রাজশাহীতে ঘুরে ফিরে লিটন-বুলবুল

রিমন রহমান, রাজশাহী
| আপডেট : ২০ জুন ২০১৮, ২২:৫২ | প্রকাশিত : ২০ জুন ২০১৮, ২১:১৩

সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীর কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। ঘুরে ফিরে বারবার প্রার্থী হচ্ছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল।

আগামী ৩০ জুলাইয়ের সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হতে এবারও তারা দলীয় মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। বুধবার সকালে ঢাকায় দলীয় সভানেত্রীর কার্যালয় থেকে খায়রুজ্জামান লিটনের পক্ষে মনোয়ন ফরম সংগ্রহ করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার। পরে লিটন গিয়ে সেই মনোনয়ন ফরম জমাও দেন।

আর রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বুলবুলের পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন দলের রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। বৃহস্পতিবার তার মনোনয়ন ফরম জমা দেয়ার কথা রয়েছে।

জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামানের ছেলে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে অনেক আগেই দলীয় মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ। রাজশাহীতে এক জনসভায় এসে দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে মেয়র নির্বাচিত করার আহ্বান জানান। তফসিল ঘোষণার পর গত সোমবার রাজশাহী ১৪ দলের সভায় লিটনকে একক প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপরই লিটনের দলীয় মনোনয়ন ফরমের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হলো।

অন্যদিকে এই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা আগে কখনও দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়া হয়নি। তবে গত নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর একাধিকবার বরখাস্ত ও কারাবরণের কারণে বিএনপি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বাইরে কারও কথা ভাবেনি বলে জানিয়েছিলেন স্থানীয় নেতারা। বুধবার তার দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের মাধ্যমে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মেয়র বুলবুলের মনোনয়ন ফরম জমা দেয়া হবে। এরপরই চূড়ান্তভাবে দলের প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। বুধবার পর্যন্ত বুলবুল ছাড়া অন্য কোনো নেতার মনোনয়ন ফরম তোলা হয়নি। ফলে বুলবুলের দলীয় প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। তবে মহানগর যুবদলের নেতা আবুল কালাম আজাদ সুইটও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র তুলতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। কোনো কারণে মেয়র বুলবুলের প্রার্থিতা বাতিল হলে প্রতীক যাই হোক না কেন, তখন সুইটকেই দলীয় প্রার্থী ধরা হবে।

রাজশাহীতে মেয়র পদে প্রথম ভোট হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। সেবার জিতেছিলেন বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু। ২০০২ সালের দ্বিতীয় নির্বাচনেও জয় পান তিনি। ২০০৮ সালে মিনু কারাগারে থাকায় ভোটে দাঁড়াননি। তাই বিএনপির প্রার্থী করা হয় তৎকালীন যুবদল নেতা বুলবুলকে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের ওই নির্বাচনে জিতেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী লিটন। তবে ২০১৩ সালের নির্বাচনে তিনি বুলবুলের কাছেই পরাজিত হন। লিটন ও বুলবুল এবার পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তা হবে টানা তৃতীয়বারের মতো। অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হ্যাটট্রিক করবেন তারা। তবে দলীয় প্রতীক নিয়ে এবারই প্রথম নির্বাচন করবেন এই দুই নেতা।

গত ১৪ জুন থেকে ছুটির জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হচ্ছে। ২৮ জুন পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেয়া যাবে। আগামী ১ ও ২ জুলাই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ জুলাই। এবার রাসিকে মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা ৩০টি। এছাড়া ১০টি সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ভোট হচ্ছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৮ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৫ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৩ জন। ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৭টি।

আগামী ৩০ জুলাই নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে।

(ঢাকাটাইমস/২০জুন/ব্যুরো প্রধান/এলএ)

সংবাদটি শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

বিশেষ প্রতিবেদন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিনোদন খেলাধুলা
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত