নির্বাচনকালীন সরকার অক্টোবরে: কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাটাইমস
| আপডেট : ২০ জুন ২০১৮, ১৭:৪৯ | প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৮, ১৩:২৯

আগামী সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনের জন্য নির্বাচনকালীন সরকার অক্টোবরেই গঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। জানান, যেহেতু কোনো নীতি সিদ্ধান্ত নেবে না, তাই এই সরকারের আকার হবে বর্তমান সময়ের চেয়ে ছোট।

বুধবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রকৌশলীদের সাথে ঈদ পরবর্তী মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে এ কথা জানান সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী।

আগামী অক্টোবর থেকে জানুয়ারির মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আর ডিসেম্বরেই নির্বাচন করতে আগ্রহী সরকার। যদিও প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা জানিয়েছেন, ভোট হতে পারে জানুয়ারিতেও।

গত বারের মতো এবারও বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে-সেটি জানিয়েছে সরকার। আর বিএনপি গতবারের মতোই নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আন্দোলনের হুমকি দিলেও এখন পর্যন্ত তাদের কোনো প্রস্তুতি চোখে পড়ছে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সময়ে মন্ত্রিসভার সাইজ (আকার) ছোট হবে। …নির্বাচনকালীন সময়ে মন্ত্রিসভা নীতিগত কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না। তাই এর সাইজ বড় হওয়ার দরকার পরে না।’

‘যেমন ধরুন আমাদের সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় এখানেও আমরা সে সময় নীতিগত কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারব না। বড় কোন প্রকল্প হাতে নিতে পারা যাবে না। চলমান প্রকল্পগুলো চলতে থাকবে। তখন মন্ত্রী দিয়ে কোন কাজ উদ্ধোধন করতে পারবে না। নির্বাচনী সিডিউল ঘোষণার পরে মন্ত্রীরা কোন প্রকল্পে ভিত্তি স্থাপন করতে পারবেন না। উন্নয়ণমুলক কাজগুলো চলমান থাকবে। সেক্ষেত্রে মন্ত্রী পর্যবেক্ষণ করবে, তদারক করবেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনী সিডিউল ঘোষণা পরে নির্বাচন কমিশনের আন্ডারে কার্যক্রম চলবে। তারা নির্বাচন পরিচালনার সব কাজ করবে। সংবিধান অনুযায়ী তাদের যে ক্ষমতা দেওয়া আছে তা তার ইম্পিলিমেন্ট (বাস্তবায়ন) করবে।’ 

কোনো আন্দোলন হবে না’

বিএনপি আবার আন্দোলনে নামার হুমকি দিলেও তারা কিছুই করতে পারবে না বলে মনে করেন কাদের। বলেন, ‘দেশে কোন আন্দোলন হবে না, এটা পরিস্কার। বিএনপির আন্দোলনে দেশের মানুষ সারা দেবে এমন কোন বস্তুগত পরিস্থিতি বিরাজমান নেই।’

‘বিএনপিরও কোন প্রস্তুতিমূলক কিছু নেই। তাদের সাবেজেক্টিভ কোন প্রিপারেশন (প্রস্তুতি) নেই। তারা সুসংহতও নয়। ফলে আন্দোলনের কোন বস্তুগত পরিস্থিতি নেই।’

বিএনপি যদি আবারও ভোট বর্জন করে?- এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আচ্ছা, বিএনপি এলেই তো একতরফা নির্বাচন হয় না। আগের চেয়ে এবার নির্বাচনে বিভিন্ন দলের পার্টিসিপেশন (অংশগ্রহণ) বেশি হবে। আর বিএনপিও তো বলেছে, তারা আন্দোলনও করবে আবার নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে।’

খালেদার চিকিৎসা বিষয়ে আর কিছু বলবেন না কাদের

নানা বিষয়ে কথা বললেও কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে একটি কথাও বলতে চাননি কাদের। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘ একটি শব্দও  বলবো না, এটা সাফ কথা। এটা নিয়ে আমি অনেক কথা বলেছি। আর বলব না।’

ব্যারিকেড নয়, মওদুদকে নিরাপত্তা দিয়েছে পুলিশ’

কাদেরের নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থেকে ভোটে দাঁড়ান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদও। বিএনপি নেতা অভিযোগ করেছেন, তিনি এলাকায় যাওয়ার পর পুলিশ তাকে বের হতে দিচ্ছে না। তবে তার অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন কাদের।

ভোটে মওদুদের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী কাদের বলেন, ‘তিনি (মওদুদ) জনসংযোগ করেছেন, সব কিছুই করেছেন। পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিতে গেছেন এটা দোষ?’

‘তার দলের মধ্যে তিনটা দল এবং তার বাড়ির সামনে মারামারি হয়। পুলিশ কী করবে? তিনি একজন বড় নেতা, তার নিরাপত্তাও তো দরকার আছে নাকি? সেজন্য পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। তিনি তো বলতে পারেন নাই আওয়ামী লীগের লোকেরা তাকে বাধা দিয়েছে।’

বিএনপি নেতাকে বের হতে দেওয়া না হলে কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে তিনি কীভাবে সাক্ষাৎ করেছেন, সেই প্রশ্নও রাখেন কাদের।

মওদুদের সমালোচনা করে কাদের আরও বলেন, ‘উনি ২২ বছরে এলাকায় একটি কাজও করেনি। ওনার বাড়ির পাশের রাস্তাটিও পাকা করেনি। ওনার বাড়ির পাশের স্কুলটাও শেখ হাসিনার সরকার উন্নত করেছে। ওই এলাকার ৯০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুত ছিল না। আর যে ১০ শতাংশ এলাকায় বিদ্যুত ছিল সেখানেও ছিল ২০ ঘণ্টা লোডশেডিং। ওনার গণতন্ত্র হচ্ছে, ঠিক সকাল ১০ টার মধ্যে ভোট শেষ হতে হবে।’

ঢাকাটাইমস/২০জুন/এমএম/ডব্লিউবি

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

রাজনীতি বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত