০১
গাজীপুরের গাছা এলাকায় গণসংযোগ করেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার।

গাজীপুরে ভোটের লড়াইয়ে হঠাৎ ছন্দপতন ঘটলেও দুই দিন ধরে আবার সরব গোটা এলাকা। সাত মেয়র প্রার্থী আর ৫৭ ওয়ার্ডের সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী ও তার সমর্থকদের ভোট প্রার্থনায় সকাল থেকে রাত অবধি সরগরম এলাকা।

গত ১৫ মে খুলনার সঙ্গে ভোট হওয়ার কথা ছিল গাজীপুরেও। কিন্তু ৬ মে স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট। চারদিন পরে তা তুলে নেয় আপিল বিভাগ। কিন্তু এই চার দিনের বাধা পড়ায় ভোট পিছিয়ে যায়। নির্বাচন কমিশন রোজায় ভোট নেয়ার পক্ষে ছিল না বলে নতুন তারিখ নির্ধারণ হয় ২৬ জুন।

আর ঈদের তিন দিনের ছুটি শেষে ১৮ জুন থেকে শুরু হয় প্রচার। চলবে ২৪ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত। হাতে সময় বেশি ইে, এর মধ্যেই পৌঁছতে হবে ভোটারদের কাছে।

তবে এবার সদয় নয় প্রকৃতি। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রার্থীদের জন্য। তবে উপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। এর মধ্যেই গণসংযোগ, পথসভার চলছে।

এর মধ্যে মেয়র পদে দুই প্রধান প্রার্থী আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম আর বিএনপির হাসানউদ্দিন সরকার আগের মতোই ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে মেলে ধরেছেন অভিযোগের ডালি।

হাসান ভোট সুষ্ঠু হওয়ার ব্যাপারে আশঙ্কা করে সেনা মোতায়েনের দাবি তুলেছেন। তার অভিযোগ, জাহাঙ্গীর ভোটে কারচুপির চেষ্টা করছেন। জাহাঙ্গীর অবশ্য হাসানের অভিযোগ নাকচ করে বলেছেন, বিএনপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বেকায়দায় ফেলতে মিথ্যাচার করছে।

নির্বাচনী রিটার্নিং কর্মকর্তা বলছেন, নির্বাচন অবাধ করার লক্ষ্যে তাদের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনসহ পর্যাপ্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনী মাঠে কাজ করবে। এছাড়া ভোট গ্রহণের জন্য ৯ হাজার সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

‘নৌকায় ভোট দিলে বিফলে যাবে না’

মঙ্গলবার সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর থেকে ১২ নম্বর ওয়ার্ডে স্কয়ার গেট, লতিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ, তুরাগ ঈদগাহ মাঠ, হাতিমারা ঈদগাহ মাঠ, কালের ভিটা, মেঘলাল, নছার মার্কেট, মিতালী ক্লাব, নাদের স্কুলের পাশে, আমবাগ পূর্বপাড়া, মন্ত্রী মার্কেট, আনোয়ার মোল্লার বাড়ির পাশে, জেল খানা রোড, কেয়া স্পিনিং, নোয়াব আলী মার্কেটসহ ১৫টি পথসভায় বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীর।

 

সকাল ১০টায় ছয় নম্বর ওয়ার্ড কাশিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে পথসভার মাধ্যমে গণসংযোগ শুরু করেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। তিনি বলেন, কাশিমপুর এলাকা এখনও কম বসতিপূর্ণ। খুব সহজেই এখানে পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা যাবে। আওয়ামী লীগ নেতা এবং প্রবীণদেরকে নিয়ে মহাপরিকল্পনা করেই কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি।

 

দুপুরে ১১ নম্বর ওয়ার্ড কালেরভিটার পথসভায় যোগ দেন আজমত উল্যাহ খান। তিনি ৭, ৮, ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পথসভায়ও বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, ‘জাহাঙ্গীর আলম একজন ভাল মানুষ। আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিন। আপনাদের ভোট বিফলে যাবে না।’

 

সাধ্যের বাইরে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন জাহাঙ্গীর: হাসান

অন্যদিকে নগরীর গাছা অঞ্চলের ৩২, ৩৩, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইশড্ডা, জাঝর, অ্যারাবিয়ান গার্মেন্ট, বটতলাসহ বিভিন্ন এলাকা এবং বিকালে টঙ্গীর টিঅ্যান্ডটি, শিলমুন, মরকুনসহ সংলগাœ এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করেন ধানের শীষের প্রার্থী হাসান।

বিএনপি নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী অতিরিক্ত মাত্রায় ওয়াদা দিচ্ছেন। তিনি ডাবল রেল লাইন ও চলমান বিআরটি-সহ জাতীয় প্রকল্পগুলোকে স্থানীয় সরকারের প্রকল্প হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করছেন। স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা, পরিধি ও স্থানীয় সরকার আইন সম্পর্কে ন্যূততম ধারণা থাকলে তিনি এসব ওয়াদা দিতেন না। তিনি এমন কিছু ওয়াদা দিচ্ছেন যা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাকেও হার মানাচ্ছে।’

 

বিকেলে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের হারিনাল এলাকায় গণসংযোগ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। সঙ্গে ছিলেন ফজলুল হক মিলন, শ্যামা ওবায়েদ।

এছাড়া কাউলতিয়া অঞ্চলে গণসংযোগ করেন বিএনপির  শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক সেলিম ভূইয়া, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে রফিক শিকদার, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে শামা ওবায়েদ, ১ নম্বর ওয়ার্ডে গৌতম চক্রবর্তী, ২ নম্বর ওয়ার্ডে আবুল কালাম আজাদ।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘খুলনা ও গাজীপুর এক নয়। গাজীপুরের বীর জনতা বারবার ইতিহাস রচনা করেছেন। আসন্ন মেয়র নির্বাচনেও গাজীপুরবাসী ধানের শীষকে বিজয়ী করে ইতিহাস রচনা করবেন। খুলনার মতো কারচুপি গাজীপুরে করলে ক্ষমতাসীনদের শেকরে নাড়া লাগবে।’

৪২৫ কেন্দ্রের ৩৩৭টি ঝুঁকিপূণ

নির্বাচনকে সামনে রেখে দফায় দফায় কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিব উদ্দিন ম-ল। তিনি জানান, বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও চারজন কমিশনার গাজীপুরে আলাদা দুইটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। সকাল ১১টায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে এবং বিকেল তিনটায় প্রার্থীদের সঙ্গে এই মত বিনিময় হবে।

রকিব জানান, নির্বাচনে ৪২৫ ভোট কেন্দ্রের মধ্যে বিভিন্ন বিবেচনায় ৩৩৭টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে।

এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় ২০ প্লাটুন বিজিবি, ৫৮টি র‌্যাবের টিমসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কাজ করবে।

এবার ছয়টি কেন্দ্রে ইভিএম ও দুইটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই কেন্দ্র দুটির ভোটের পরিবেশ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবে নির্বাচন কমিশন।

ঢাকাটাইমস/১৯জুন/প্রতিনিধি/ডব্লিউবি

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত